ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন এমডি বাছির জামালকে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোল‘র শুভেচ্ছা পাবনাতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার আজ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তের আদেশ বাতিল প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন ৩৭৫৬৭ নারী ঈশ্বরদীতে শিশু শিক্ষার্থীদের কন্ঠে ক্বিরাত প্রতিযোগিতা হাবিবুর রহমান হাবিবের মূল্যায়নের যৌক্তিকতা দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ – অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার পাবনায় ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে বইমেলা, চলছে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা ফ্যাসিস্ট সরকারের রুয়েট ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ চৌধুরী ভারমুক্ত হওয়ার পথে ভারতকে তেল কেনায় সাময়িক ছাড় দিলো যুক্তরাষ্ট্র

পাবনাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৩হাজার গাছ কাটার অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

উত্তরবঙ্গের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের আওতাধীন পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইক্ষু খামারের জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে প্রায় তিন হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের নিলাম বিজ্ঞপ্তি কিংবা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব গাছ কর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর পানাশি সেচ প্রকল্পের আওতায় ‘ভ্যালি ইরিগেশন’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে মুলাডুলি খামারের সরদারপাড়া থেকে ১০ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত ক্যানাল খননের সময় ক্যানালের দু’পাশে থাকা বহু বছরের পুরোনো মেহগনি, শিশু, খয়ের, রেন্টি কড়ই ও খেজুরসহ প্রায় ৩হাজারের বেশি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী বনবিভাগ থেকে গাছের মূল্য নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গাছ বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়মের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে মুলাডুলি খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম আমিন বলেন, কিছু গাছ কাটা হয়েছে, সেগুলো নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে হিটের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় একাধিক কৃষক ও বাসিন্দা বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজনের তুলনায় যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে তা অযৌক্তিক ও অসঙ্গত। এতে খামারের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের ব্যাপক বৃক্ষ নিধনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া গাছ কর্তন করা হলে তা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, একান্ত প্রয়োজন হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দরপত্র ও মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে গাছ কাটা যেত। কিন্তু এখানে ইক্ষুর আড়ালে হাজারো গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের জিএম (প্রশাসন) আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তার কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে প্রথমে তিনি অনুপস্থিত বলে জানানো হয়। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে খামারী প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

জিএম খামারী বাকী বিল্লাহ এর অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) ঈশ্বরদী জোনের সুমন চন্দ্র বর্মন জানান, ভ্যালি ইরিগেশন প্রকল্প হচ্ছে এটা খামারের জায়গা। তাই গাছ কাটার এ বিষয়টি খামারীর, আপনি খামারীর সাথে কথা বলেন।

বিএডিসি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, মুলাডুলিতে গাছ কাটা হয়েছে এটা আমার জানা নাই। তবে নাটোরের বড়াইগ্রামের প্রকল্পে গাছ কাটার কথা শুনেছি। গাছ কাটার ইস্যুটি খামারীদের ইস্যু ।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবাদীরা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাবনাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৩হাজার গাছ কাটার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

উত্তরবঙ্গের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের আওতাধীন পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইক্ষু খামারের জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে প্রায় তিন হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের নিলাম বিজ্ঞপ্তি কিংবা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব গাছ কর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর পানাশি সেচ প্রকল্পের আওতায় ‘ভ্যালি ইরিগেশন’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে মুলাডুলি খামারের সরদারপাড়া থেকে ১০ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত ক্যানাল খননের সময় ক্যানালের দু’পাশে থাকা বহু বছরের পুরোনো মেহগনি, শিশু, খয়ের, রেন্টি কড়ই ও খেজুরসহ প্রায় ৩হাজারের বেশি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী বনবিভাগ থেকে গাছের মূল্য নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গাছ বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়মের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে মুলাডুলি খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম আমিন বলেন, কিছু গাছ কাটা হয়েছে, সেগুলো নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে হিটের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় একাধিক কৃষক ও বাসিন্দা বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজনের তুলনায় যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে তা অযৌক্তিক ও অসঙ্গত। এতে খামারের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের ব্যাপক বৃক্ষ নিধনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া গাছ কর্তন করা হলে তা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, একান্ত প্রয়োজন হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দরপত্র ও মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে গাছ কাটা যেত। কিন্তু এখানে ইক্ষুর আড়ালে হাজারো গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের জিএম (প্রশাসন) আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তার কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে প্রথমে তিনি অনুপস্থিত বলে জানানো হয়। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে খামারী প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

জিএম খামারী বাকী বিল্লাহ এর অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) ঈশ্বরদী জোনের সুমন চন্দ্র বর্মন জানান, ভ্যালি ইরিগেশন প্রকল্প হচ্ছে এটা খামারের জায়গা। তাই গাছ কাটার এ বিষয়টি খামারীর, আপনি খামারীর সাথে কথা বলেন।

বিএডিসি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, মুলাডুলিতে গাছ কাটা হয়েছে এটা আমার জানা নাই। তবে নাটোরের বড়াইগ্রামের প্রকল্পে গাছ কাটার কথা শুনেছি। গাছ কাটার ইস্যুটি খামারীদের ইস্যু ।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবাদীরা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।