ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

​নেত্রকোনায় জমি বিরোধে বিধবা নারীর ওপর বর্বরোচিত হামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ হাসপাতালে স্থানান্তর

​নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ১০৬ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনা পৌর শহরের দক্ষিণ সাতপাই এলাকায় এক অসহায় বিধবা নারীর (তাহেরা আক্তার) ওপর বর্বর হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবক আলম ও তার স্ত্রী সোমা আক্তারের বিরুদ্ধে। গত ২২ জুন সকালে প্রকাশ্য দিবালোকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই নারী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​আহত মোছাঃ তাহেরা আক্তার (৫২) দক্ষিণ সাতপাই এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের (বীর মুক্তিযোদ্ধার) স্ত্রী। অভিযুক্তরা হলেন—একই এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোঃ আলম (৩৫), তার স্ত্রী সোমা আক্তার, আলমের মা সাজেদা (৬০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন।
​
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতবাড়ির পাশের রাস্তার জায়গা নিয়ে ভুক্তভোগী তাহেরা আক্তারের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী আলমের ও তার সৎ বাবা গনি মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত ২২ জুন সকাল আনুমানিক ৯:৩০ ঘটিকায় আলম ও তার স্ত্রী সোমা আক্তার পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাহেরা আক্তারের বোনের ছেলে, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ ইলিয়াসের মনোহারি দোকানের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

এ সময় বিধবা তাহেরা আক্তার গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে আলম ও সোমা আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় পরে এসে আলমের মা ও অজ্ঞাতনামা আরো ২-৩ জন তারা তাহেরা আক্তারকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে রাস্তার ওপর ফেলে রাখে। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তারা ভুক্তভোগীকে পরবর্তী সময়ে সুযোগ বুঝে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় বলেও জানা গেছে।

চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক
​হামলার পর স্থানীয়রা আহত তাহেরা আক্তারকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ২২ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত টানা তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল কনসালটেন্ট ডাঃ নাজমুল সাকিব উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
​
​এদিকে, ঘটনা ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং নিজের অপরাধ ঢাকতে হামলাকারী আলম উল্টো নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মিথ্যা পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে। ওই অভিযোগে ঘটনার সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টাকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ ইলিয়াসকে অহেতুক বিবাদী করা হয়েছে। অথচ স্থানীয়দের দাবি, ইলিয়াস ঘটনার সময় নিরপেক্ষ থেকে মারামারি থামাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভূমিকা রেখেছিলেন।
​
ইতিপূর্বেও সে একইভাবে তাহেরা আক্তারের বড় মেয়ে বৃষ্টিকে মারধর করেছিল, যা পরবর্তীতে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হয়। এছাড়া আলমের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের মামলা রয়েছে এবং একটি নারী কেলেঙ্কারির মামলায় সে ৫ মাস জেল খেটেছে বলে জানা গেছে।

​এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী তাহেরা আক্তারের পক্ষে তার বোনের ছেলে মোঃ ইলিয়াস নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অসহায় বিধবা তাহেরা আক্তার ও তার পরিবার সাংবাদিকদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন তথা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

​নেত্রকোনায় জমি বিরোধে বিধবা নারীর ওপর বর্বরোচিত হামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ হাসপাতালে স্থানান্তর

আপডেট সময় : ০১:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

নেত্রকোনা পৌর শহরের দক্ষিণ সাতপাই এলাকায় এক অসহায় বিধবা নারীর (তাহেরা আক্তার) ওপর বর্বর হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবক আলম ও তার স্ত্রী সোমা আক্তারের বিরুদ্ধে। গত ২২ জুন সকালে প্রকাশ্য দিবালোকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই নারী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​আহত মোছাঃ তাহেরা আক্তার (৫২) দক্ষিণ সাতপাই এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের (বীর মুক্তিযোদ্ধার) স্ত্রী। অভিযুক্তরা হলেন—একই এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোঃ আলম (৩৫), তার স্ত্রী সোমা আক্তার, আলমের মা সাজেদা (৬০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন।
​
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতবাড়ির পাশের রাস্তার জায়গা নিয়ে ভুক্তভোগী তাহেরা আক্তারের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী আলমের ও তার সৎ বাবা গনি মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত ২২ জুন সকাল আনুমানিক ৯:৩০ ঘটিকায় আলম ও তার স্ত্রী সোমা আক্তার পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাহেরা আক্তারের বোনের ছেলে, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ ইলিয়াসের মনোহারি দোকানের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

এ সময় বিধবা তাহেরা আক্তার গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে আলম ও সোমা আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় পরে এসে আলমের মা ও অজ্ঞাতনামা আরো ২-৩ জন তারা তাহেরা আক্তারকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে রাস্তার ওপর ফেলে রাখে। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তারা ভুক্তভোগীকে পরবর্তী সময়ে সুযোগ বুঝে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় বলেও জানা গেছে।

চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক
​হামলার পর স্থানীয়রা আহত তাহেরা আক্তারকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ২২ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত টানা তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল কনসালটেন্ট ডাঃ নাজমুল সাকিব উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
​
​এদিকে, ঘটনা ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং নিজের অপরাধ ঢাকতে হামলাকারী আলম উল্টো নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মিথ্যা পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে। ওই অভিযোগে ঘটনার সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টাকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ ইলিয়াসকে অহেতুক বিবাদী করা হয়েছে। অথচ স্থানীয়দের দাবি, ইলিয়াস ঘটনার সময় নিরপেক্ষ থেকে মারামারি থামাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভূমিকা রেখেছিলেন।
​
ইতিপূর্বেও সে একইভাবে তাহেরা আক্তারের বড় মেয়ে বৃষ্টিকে মারধর করেছিল, যা পরবর্তীতে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হয়। এছাড়া আলমের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের মামলা রয়েছে এবং একটি নারী কেলেঙ্কারির মামলায় সে ৫ মাস জেল খেটেছে বলে জানা গেছে।

​এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী তাহেরা আক্তারের পক্ষে তার বোনের ছেলে মোঃ ইলিয়াস নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অসহায় বিধবা তাহেরা আক্তার ও তার পরিবার সাংবাদিকদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন তথা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।