মান্দার ‘ভাইরাল বটগাছ’ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ! ভেঙে পড়া শুকনো ডাল সরানোকে ‘গাছ কেটে বিক্রি’ বলে প্রচার স্থানীয়দের মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৭:২২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইরাল বটগাছ’কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে পড়া একটি শুকনো ডাল অপসারণের ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গাছ কেটে বিক্রি করার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের বৈশলিং গ্রামের মাঠে অবস্থিত প্রায় ৪০০ বছর পুরোনো বটগাছটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাতার ভিডিওর মাধ্যমে গাছটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল বটতলা’ নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছটির বয়সের কারণে কয়েকটি ডালপালা স্বাভাবিকভাবেই শুকিয়ে যায়। গত রোববার সকালে একটি বড় শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে বৈশলিং গ্রামের মোড় থেকে ঘাটকৈর গ্রামে যাওয়ার সড়কে, ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ভেঙে পড়া অংশটি সরিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন। অপসারণ করা ডাল বর্তমানে ঘটনাস্থলেই সংরক্ষিত রয়েছে।
তবে এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা গাছটি কেটে বিক্রি করেছেন—এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে মঙ্গলবার বিকেলে ভাইরাল বটতলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বৈশলিং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ, পশুচিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লোকমান হাজারী, আব্দুল লতিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, শতবর্ষী বটগাছটি এলাকাবাসীর গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিদিন অসংখ্য কৃষক মাঠে কাজের ফাঁকে গাছটির ছায়ায় বিশ্রাম নেন। কৃষকদের সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে একটি শেডও নির্মাণ করা হয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, গাছটির বয়স বেশি হওয়ায় কিছু ডালপালা স্বাভাবিকভাবেই শুকিয়ে গেছে। ভেঙে পড়া শুকনো ডাল সরিয়ে কেবল সড়কে চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। অথচ একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ সময় বক্তারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, খবর পাওয়ার পর ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে গাছের কাটা অংশগুলো সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হবে।















