স্বপ্নপূরণের সারথি: অর্ধশতাধিক শিশু ও ৪ এতিম শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিলো কৃষ্ণচূড়া ফাউন্ডেশন
- আপডেট সময় : ১০:৩৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৮৯ বার পড়া হয়েছে
সুবিধাবঞ্চিত ও পড়াশোনায় আগ্রহী অর্ধশতাধিক শিশু এবং ৪ জন এতিম শিক্ষার্থীর দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সামাজিক সংগঠন ‘কৃষ্ণচূড়া ফাউন্ডেশন’। সংগঠনের ‘মেধাবীদের পাশে আমরা-৩’ কার্যক্রমের আওতায় এই মহতী উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর আগেও সংগঠনটি ‘মেধাবীদের পাশে আমরা-১ ও ২’ প্রকল্পের মাধ্যমে শতাধিক শিশুকে শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে, যা এখনো চলমান।
‘পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো’—এই স্লোগানকে ধারণ করে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মিল্লাত সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি নানামুখী সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে করোনা মহামারিকালীন সংকটে ত্রাণ বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সেবাসহ নানা মানবিক কার্যক্রমে কৃষ্ণচূড়া ফাউন্ডেশন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—‘স্বাবলম্বী প্রজেক্ট-৩’, ‘আমাদের ঈদ-১৩’, ‘বৈশাখের হাসি-৫’, ‘আমাদের ইফতার-৭’ এবং ‘মেধাবীদের পাশে আমরা-৩’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত সাত বছরে সংগঠনটি কোনো বাইরের অনুদান গ্রহণ করেনি। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবীদের ব্যক্তিগত অনুদান ও পকেট খরচের অর্থায়নেই দীর্ঘ সময় ধরে এসব জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
প্রাথমিকভাবে শেরপুর জেলা থেকে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে খুলনা, ঢাকা ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এর শাখা বিস্তৃত হয়েছে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও খুলনা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি এস. কে. সাব্বির হাসনাত বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের সুনির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা রয়েছে। ছাত্রজীবন থেকেই আমি স্বেচ্ছাসেবী কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষ্ণচূড়া ফাউন্ডেশনের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণার। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, আমাদের সুপরিকল্পিত ও ক্ষুদ্র উদ্যোগও একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং টেকসই উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’
উল্লেখ্য, কৃষ্ণচূড়া ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আর্তমানবতার সেবায় কাজ করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এটি কাজ করে যাচ্ছে। করোনাকালীন সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত সংগঠনটির মাধ্যমে উপকৃত মানুষের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সংগঠনটি এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার বৃক্ষরোপণ করেছে।
















