ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান

কয়রায় জলবায়ু সংকটে কিশোরীদের সুরক্ষায় আমাল ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী কর্মসূচি

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ কয়রা উপজেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন অব্যাহত রাখতে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Girls First Fund’ এর সহযোগিতায় এবং ‘আমাল ফাউন্ডেশন’ এর বাস্তবায়নে পরিচালিত (Preventing and Responding to Child Marriage and Early Unions) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ২০টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসার বাছাইকৃত ২০ জন ছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করা হয়েছে।এই স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক ছাত্রী প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে টানা ছয় মাস আর্থিক সহায়তা পাবে।

মঙ্গলবার (২৮জুলাই) সকালে উপজেলার আছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

সংস্থাটির উদ্যোগে কিশোরী, অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে বাল্যবিবাহের কুফল, মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব, নারী অধিকার, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারীদের ওপর বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক বৈরী পরিবেশের কারণে বহু কিশোরীর পড়াশোনা অকালেই বন্ধ হয়ে যায় এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি তৈরি হয়। এই অ্যাকাডেমিক এক্সেলেন্স স্কলারশিপ প্রোগ্রামের প্রধান লক্ষ্য হলো ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা ও আত্মউন্নয়নে উৎসাহিত করা, নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা গড়ে তোলা এবং নিজ নিজ বিদ্যালয় ও সামাজিকভাবে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। স্কলারশিপের জন্য ক্লাব কার্যক্রমের সাথে যুক্ত অত্যন্ত মেধাবী, যোগ্য এবং সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন ছাত্রীদের মূল্যায়ন করে বাছাই করা হয়েছে।

এই সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, পোশাক, শিক্ষাসামগ্রী ও যাতায়াত খরচ নিশ্চিত হবে, যা তাদের ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহ রোধে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। টানা ছয় মাসের এই অর্থ সহায়তা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও মানসিকভাবে আশ্বস্ত করবে। উপকূলীয় অঞ্চলে বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠন ও নারী শিক্ষা প্রসারে আমাল ফাউন্ডেশন ও গালর্স ফার্স্ট ফান্ডের এই যৌথ প্রয়াস ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষিত মেয়ে শুধু নিজের নয়, একটি পরিবারের এবং সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কয়রায় জলবায়ু সংকটে কিশোরীদের সুরক্ষায় আমাল ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী কর্মসূচি

আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ কয়রা উপজেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন অব্যাহত রাখতে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Girls First Fund’ এর সহযোগিতায় এবং ‘আমাল ফাউন্ডেশন’ এর বাস্তবায়নে পরিচালিত (Preventing and Responding to Child Marriage and Early Unions) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ২০টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসার বাছাইকৃত ২০ জন ছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করা হয়েছে।এই স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক ছাত্রী প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে টানা ছয় মাস আর্থিক সহায়তা পাবে।

মঙ্গলবার (২৮জুলাই) সকালে উপজেলার আছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

সংস্থাটির উদ্যোগে কিশোরী, অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে বাল্যবিবাহের কুফল, মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব, নারী অধিকার, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারীদের ওপর বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক বৈরী পরিবেশের কারণে বহু কিশোরীর পড়াশোনা অকালেই বন্ধ হয়ে যায় এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি তৈরি হয়। এই অ্যাকাডেমিক এক্সেলেন্স স্কলারশিপ প্রোগ্রামের প্রধান লক্ষ্য হলো ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা ও আত্মউন্নয়নে উৎসাহিত করা, নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা গড়ে তোলা এবং নিজ নিজ বিদ্যালয় ও সামাজিকভাবে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। স্কলারশিপের জন্য ক্লাব কার্যক্রমের সাথে যুক্ত অত্যন্ত মেধাবী, যোগ্য এবং সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন ছাত্রীদের মূল্যায়ন করে বাছাই করা হয়েছে।

এই সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, পোশাক, শিক্ষাসামগ্রী ও যাতায়াত খরচ নিশ্চিত হবে, যা তাদের ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহ রোধে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। টানা ছয় মাসের এই অর্থ সহায়তা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও মানসিকভাবে আশ্বস্ত করবে। উপকূলীয় অঞ্চলে বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠন ও নারী শিক্ষা প্রসারে আমাল ফাউন্ডেশন ও গালর্স ফার্স্ট ফান্ডের এই যৌথ প্রয়াস ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষিত মেয়ে শুধু নিজের নয়, একটি পরিবারের এবং সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।