ঢাকা ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দান ও ভক্তির মহোৎসব: ১৩ সিন্দুকে মিলল রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা!

এ.এস.এম হামিদ হাসান কটিয়াদী(​কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ৮৯ বার পড়া হয়েছে

ভক্তি আর বিশ্বাসের অনন্য এক প্রতীক কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। এবার দীর্ঘ ৬ মাস পর মসজিদের সিন্দুকগুলো খোলার পর দেখা গেল দানের টাকার এক বিশাল পাহাড়!

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় মসজিদের ১৩টি দান সিন্দুক খোলা হলে একে একে বেরিয়ে আসে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা। টাকার পাশাপাশি সিন্দুকে মিলেছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও।

সিন্দুকগুলো খোলার পর মসজিদের মেঝেতে টাকা ঢেলে শুরু হয় উৎসবমুখর পরিবেশে বিশাল এক গণনাযজ্ঞ।

​টাকার পাহাড়ে ৫০০ মানুষের ‘গণনযজ্ঞ’
​সকাল থেকে শুরু হওয়া এই টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫০০ মানুষ।

টাকা গণনায় নিয়োজিত ছিলেন,​জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার৩০০ জন শিক্ষার্থী, পাগলা মসজিদ মাদ্রাসার ১০৬ জন শিক্ষার্থী, ​রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাগলা মসজিদের ৩৫ জন স্টাফ, জেলা প্রশাসনের১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এছাড়াও ​অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে ৭ সদস্যের একটি উপকমিটি পুরো গণনা কার্যক্রমটি তদারকি করছে।

​দান সিন্দুক খোলার ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দান সিন্দুক খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

​​টাকা গণনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও নিটোল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো কার্যক্রমটি সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নিয়োজিত আছেন,​নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১৩ জন,​পুলিশ সদস্য ৪০ জন,​র‌্যাব সদস্য ৮ জন,​আনসার সদস্য ২০ জন।
​
​জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, মসজিদের ১০টি স্থায়ী সিন্দুক এবং ৩টি অস্থায়ী ট্রাংক দানবাক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর (৩ মাস ২৭ দিন পর) সিন্দুক খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। সেই টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে মসজিদের অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে।

​বর্তমানে পাগলা মসজিদের মূল তহবিলে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে। ​ডিজিটাল যুগে মানুষের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে www.paglamosque.org ওয়েবসাইট, যার একটি বাংলা সংস্করণও রয়েছে। এখন পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে।

​​ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ এই মসজিদে নগদ টাকা ছাড়াও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল ও সোনা-দানা দান করে থাকেন। এই বিপুল পরিমাণ দানের টাকা মানবতার সেবায় ও মসজিদ কমপ্লেক্স মাদ্রাসার ১৩০ জন এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ লেখাপড়া ও ভরণপোষণের খরচ জোগানো হয়।

​এছাড়াও তহবিলের লভ্যাংশ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মসজিদের ৩৫ জন কর্মচারী ও ১০ জন আনসার সদস্যের বেতন এবং বিদ্যুৎ বিলসহ যাবতীয় উন্নয়নমূলক ব্যয় এখান থেকে মেটানো হয়।

​জেলা প্রশাসক আরও জানান, পাগলা মসজিদকে আন্তর্জাতিক মানের করতে একটি আধুনিক ও নান্দনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে মসজিদ কমপ্লেক্স ও কবরস্থানের মধ্যবর্তী ৫৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে মসজিদের নামে কেনা হয়েছে। বর্তমানে কমপ্লেক্সের নান্দনিক নকশা (ডিজাইন) প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দান ও ভক্তির মহোৎসব: ১৩ সিন্দুকে মিলল রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা!

আপডেট সময় : ০৩:১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ভক্তি আর বিশ্বাসের অনন্য এক প্রতীক কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। এবার দীর্ঘ ৬ মাস পর মসজিদের সিন্দুকগুলো খোলার পর দেখা গেল দানের টাকার এক বিশাল পাহাড়!

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় মসজিদের ১৩টি দান সিন্দুক খোলা হলে একে একে বেরিয়ে আসে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা। টাকার পাশাপাশি সিন্দুকে মিলেছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও।

সিন্দুকগুলো খোলার পর মসজিদের মেঝেতে টাকা ঢেলে শুরু হয় উৎসবমুখর পরিবেশে বিশাল এক গণনাযজ্ঞ।

​টাকার পাহাড়ে ৫০০ মানুষের ‘গণনযজ্ঞ’
​সকাল থেকে শুরু হওয়া এই টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫০০ মানুষ।

টাকা গণনায় নিয়োজিত ছিলেন,​জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার৩০০ জন শিক্ষার্থী, পাগলা মসজিদ মাদ্রাসার ১০৬ জন শিক্ষার্থী, ​রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাগলা মসজিদের ৩৫ জন স্টাফ, জেলা প্রশাসনের১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এছাড়াও ​অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে ৭ সদস্যের একটি উপকমিটি পুরো গণনা কার্যক্রমটি তদারকি করছে।

​দান সিন্দুক খোলার ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দান সিন্দুক খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

​​টাকা গণনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও নিটোল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো কার্যক্রমটি সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নিয়োজিত আছেন,​নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১৩ জন,​পুলিশ সদস্য ৪০ জন,​র‌্যাব সদস্য ৮ জন,​আনসার সদস্য ২০ জন।
​
​জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, মসজিদের ১০টি স্থায়ী সিন্দুক এবং ৩টি অস্থায়ী ট্রাংক দানবাক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর (৩ মাস ২৭ দিন পর) সিন্দুক খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। সেই টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে মসজিদের অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে।

​বর্তমানে পাগলা মসজিদের মূল তহবিলে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে। ​ডিজিটাল যুগে মানুষের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে www.paglamosque.org ওয়েবসাইট, যার একটি বাংলা সংস্করণও রয়েছে। এখন পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে।

​​ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ এই মসজিদে নগদ টাকা ছাড়াও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল ও সোনা-দানা দান করে থাকেন। এই বিপুল পরিমাণ দানের টাকা মানবতার সেবায় ও মসজিদ কমপ্লেক্স মাদ্রাসার ১৩০ জন এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ লেখাপড়া ও ভরণপোষণের খরচ জোগানো হয়।

​এছাড়াও তহবিলের লভ্যাংশ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মসজিদের ৩৫ জন কর্মচারী ও ১০ জন আনসার সদস্যের বেতন এবং বিদ্যুৎ বিলসহ যাবতীয় উন্নয়নমূলক ব্যয় এখান থেকে মেটানো হয়।

​জেলা প্রশাসক আরও জানান, পাগলা মসজিদকে আন্তর্জাতিক মানের করতে একটি আধুনিক ও নান্দনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে মসজিদ কমপ্লেক্স ও কবরস্থানের মধ্যবর্তী ৫৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে মসজিদের নামে কেনা হয়েছে। বর্তমানে কমপ্লেক্সের নান্দনিক নকশা (ডিজাইন) প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে।