ঢাকা ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান

ঈশ্বরদীতে জাল চুরির জেরে জেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

পাবনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার জাল চুরিকে কেন্দ্র করে রেজাউল সরদার (৪৫) নামে এক জেলেকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবক নাঈম হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হামলায় রেজাউলের একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মাথা ও ঘাড়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ অন্যদের এখনো গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুরুলিয়া গ্রামে রেজাউল সরদারের বাড়ির সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, গত ২৬ জুলাই পদ্মা নদী থেকে রেজাউল সরদার ও বিশু সরদারের মাছ ধরার জাল চুরি করেন পাশের নসিরের ঘাট এলাকার মৃত তালেব মাঝির ছেলে নাঈম হোসেন। পরদিন সকালে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা নাঈমকে ডেকে আনলে তিনি জাল চুরির কথা স্বীকার করেন। পরে দুই ঘণ্টার মধ্যে জাল ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


বিক্ষোভকারীরা জানান, ওই ঘটনার অপমানের প্রতিশোধ নিতে নাঈম ও তার সহযোগীরা রেজাউলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জাল ফেরত দেওয়ার কথা বলে পদ্মা নদীর সোনার চর (লাল গোলা) এলাকায় ডেকে নিয়ে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে রেজাউলের মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে মৃত ভেবে নদীর তীরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

 দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর রাত আটটার দিকে নদীর তীর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় রেজাউলকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এদিকে আহত রেজাউলের প্রতিবন্ধী একমাত্র সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তার স্ত্রী তহমিনা খাতুন।

ঘটনার পরদিন রেজাউলের স্ত্রী তহমিনা খাতুন বাদী হয়ে নাঈম হোসেনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঈশ্বরদীতে জাল চুরির জেরে জেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার জাল চুরিকে কেন্দ্র করে রেজাউল সরদার (৪৫) নামে এক জেলেকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবক নাঈম হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হামলায় রেজাউলের একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মাথা ও ঘাড়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ অন্যদের এখনো গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুরুলিয়া গ্রামে রেজাউল সরদারের বাড়ির সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, গত ২৬ জুলাই পদ্মা নদী থেকে রেজাউল সরদার ও বিশু সরদারের মাছ ধরার জাল চুরি করেন পাশের নসিরের ঘাট এলাকার মৃত তালেব মাঝির ছেলে নাঈম হোসেন। পরদিন সকালে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা নাঈমকে ডেকে আনলে তিনি জাল চুরির কথা স্বীকার করেন। পরে দুই ঘণ্টার মধ্যে জাল ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


বিক্ষোভকারীরা জানান, ওই ঘটনার অপমানের প্রতিশোধ নিতে নাঈম ও তার সহযোগীরা রেজাউলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জাল ফেরত দেওয়ার কথা বলে পদ্মা নদীর সোনার চর (লাল গোলা) এলাকায় ডেকে নিয়ে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে রেজাউলের মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে মৃত ভেবে নদীর তীরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

 দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর রাত আটটার দিকে নদীর তীর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় রেজাউলকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এদিকে আহত রেজাউলের প্রতিবন্ধী একমাত্র সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তার স্ত্রী তহমিনা খাতুন।

ঘটনার পরদিন রেজাউলের স্ত্রী তহমিনা খাতুন বাদী হয়ে নাঈম হোসেনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।