ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

নিউজের সাক্ষাৎকার নিতে হিলিতে একটি সরকারি কর্মকর্তাকে ‘মহোদয়’ বা ‘স্যার’ বলার বাধ্যবাধকতা

​হিলি প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ৮৯ বার পড়া হয়েছে

সরকারি দপ্তরে সংবাদের জন্য সাক্ষাৎকার বা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে এমনই এক অদ্ভুত ও আমলাতান্ত্রিক নিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন হাকিমপুর উপজেলা সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন।

হিলিতে কর্মরত ৭১ টেলিভিশন ও সোনালী নিউজের হিলি প্রতিনিধি ছামিউল ইসলাম আরিফের সাথে পেশাগত আলাপচারিতার এক রেকর্ড থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
​অভিযোগ উঠেছে, সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে সাংবাদিককে দাপ্তরিক শিষ্টাচার বা ‘অফিস ডেকোরাম’ শেখানোর চেষ্টা করেন ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন।

রেকর্ডকৃত কথোপকথনে দেখা যায়, ওই কর্মকর্তা সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলছেন, নিউজের সাক্ষাৎকার বা তথ্য নিতে এলে তাকে ‘মহোদয়’ বা ‘স্যার’ বলতে হবে।

তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং তারা সমমানের গ্রেডে চাকরি করেন। ইউএনও-রা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হওয়ায় সবাই তাদের ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে। সুতরাং, পেশাদারিত্বের খাতিরে তাকেও একই রকম সম্মান ও সম্বোধন করা উচিত।

এ বিষয়ে সাংবাদিক ছামিউল ইসলাম আরিফ উক্ত কর্মকর্তাকে জানান, মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা সাধারণত পারস্পরিক আন্তরিকতার জায়গা থেকে কথা বলেন। এর আগে এই দপ্তরে বহু কর্মকর্তা এসেছেন এবং তাদের সাথে নিয়মিত তথ্য আদান প্রদান হয়েছে। কিন্তু সাক্ষাৎকার বা তথ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ কখনো নিজেকে ‘মহোদয়’ বা ‘স্যার’ ডাকার জন্য এমন কোনো শর্ত বা বাধ্যবাধকতার কথা জানাননি।

এই ঘটনার পর বক্তব্য জানতে ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ এবং সাংবাদিকদের ওপর সুনির্দিষ্ট সম্বোধন চাপিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টা নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নিউজের সাক্ষাৎকার নিতে হিলিতে একটি সরকারি কর্মকর্তাকে ‘মহোদয়’ বা ‘স্যার’ বলার বাধ্যবাধকতা

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

সরকারি দপ্তরে সংবাদের জন্য সাক্ষাৎকার বা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে এমনই এক অদ্ভুত ও আমলাতান্ত্রিক নিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন হাকিমপুর উপজেলা সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন।

হিলিতে কর্মরত ৭১ টেলিভিশন ও সোনালী নিউজের হিলি প্রতিনিধি ছামিউল ইসলাম আরিফের সাথে পেশাগত আলাপচারিতার এক রেকর্ড থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
​অভিযোগ উঠেছে, সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে সাংবাদিককে দাপ্তরিক শিষ্টাচার বা ‘অফিস ডেকোরাম’ শেখানোর চেষ্টা করেন ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন।

রেকর্ডকৃত কথোপকথনে দেখা যায়, ওই কর্মকর্তা সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলছেন, নিউজের সাক্ষাৎকার বা তথ্য নিতে এলে তাকে ‘মহোদয়’ বা ‘স্যার’ বলতে হবে।

তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং তারা সমমানের গ্রেডে চাকরি করেন। ইউএনও-রা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হওয়ায় সবাই তাদের ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে। সুতরাং, পেশাদারিত্বের খাতিরে তাকেও একই রকম সম্মান ও সম্বোধন করা উচিত।

এ বিষয়ে সাংবাদিক ছামিউল ইসলাম আরিফ উক্ত কর্মকর্তাকে জানান, মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা সাধারণত পারস্পরিক আন্তরিকতার জায়গা থেকে কথা বলেন। এর আগে এই দপ্তরে বহু কর্মকর্তা এসেছেন এবং তাদের সাথে নিয়মিত তথ্য আদান প্রদান হয়েছে। কিন্তু সাক্ষাৎকার বা তথ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ কখনো নিজেকে ‘মহোদয়’ বা ‘স্যার’ ডাকার জন্য এমন কোনো শর্ত বা বাধ্যবাধকতার কথা জানাননি।

এই ঘটনার পর বক্তব্য জানতে ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ এবং সাংবাদিকদের ওপর সুনির্দিষ্ট সম্বোধন চাপিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টা নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।