ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

রাজশাহীতে ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের চিনি দিয়ে তৈরি হচ্ছে খেঁজুরের গুড় ।

রাজশাহী প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৫ ২৫৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের চিনি দিয়ে তৈরি করা সুস্বাদু খেঁজুরের গুড়। আর এসব গুড় আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার করা হচ্ছে হাইড্রোজ।

রাজশাহীর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১০টি গুড় পরীক্ষা করে সবকটিতে হাইড্রোজে ও ডিটারজেন্টের উপস্থিত পেয়েছেন। গুড়ে ভয়ঙ্কর হাইড্রোজ ব্যবহারের ফলে মানবদেহে বাড়ছে ক্যানসার ও কিডনি রোগের ঝুঁকি।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ৩০০ ট্রাকে গো-খাদ্যের চিনি আমদানি করা হয় ভারত থেকে। প্রতিটি ট্রাকে ৪০ টন করে চিনি থাকে। সে হিসাবে আমদানি করা হয়েছে ১২ হাজার টন। ডিসেম্বর মাসে সেটি বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। এ মাসে ৬০০ ট্রাক চিনি আমদানি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১১ দিনে আমদানি করা হয়েছে ১৪০ গাড়ি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলার প্রায় ১১ লাখ ৮ হাজার ১৮টি খেজুর গাছ রয়েছে। একটি গাছে বছরে ২০ কেজি খেজুরের রস হয়। সেটি থেকে ৮ কেজি গুড় হয়। সে হিসাবে গুড়ের উৎপাদন হতে পারে ৮৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৬ কেজি। আর বিক্রি হবে ১৪১ কোটি ২০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অনলাইনের বাজার ধরলে মোট গুড় বিক্রি হবে ১৫০ কোটি টাকার বেশি।

বানেশ্বরে একটি গুড় তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, চুলায় জ্বাল দেওয়া হচ্ছে খেজুরের রস। কিছুটা গরম হলেই তাতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারত থেকে গো-খাদ্যের নামে আনা নিম্নমানের টিনজাত চিনি। গুড়ের ঘনত্ব বাড়াতে দেওয়া হচ্ছে ডালডা আর আটা। দেখতে আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার হচ্ছে রং ও হাইড্রোজ।

রাজশাহীর নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, গত বছর আমরা ১০টি গুড় সংগ্রহ করেছিলাম। তাতে দেখা গেছে, কোনো গুড়ই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এসব গুড়ে ফিটকিরি ও ডিটারজেন্ট পাওয়া গেছিল। এ বছর আমরা পরীক্ষা এখনো শুরু করতে পারিনি। তবে এর মধ্যে আমরা ফলোআপের জন্য নমুনা সংগ্রহ করবো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. উম্মে ছালমা বলেন, এমন অনিয়ম কৃষক পর্যায়ে নেই বললেই চলে। যারা ব্যবসা করে, তারা এসব করলে করতে পারে। কৃষক যে গুড় তৈরি করছে সেইসব গুড় অবশ্যই নির্ভেজাল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীতে ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের চিনি দিয়ে তৈরি হচ্ছে খেঁজুরের গুড় ।

আপডেট সময় : ০৩:১৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৫

রাজশাহীতে ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের চিনি দিয়ে তৈরি করা সুস্বাদু খেঁজুরের গুড়। আর এসব গুড় আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার করা হচ্ছে হাইড্রোজ।

রাজশাহীর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১০টি গুড় পরীক্ষা করে সবকটিতে হাইড্রোজে ও ডিটারজেন্টের উপস্থিত পেয়েছেন। গুড়ে ভয়ঙ্কর হাইড্রোজ ব্যবহারের ফলে মানবদেহে বাড়ছে ক্যানসার ও কিডনি রোগের ঝুঁকি।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ৩০০ ট্রাকে গো-খাদ্যের চিনি আমদানি করা হয় ভারত থেকে। প্রতিটি ট্রাকে ৪০ টন করে চিনি থাকে। সে হিসাবে আমদানি করা হয়েছে ১২ হাজার টন। ডিসেম্বর মাসে সেটি বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। এ মাসে ৬০০ ট্রাক চিনি আমদানি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১১ দিনে আমদানি করা হয়েছে ১৪০ গাড়ি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলার প্রায় ১১ লাখ ৮ হাজার ১৮টি খেজুর গাছ রয়েছে। একটি গাছে বছরে ২০ কেজি খেজুরের রস হয়। সেটি থেকে ৮ কেজি গুড় হয়। সে হিসাবে গুড়ের উৎপাদন হতে পারে ৮৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৬ কেজি। আর বিক্রি হবে ১৪১ কোটি ২০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অনলাইনের বাজার ধরলে মোট গুড় বিক্রি হবে ১৫০ কোটি টাকার বেশি।

বানেশ্বরে একটি গুড় তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, চুলায় জ্বাল দেওয়া হচ্ছে খেজুরের রস। কিছুটা গরম হলেই তাতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারত থেকে গো-খাদ্যের নামে আনা নিম্নমানের টিনজাত চিনি। গুড়ের ঘনত্ব বাড়াতে দেওয়া হচ্ছে ডালডা আর আটা। দেখতে আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার হচ্ছে রং ও হাইড্রোজ।

রাজশাহীর নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, গত বছর আমরা ১০টি গুড় সংগ্রহ করেছিলাম। তাতে দেখা গেছে, কোনো গুড়ই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এসব গুড়ে ফিটকিরি ও ডিটারজেন্ট পাওয়া গেছিল। এ বছর আমরা পরীক্ষা এখনো শুরু করতে পারিনি। তবে এর মধ্যে আমরা ফলোআপের জন্য নমুনা সংগ্রহ করবো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. উম্মে ছালমা বলেন, এমন অনিয়ম কৃষক পর্যায়ে নেই বললেই চলে। যারা ব্যবসা করে, তারা এসব করলে করতে পারে। কৃষক যে গুড় তৈরি করছে সেইসব গুড় অবশ্যই নির্ভেজাল।