ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

পুলিশ সুপারের নির্দেশে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানে পিতার হত্যাকারী নেশাগ্রস্ত ছেলে গ্রেফতার

মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:১২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশের যৌথ তৎপরতায় পিতাকে হত্যার অভিযোগে নেশাগ্রস্ত ছেলে সুমন (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মাহতাব আলী পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। তার ছেলে সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই বাবা মাহতাব আলী ও স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে সুমনের স্ত্রী ঢাকায় চলে যান। পরে গত ৩ জুলাই ২০২৬ তিনি বাড়িতে ফিরে এলে আবারও পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৫ জুলাই রাতে বাবা মাহতাব আলী ও ছেলে সুমন একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাবা ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য বুঝিয়ে বললেও সুমন তা মেনে নিতে পারেননি। পরদিন ৬ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নেশাগ্রস্ত সুমন তার বাবাকে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে উঠানে নিয়ে কাঠের বাটাম ও ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত মাহতাব আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সদর থানা পুলিশকে দ্রুত আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখাকেও বিশেষভাবে অভিযানে নামার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নওগাঁ ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর আসামি কখনো ঢাকায়, আবার কখনো নওগাঁয় আত্মগোপন করে অবস্থান পরিবর্তন করছিল।

পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৮ জুলাই ২০২৬ বিকেলে নওগাঁ সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকা থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। অপরাধী যেখানেই থাকুক, তাকে গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পুলিশ সুপারের নির্দেশে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানে পিতার হত্যাকারী নেশাগ্রস্ত ছেলে গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৭:১২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশের যৌথ তৎপরতায় পিতাকে হত্যার অভিযোগে নেশাগ্রস্ত ছেলে সুমন (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মাহতাব আলী পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। তার ছেলে সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই বাবা মাহতাব আলী ও স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে সুমনের স্ত্রী ঢাকায় চলে যান। পরে গত ৩ জুলাই ২০২৬ তিনি বাড়িতে ফিরে এলে আবারও পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৫ জুলাই রাতে বাবা মাহতাব আলী ও ছেলে সুমন একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাবা ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য বুঝিয়ে বললেও সুমন তা মেনে নিতে পারেননি। পরদিন ৬ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নেশাগ্রস্ত সুমন তার বাবাকে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে উঠানে নিয়ে কাঠের বাটাম ও ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত মাহতাব আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সদর থানা পুলিশকে দ্রুত আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখাকেও বিশেষভাবে অভিযানে নামার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নওগাঁ ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর আসামি কখনো ঢাকায়, আবার কখনো নওগাঁয় আত্মগোপন করে অবস্থান পরিবর্তন করছিল।

পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৮ জুলাই ২০২৬ বিকেলে নওগাঁ সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকা থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। অপরাধী যেখানেই থাকুক, তাকে গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।