ঢাকা ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

পেকুয়ায় বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন ৯ম শ্রেণী ছাত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি(কক্সবাজার,পেকুয়া) থেকে
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের পেকুয়ায় শীলখালী ইউনিয়নের আলেকদিয়া পাড়ায় হারবাংয়ের ৯ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী হোসনে আরা (১৪)কে বধু করে আনলেন।এবাল্য বিয়ে নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।কনে হোসনে আরার বয়স (১৪) বর রবেলের বয়স (৩২)।বয়স বিবেচনায় অসম বিয়ে হলেও স্কুলের মেধাবী ওই শিক্ষার্থীকে তোলে দেওয়া হচ্ছে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক রুবেলের হাতে।

শুক্রবার (২৬ জুন) শীলখালী ইউনিয়নের আলেকদিয়াপাড়ায় বাল্য বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। বর মো রুবেল (৩২) শীলখালীর ২নং ওয়ার্ডের আলেকদিয়াপাড়ার নুরুল আলমের ছেলে। কনের নাম হোসনে আরা (১৪)। বাড়ি চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের কুতুবদিয়া পাড়ায়। হোসনে আরা ওই এলাকার জালাল আহমদের মেয়ে ও হারবাং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্রী।

শুক্রবার বর-কনের বিয়ে ধুমধামে শেষ হয়। তবে কনে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় নিকাহ রেজিস্ট্রী সম্পাদন হয়নি এ বিয়েতে। নন জুডিশিয়াল স্ট্যম্পে চুক্তি ও শর্ত সম্বলিত অঙ্গিকার নিয়ে বরের হাতে কোমলমতি শিক্ষার্থী হোসনে আরাকে তুলে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় লোকজন বলেছেন কনে স্কুল ছাত্রী হোসনে আরা বিয়েতে রাজি ছিলনা। মা-বাবার চাপে পড়েই মেয়েটি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়েছে। পড়ালেখা করে মানুষ হওয়ার বাসনা ছিল তার। কিন্তু মেয়েটির ইচ্ছে শক্তির ব্যত্যয় ঘটেছে। এর জন্য অন্তরায় ছিল হোসনে আরার অবিভাবকরা। তারা লোভে পড়ে মেয়েকে দিয়ে দেয়।

হারবাং উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন জানান,হোসনে আরার বিয়ে বিষয়ে আমি অবগত নই। এরকম হয়ে থাকল যথাযত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।
আলেকদিয়াপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সর্দার মোঃ জাবের বলেন, বিয়েতে আমিও দাওয়াত পেয়েছি। তবে যাওয়া হয়নি। কনে অপ্রাপ্ত বয়স্কের কথা আমার কানে আসে।

শীলখালী ইউপি’র চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন বলেন, বাল্য বিয়ে বিষয়ে আমাকে জানানো হয়েছে। তবে আমি এলাকার বাইরে অবস্থান করছি। এরপরও খোঁজ খবর নিচ্ছি।

পেকুয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। বাল্য বিয়ে আইনগত অপরাধ।

পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান বিষয়টি যাচাই করছি। বাল্য বিয়ে হয়ে থাকলে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পেকুয়ায় বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন ৯ম শ্রেণী ছাত্রী

আপডেট সময় : ১১:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়ায় শীলখালী ইউনিয়নের আলেকদিয়া পাড়ায় হারবাংয়ের ৯ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী হোসনে আরা (১৪)কে বধু করে আনলেন।এবাল্য বিয়ে নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।কনে হোসনে আরার বয়স (১৪) বর রবেলের বয়স (৩২)।বয়স বিবেচনায় অসম বিয়ে হলেও স্কুলের মেধাবী ওই শিক্ষার্থীকে তোলে দেওয়া হচ্ছে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক রুবেলের হাতে।

শুক্রবার (২৬ জুন) শীলখালী ইউনিয়নের আলেকদিয়াপাড়ায় বাল্য বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। বর মো রুবেল (৩২) শীলখালীর ২নং ওয়ার্ডের আলেকদিয়াপাড়ার নুরুল আলমের ছেলে। কনের নাম হোসনে আরা (১৪)। বাড়ি চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের কুতুবদিয়া পাড়ায়। হোসনে আরা ওই এলাকার জালাল আহমদের মেয়ে ও হারবাং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্রী।

শুক্রবার বর-কনের বিয়ে ধুমধামে শেষ হয়। তবে কনে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় নিকাহ রেজিস্ট্রী সম্পাদন হয়নি এ বিয়েতে। নন জুডিশিয়াল স্ট্যম্পে চুক্তি ও শর্ত সম্বলিত অঙ্গিকার নিয়ে বরের হাতে কোমলমতি শিক্ষার্থী হোসনে আরাকে তুলে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় লোকজন বলেছেন কনে স্কুল ছাত্রী হোসনে আরা বিয়েতে রাজি ছিলনা। মা-বাবার চাপে পড়েই মেয়েটি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়েছে। পড়ালেখা করে মানুষ হওয়ার বাসনা ছিল তার। কিন্তু মেয়েটির ইচ্ছে শক্তির ব্যত্যয় ঘটেছে। এর জন্য অন্তরায় ছিল হোসনে আরার অবিভাবকরা। তারা লোভে পড়ে মেয়েকে দিয়ে দেয়।

হারবাং উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন জানান,হোসনে আরার বিয়ে বিষয়ে আমি অবগত নই। এরকম হয়ে থাকল যথাযত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।
আলেকদিয়াপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সর্দার মোঃ জাবের বলেন, বিয়েতে আমিও দাওয়াত পেয়েছি। তবে যাওয়া হয়নি। কনে অপ্রাপ্ত বয়স্কের কথা আমার কানে আসে।

শীলখালী ইউপি’র চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন বলেন, বাল্য বিয়ে বিষয়ে আমাকে জানানো হয়েছে। তবে আমি এলাকার বাইরে অবস্থান করছি। এরপরও খোঁজ খবর নিচ্ছি।

পেকুয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। বাল্য বিয়ে আইনগত অপরাধ।

পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান বিষয়টি যাচাই করছি। বাল্য বিয়ে হয়ে থাকলে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।