অপরাধ ও ইয়াবা–সাম্রাজ্যের নেপথ্যে ‘বেকারী কামাল’
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫ ৩৭২ বার পড়া হয়েছে
একই অঙ্গে কত রূপ – বেকারী ও বালু ব্যবসার আড়ালে যে বিস্তৃত এক ইয়াবা সাম্রাজ্যের কাহিনি লুকিয়ে রয়েছে, তা না জানলে বোঝা কঠিন। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বিস্ময়কর সব তথ্য। মূল নায়ক হিসেবে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি এস এম মনির-উজ-জামানের নাম। ইয়াবা কেলেংকারীর দায়ে ২০১৮ সালে যিনি বাধ্যতামূলক অবসরে যান। তার ঘনিষ্ঠ ‘বেকারী কামাল’ খ্যাত কামাল উদ্দিন। সূত্র জানায়, ইয়াবা সরবরাহ, তদবিরসহ নানা অপকর্মে মনির-উজ-জামান চট্টগ্রামের ডিআইজি থাকাকালীন তার ছত্রছায়ায় সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিস্তারিত প্রতিবেদনে —
২০১৮ সালের ২৭ মে চট্টগ্রামের কোর্ট রোড থেকে আইনজীবী সমর কৃষ্ণ চৌধুরীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ তিনটি মামলা দেওয়া হয়। প্রায় দেড় মাস কারাগারে থাকার পর পিবিআইয়ের তদন্তে মামলাগুলোর ভিত্তিহীনতা প্রমাণ হয়।
তবে, এই ঘটনার পেছনে উঠে আসে ভয়ংকর এক নাটকীয়তা। জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন দাশের পক্ষে আইনগত সহায়তা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সঞ্জয় দাশ। অভিযোগ, পুলিশকে ‘ব্যবহার করে’ এই ঘটনাটি ঘটান তিনি। নেপথ্যে কলকাঠি নাড়েন তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয়ে পরিচিত কামাল উদ্দিন। সমর কৃষ্ণের করা মামলায় কামালের নাম থাকলেও, ডিআইজি মনির-উজ-জামানকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে নাম বাদ দেন তিনি।
আরো উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য – লন্ডনে এক বাংলাদেশি ব্যারিস্টারের ক্লায়েন্ট ছিলেন সঞ্জয় দাশ। সেই সূত্রে সঞ্জয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় কামাল উদ্দিনের। অভিযোগ রয়েছে, ২৫ লাখ টাকায় ঘটনার ‘মাস্টারপ্ল্যান’ করেন কামাল। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বুমেরাং হয়ে তার বিপদ ডেকে আনে। ঘুষ দিয়েই রক্ষা পান।
এটাই প্রথম নয়। ২০১৪ সালের ৬ জুলাই ঢাকার মতিঝিল থানার এক ইয়াবা পাচার মামলায় কামাল উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলায় উল্লেখ আছে—তিনি কক্সবাজার থেকে ঢাকা ইয়াবা পাচারে সরাসরি জড়িত। মামলা তথ্য অনুযায়ী, কামাল উদ্দিনের পরিচয়—পিতা মৃত সফর মুল্লক, গ্রাম চরণদ্বীপ, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।
















