ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

কুড়িগ্রামে মাইকিংয়ে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ; আহত প্রায় ২৫জন

আনোয়ার হোসেন, কুড়িগ্রাম:
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫ ২২৯ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে পূর্ব জের এবং সদ্য ছেলে মেয়ের ছবি তোলা ও  সেতুতে ঘুরতে যাওয়া মা-মেয়েকে উত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে মাইকিংয়ে ঘোষনা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ। আহত প্রায় ২৫জন।

ঘটনাটি ঘটেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ সীমান্তে শহরের দুই থানার মোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুই গ্রামের কয়েক দফা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০-২৫জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে প্রথমে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। চিলমারী থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের বাঁধা উপেক্ষা করে দুই পক্ষের প্রায় ২ শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেয়। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টিম দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার চিলমারী রমনা ইউনিয়নের দক্ষিণ খরখরিয়া গ্রামের পশির উদ্দিনের মেয়ে ও স্ত্রী দ্বিতীয় তিস্তা সেতুতে ঘুরতে গেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের শহরের মোড় এলাকার কয়েকজন যুবক গোপনে ছবি তোলেন এবং উত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে মা মেয়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ করার সময় ওই যুবকরা তাদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত রমনা ইউনিয়নের ডাঙ্গার চর এলাকার সাজু ও মোতালেব মিয়া বিষয়টির প্রতিবাদ করে। এতে শহরের মোড় এলাকার বিজয়, পাভেল, সুমনসহ কয়েকজন মিলে চিলমারী উপজেলার এই দুই যুবকের উপর চড়াও হয় এবং তাঁদের মারধর করেন। পরবর্তীতে তারা মারধরের বিষয়টি এলাকায় জানালে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে রমনা ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়খড়িয়া এলাকার আলমগীর হোসেন (৩৫) তার ভুট্টা ক্ষেত দেখতে গেলে শহরের মোড় এলাকার মিস্টারসহ কয়েকজন ব্যক্তি মিলে তাকে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তারপর তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়েছে। এরপর দুই গ্রামের মানুষ মাইকিং করে তাঁদের লোকজনকে ডেকে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় গ্রামের প্রায় ২০-২৫জন আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কুড়িগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এছাড়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক, চিলমারী থানা পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিনিধি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রমনা মডেল ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা বলেন, গত শুক্রবার দুই থানার মোড় চিলমারী এড়িয়ার একটি পরিবারকে উত্যক্ত করেন সুন্দরগঞ্জ এড়িয়ার শহরের মোড় এলাকার যুবকরা এই ঘটনা ছাড়াও পূর্ব জের ধরে দুই এলাকার মারামারি হবে ঘোষনা দেয়া হয় তা জেনেই চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জসহ এসে সমাধানের চেষ্টা করতে ব্যর্থ হই। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দুই পক্ষ সংঘর্ষের জন্য অবস্থান নেয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় তা জেনে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি এর পরেই সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক জানান, সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ আইনী সহযোগিতা চাইলে এবং কেউ পরিবেশ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাইলে আইনী প্রক্রিয়া মাধ্যমে বিষয়গুলো দেখা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুড়িগ্রামে মাইকিংয়ে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ; আহত প্রায় ২৫জন

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫

কুড়িগ্রামে পূর্ব জের এবং সদ্য ছেলে মেয়ের ছবি তোলা ও  সেতুতে ঘুরতে যাওয়া মা-মেয়েকে উত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে মাইকিংয়ে ঘোষনা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ। আহত প্রায় ২৫জন।

ঘটনাটি ঘটেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ সীমান্তে শহরের দুই থানার মোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুই গ্রামের কয়েক দফা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০-২৫জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে প্রথমে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। চিলমারী থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের বাঁধা উপেক্ষা করে দুই পক্ষের প্রায় ২ শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেয়। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টিম দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার চিলমারী রমনা ইউনিয়নের দক্ষিণ খরখরিয়া গ্রামের পশির উদ্দিনের মেয়ে ও স্ত্রী দ্বিতীয় তিস্তা সেতুতে ঘুরতে গেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের শহরের মোড় এলাকার কয়েকজন যুবক গোপনে ছবি তোলেন এবং উত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে মা মেয়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ করার সময় ওই যুবকরা তাদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত রমনা ইউনিয়নের ডাঙ্গার চর এলাকার সাজু ও মোতালেব মিয়া বিষয়টির প্রতিবাদ করে। এতে শহরের মোড় এলাকার বিজয়, পাভেল, সুমনসহ কয়েকজন মিলে চিলমারী উপজেলার এই দুই যুবকের উপর চড়াও হয় এবং তাঁদের মারধর করেন। পরবর্তীতে তারা মারধরের বিষয়টি এলাকায় জানালে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে রমনা ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়খড়িয়া এলাকার আলমগীর হোসেন (৩৫) তার ভুট্টা ক্ষেত দেখতে গেলে শহরের মোড় এলাকার মিস্টারসহ কয়েকজন ব্যক্তি মিলে তাকে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তারপর তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়েছে। এরপর দুই গ্রামের মানুষ মাইকিং করে তাঁদের লোকজনকে ডেকে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় গ্রামের প্রায় ২০-২৫জন আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কুড়িগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এছাড়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক, চিলমারী থানা পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিনিধি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রমনা মডেল ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা বলেন, গত শুক্রবার দুই থানার মোড় চিলমারী এড়িয়ার একটি পরিবারকে উত্যক্ত করেন সুন্দরগঞ্জ এড়িয়ার শহরের মোড় এলাকার যুবকরা এই ঘটনা ছাড়াও পূর্ব জের ধরে দুই এলাকার মারামারি হবে ঘোষনা দেয়া হয় তা জেনেই চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জসহ এসে সমাধানের চেষ্টা করতে ব্যর্থ হই। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দুই পক্ষ সংঘর্ষের জন্য অবস্থান নেয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় তা জেনে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি এর পরেই সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক জানান, সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ আইনী সহযোগিতা চাইলে এবং কেউ পরিবেশ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাইলে আইনী প্রক্রিয়া মাধ্যমে বিষয়গুলো দেখা হবে।