নন্দীগ্রামে পুলিশ-জাকারিয়ার ‘মামলা বাণিজ্য’: এসআই সামাদ ও বহিষ্কৃত নেতার সিন্ডিকেটে জিম্মি ভুক্তভোগীরা!
- আপডেট সময় : ০১:৩৪:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ১০০ বার পড়া হয়েছে
নন্দীগ্রামে থানা পুলিশ ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা জাকারিয়ার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক অশুভ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে নন্দীগ্রাম থানার এসআই সামাদ ও জাকারিয়ার নাম উঠে এসেছে। তাদের এই সিন্ডিকেটের কারণে এলাকায় আইনি প্রতিকার পাওয়ার বদলে উল্টো চরম হয়রানি ও হুমকির শিকার হতে হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে।
ঘটনার সূত্রপাত নন্দীগ্রামের মারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মোঃ মোয়াজ্জিম হোসেনের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। মোয়াজ্জিম হোসেনের একটি ছাগল মারপিট করা এবং পরবর্তীতে তার স্ত্রী মোছাঃ মিনারা খাতুনকে বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে মারধর, চুল টেনে ছেঁচড়ে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি মারা, ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং নাকফুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বিবাদীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চিকিৎসা ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে পরামর্শের কারণে অভিযোগ দায়ের করতে দেরি হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মোঃ জাকারিয়া নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামের মৃত আয়েব আলীর ছেলে। গত ৫ আগস্টের পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায়ে তাকে বিএনপি থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও তিনি এসআই সামাদের সাথে অলিখিত ‘পার্টনারশিপ’ বা অংশীদারিত্বের ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।
ভুক্তভোগী মোয়াজ্জিম হোসেন জানান, গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি থানায় গেলে এসআই সামাদের উপস্থিতিতে ও তার প্রত্যক্ষ সহায়তায় জাকারিয়া তাকে মামলার এন্ট্রি করানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই টাকা এসআই সামাদ ও জাকারিয়া মিলে ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছেন। টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে উল্টো এসআই সামাদ বাদিপক্ষকে নতুন করে মিথ্যা মামলার ভয় দেখাচ্ছেন।
জনশ্রুতি রয়েছে, জাকারিয়া কেবল এই একটি ঘটনাতেই নয়, বরং এর আগেও একাধিকবার এলাকায় সাধারণ মানুষকে নানা কৌশলে হয়রানি ও মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই ধারাবাহিক অপকর্মে তার নাম বারবার উঠে আসলেও রহস্যজনক কারণে তিনি বরাবরই পার পেয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জাকারিয়া ও এসআই সামাদের যোগসাজশে সৃষ্ট এই অশুভ সিন্ডিকেট এলাকায় ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে রেখেছে। যেকোনো বিরোধ তৈরি হলেই জাকারিয়া সেখানে গিয়ে পুলিশি ভয় দেখিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেন এবং এসআই সামাদকে ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা জানান, বহিষ্কৃত হওয়ার পরও জাকারিয়ার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই থামছে না। এসআই সামাদের সরাসরি আশকারা পেয়েই সে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এই অশুভ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর চলা ধারাবাহিক হয়রানির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে নন্দীগ্রাম থানাকে এই দালালি সিন্ডিকেট মুক্ত করতে এবং এসআই সামাদ ও জাকারিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার বলেন, জাকারিয়া বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দলের শৃঙ্খলা নৈতিকতা বিরোধী কর্মকান্ডের দায়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে
















