ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, ঘাতক কিশোরী সহ আটক ২

মো লুৎফুর রহমান রাকিব আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়াম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরী প্রেমিকাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। এছাড়াও ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের বন্ধু আরিয়ানকে জিজ্ঞাবাসের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মুন্সী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়াম ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘোষগ্রামের বাসিন্দা মৃত আবদুল জলিল মৃধার মেয়ে নাঈমা জাহান (১৫) সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করছিলো। ভোরে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নাঈমা ক্ষিপ্ত হয়ে একটি ধারালো ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে উপর্যুপরি আঘাত করেন। পরে পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় সিয়ামকে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় তিনবছর ধরে সিয়াম ও নাঈমার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি, ব্যক্তিগত গভীর সম্পর্ক, গর্ভধারণ এবং পরবর্তীতে সংঘটিত আরও কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এসব তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং চূড়ান্ত তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র ও প্রেমিকা নাঈমা জাহানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মরহুম আবদুল জলিল মৃধার মেয়ে নাঈমা জাহানের সাথে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার লক্ষ্মীপুর গ্রামের হাজী এনামুলে হকের ছেলে সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়ামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই মধ্যে দুইজনে ঢাকায় বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে একাধিকবার রাত্রীযাপন (রুমডেট) করেছিল। সম্প্রতি নাঈমা জাহানের তিন মাসের গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করে সিয়াম। বিয়ের জন্য চাপ দিলে সিয়াম টালবাহানা করতে থাকে। এরই মধ্যে নাঈমা জাহানকে বিশ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য চাপ দেয় সিয়াম। টাকা জোগাড় করতে না পেরে সিয়ামের কথা রক্ষায় নাঈমা রবিবার রাতে লক্ষ্মীপুর গ্রামে সিয়ামের পুরাতন বাড়িতে আস।।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, ঘাতক কিশোরী সহ আটক ২

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়াম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরী প্রেমিকাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। এছাড়াও ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের বন্ধু আরিয়ানকে জিজ্ঞাবাসের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মুন্সী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়াম ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘোষগ্রামের বাসিন্দা মৃত আবদুল জলিল মৃধার মেয়ে নাঈমা জাহান (১৫) সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করছিলো। ভোরে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নাঈমা ক্ষিপ্ত হয়ে একটি ধারালো ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে উপর্যুপরি আঘাত করেন। পরে পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় সিয়ামকে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় তিনবছর ধরে সিয়াম ও নাঈমার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি, ব্যক্তিগত গভীর সম্পর্ক, গর্ভধারণ এবং পরবর্তীতে সংঘটিত আরও কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এসব তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং চূড়ান্ত তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র ও প্রেমিকা নাঈমা জাহানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মরহুম আবদুল জলিল মৃধার মেয়ে নাঈমা জাহানের সাথে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার লক্ষ্মীপুর গ্রামের হাজী এনামুলে হকের ছেলে সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়ামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই মধ্যে দুইজনে ঢাকায় বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে একাধিকবার রাত্রীযাপন (রুমডেট) করেছিল। সম্প্রতি নাঈমা জাহানের তিন মাসের গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করে সিয়াম। বিয়ের জন্য চাপ দিলে সিয়াম টালবাহানা করতে থাকে। এরই মধ্যে নাঈমা জাহানকে বিশ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য চাপ দেয় সিয়াম। টাকা জোগাড় করতে না পেরে সিয়ামের কথা রক্ষায় নাঈমা রবিবার রাতে লক্ষ্মীপুর গ্রামে সিয়ামের পুরাতন বাড়িতে আস।।