ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

পঞ্চগড়ে তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন বিদেশি ফলের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ফল উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ১১৩ বার পড়া হয়েছে

“করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ে তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ এবং ফলভোগে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মতিন। স্বাগত বক্তব্য দেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুন্নবী।

উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক মেলায় অংশগ্রহণকারী ১২টি স্টল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বিভিন্ন দেশীয় ফল, ফলের চারা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং ফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ক প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন বলেন, দেশীয় ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং আমাদের জলবায়ুর সঙ্গে উপযোগী। বিদেশি ফলের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে কৃষক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পরিবারকে ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, দেশীয় ফল সহজলভ্য, নিরাপদ এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। তাই বিদেশি ফলের পরিবর্তে দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন যেমন হবে, তেমনি স্থানীয় কৃষকরাও উপকৃত হবেন।
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুন্নবী বলেন, দেশীয় ফল মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কৃষি বিভাগ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন জাত সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ফল মেলা কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ফল চাষ এবং ফলভোগে আগ্রহ সৃষ্টি করবে।

সভাপতির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মতিন বলেন, দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের গুণাগুণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে জাতীয় ফল মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ফল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষির বহুমুখীকরণ এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি সম্ভব।

বক্তারা বলেন, দেশে উৎপাদিত আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, আমড়া, বরই, জলপাই, লটকনসহ বিভিন্ন দেশীয় ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর। তাই বিদেশি ফলের পরিবর্তে দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে একদিকে আমদানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে দেশীয় ফল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, ২৫ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত চলবে এই তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা। মেলায় বিভিন্ন স্টলে দেশীয় ফল, ফলের চারা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং ফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ক নানা তথ্য ও উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলায় কৃষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থী, কৃষক ও আগত দর্শনার্থীদের মাঝে কাগজি লেবুর চারা বিতরণ করা হয়। দেশীয় ফল চাষে আগ্রহ সৃষ্টি এবং পারিবারিক পর্যায়ে ফলজ বৃক্ষ রোপণকে উৎসাহিত করতে এ চারা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় অতিথিরা বেশি বেশি ফলজ গাছ রোপণের আহ্বান জানান এবং প্রত্যেক পরিবারকে অন্তত একটি করে ফলজ গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পঞ্চগড়ে তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন বিদেশি ফলের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ফল উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান

আপডেট সময় : ০৮:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

“করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ে তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ এবং ফলভোগে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মতিন। স্বাগত বক্তব্য দেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুন্নবী।

উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক মেলায় অংশগ্রহণকারী ১২টি স্টল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বিভিন্ন দেশীয় ফল, ফলের চারা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং ফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ক প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন বলেন, দেশীয় ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং আমাদের জলবায়ুর সঙ্গে উপযোগী। বিদেশি ফলের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে কৃষক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পরিবারকে ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, দেশীয় ফল সহজলভ্য, নিরাপদ এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। তাই বিদেশি ফলের পরিবর্তে দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন যেমন হবে, তেমনি স্থানীয় কৃষকরাও উপকৃত হবেন।
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুন্নবী বলেন, দেশীয় ফল মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কৃষি বিভাগ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন জাত সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ফল মেলা কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ফল চাষ এবং ফলভোগে আগ্রহ সৃষ্টি করবে।

সভাপতির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মতিন বলেন, দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের গুণাগুণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে জাতীয় ফল মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ফল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষির বহুমুখীকরণ এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি সম্ভব।

বক্তারা বলেন, দেশে উৎপাদিত আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, আমড়া, বরই, জলপাই, লটকনসহ বিভিন্ন দেশীয় ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর। তাই বিদেশি ফলের পরিবর্তে দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে একদিকে আমদানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে দেশীয় ফল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, ২৫ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত চলবে এই তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা। মেলায় বিভিন্ন স্টলে দেশীয় ফল, ফলের চারা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং ফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ক নানা তথ্য ও উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলায় কৃষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থী, কৃষক ও আগত দর্শনার্থীদের মাঝে কাগজি লেবুর চারা বিতরণ করা হয়। দেশীয় ফল চাষে আগ্রহ সৃষ্টি এবং পারিবারিক পর্যায়ে ফলজ বৃক্ষ রোপণকে উৎসাহিত করতে এ চারা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় অতিথিরা বেশি বেশি ফলজ গাছ রোপণের আহ্বান জানান এবং প্রত্যেক পরিবারকে অন্তত একটি করে ফলজ গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন।