ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ

মো. আব্দুল আজিজ মিয়া | স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৯:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ৯৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও উৎপাদনমুখী ও লাভজনক করতে উন্নত জাতের হাঁস পালন সম্প্রসারণে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাত নির্বাচন, রোগ প্রতিরোধ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা, পরামর্শ প্রদান, তথ্যপত্র বিতরণ ও সচেতনতামূলক স্টিকার প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমে স্থানীয় খামারিদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে হাঁস পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত। বিশেষ করে নদী, বিল, হাওর ও জলাভূমি অধ্যুষিত এলাকায় হাঁস পালন তুলনামূলকভাবে লাভজনক হওয়ায় এ খাতের উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হাঁস পালনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. রুবাইয়েত রেজার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব কর্মসূচির আওতায় খামারিদের উন্নত জাতের হাঁস নির্বাচন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন খামার পরিচালনা, টিকাদান, রোগ প্রতিরোধ, বাচ্চা লালন-পালন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খামারিদের বাস্তব সমস্যাগুলো শুনে তা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষিত বেকার যুবক বাণিজ্যিকভাবে হাঁস পালনের দিকে ঝুঁকছেন। সরকারি বিভিন্ন পরামর্শ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। একই সঙ্গে আগে থেকে হাঁস পালন করা খামারিরাও আধুনিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

মাঠপর্যায়ে খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উন্নত জাত নির্বাচন, নিয়মিত টিকাদান এবং বৈজ্ঞানিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় হাঁসের মৃত্যুহার কমছে এবং উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হাঁস পালনকে অনেকেই লাভজনক পেশা হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডাঃ মো. রুবাইয়েত রেজা নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খামারি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। তিনি হাঁস, মুরগি ও গবাদিপশু পালন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতে প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপকৃত হচ্ছেন বলে তারা মনে করেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, নিরাপদ ও টেকসই হাঁস পালন নিশ্চিত করতে উন্নত জাত নির্বাচন, মানসম্মত খাদ্য ব্যবহার, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সময়মতো টিকাদান এবং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে খামারিদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি খামারিদের আন্তরিকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কুড়িগ্রামে হাঁস পালন আরও সম্প্রসারিত হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ খাত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ

আপডেট সময় : ০৯:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রামে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও উৎপাদনমুখী ও লাভজনক করতে উন্নত জাতের হাঁস পালন সম্প্রসারণে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাত নির্বাচন, রোগ প্রতিরোধ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা, পরামর্শ প্রদান, তথ্যপত্র বিতরণ ও সচেতনতামূলক স্টিকার প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমে স্থানীয় খামারিদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে হাঁস পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত। বিশেষ করে নদী, বিল, হাওর ও জলাভূমি অধ্যুষিত এলাকায় হাঁস পালন তুলনামূলকভাবে লাভজনক হওয়ায় এ খাতের উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হাঁস পালনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. রুবাইয়েত রেজার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব কর্মসূচির আওতায় খামারিদের উন্নত জাতের হাঁস নির্বাচন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন খামার পরিচালনা, টিকাদান, রোগ প্রতিরোধ, বাচ্চা লালন-পালন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খামারিদের বাস্তব সমস্যাগুলো শুনে তা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষিত বেকার যুবক বাণিজ্যিকভাবে হাঁস পালনের দিকে ঝুঁকছেন। সরকারি বিভিন্ন পরামর্শ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। একই সঙ্গে আগে থেকে হাঁস পালন করা খামারিরাও আধুনিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

মাঠপর্যায়ে খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উন্নত জাত নির্বাচন, নিয়মিত টিকাদান এবং বৈজ্ঞানিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় হাঁসের মৃত্যুহার কমছে এবং উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হাঁস পালনকে অনেকেই লাভজনক পেশা হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডাঃ মো. রুবাইয়েত রেজা নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খামারি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। তিনি হাঁস, মুরগি ও গবাদিপশু পালন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতে প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপকৃত হচ্ছেন বলে তারা মনে করেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, নিরাপদ ও টেকসই হাঁস পালন নিশ্চিত করতে উন্নত জাত নির্বাচন, মানসম্মত খাদ্য ব্যবহার, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সময়মতো টিকাদান এবং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে খামারিদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি খামারিদের আন্তরিকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কুড়িগ্রামে হাঁস পালন আরও সম্প্রসারিত হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ খাত।