ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

বর্ষায় পানি নিষ্কাশন শুকনা মৌসুমে সেচ সংকট! আনোয়ারায় আমনে ভারসাম্য  বোরোতে কমেছে উৎপাদনমাত্রা

মোঃ জাবেদুল ইসলাম,আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ১১:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ৩০৯ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিএডিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)র সমন্বয়হীনতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩০টি খালের মৃত্যু হয়েছে। স্লুইসগেট নির্মাণে অনিয়ম রক্ষণাবেক্ষণ অব্যবস্থাপনার কারণে  এমনটাই হয়েছে  মনে করছেন কৃষির সাথে সংশ্লিষ্টরা। মরে যাওয়া খালের মধ্যে বড় খাল হচ্ছে শোলকাটা খাল, কান্দুরিয়া খাল (কালাবিবির দিঘি), সাপমারা খাল (বারশত রাযপুর বটতলী), মালঘর খাল, বারখাইন খাল, ইছামতি খাল, বৈরাগ খাল। দেখা যাচ্ছে উপজেলার চারটি বড় খালের সাথে সংযুক্তি এসব খাল মরে যাওয়ায় পানি চলাচল না থাকায় আশেপাশের শত শত  কৃষি জমি এখন আর আবাদ হচ্ছে না। স্লুইসগেট নিয়ে একটি চাষাবাদে কৃত্রিম সমস্যা অন্যদিকে অনাবৃষ্টি, বন্যা লবনাক্তসহ প্রাকৃতিক সমস্যায় আনোয়ারায় ফসল উৎপাদনে লক্ষমাত্রা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দেখা যায়, প্রতিবছর সেচের পানির মাধ্যমে  বোরো মৌসুমে  চাষাবাদে বড় কাল  হয়ে দাড়ায় লবণের বিষ। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে সেচের পানির মাধ্যমে বোরো রোপন করলেও শীতের শেষে সাঙ্গু কর্ণফুলী দুই দিকে চলে আসে লবনের পানি । ফলে উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের কৃষকরা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও দেখা গেছে স্লুইসগেট পরিচালনা না থাকায় বর্ষায় অনাবৃষ্টি হলে বন্যা সৃষ্টি হয়। ফলে আমনের বীজতলা চরমভাবে নষ্ট হয়। বর্ষার পানি নিষ্কাশনের কারণে আমনের বীজতলা এক মৌসুমে তিনবার ডুবে। এদিকে বর্ষার পানিতে  আমন রোপন করতে পারলেও ফসল বের হওয়ার আগে আবার দেখা দেয় পানি সংকট। ফলে উৎপাদন লক্ষমাত্রায় চরম আকারে বিঘ্নিত হয়।

উপজেলার কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বরুমছড়া ভরা শঙ্খ খালে ২১ কোটি টাকা ব্যায়ে একটির এলিভেটেড  ড্যাম নির্মাণ করা হয়। ফলে আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া, বারখাইন, হাইলধর, বটতলী, চাতুরী ও সদর ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণসহ প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন বাড়তি ফসল উৎপাদিত হওয়ার কথা। যার বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আনোয়ারায় বোরো আবাদে বড় ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া শুকনো মৌসুমে (জানুয়ারি-মে) জোয়ারের সঙ্গে আসা লবণাক্ত পানির প্রভাব থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার ফসল ও গাছপালা রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং আনোয়ারা উপজেলায় কৃষি-উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, আনোয়ারায় তিন ফসলি চাষাবাদের জমি রয়েছে  মোট ৯হাজার ৪শ ৭০ হেক্টর।

২০১৯ সাল থেকে তিন বছরের কৃষি অধিদপ্তরের ফসল উৎপাদনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৯ সালে আউশ ধান রোপণ করা হয়েছিল এক হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে এবং সে মৌসুমে আউশের ফসল উৎপাদিত হয় তিন হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন। পরবর্তী বছর ২০২০ সালে আউশ রোপণ করা হয়েছিল তিন হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে এবং সে মৌসুমে আউশের ফসল উৎপাদিত হয় ৯ হাজার ৬৩২ মেট্রিক টন।
একই বছরের ১১ অক্টোবর এলিভেটর ড্যাম চালু হওয়ার পর ২০২১ সালে তিন হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে আউশ রোপণ করা হয় এবং এ মৌসুমে আউশের ফলন হয় ছয় হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন, যা এলিভেটর ড্যাম নির্মাণের আগের সময়ের চেয়ে কম। অন্যদিকে ২০১৯ সালে আমন ধান রোপণ করা হয়েছিল ছয় হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে এবং সে মৌসুমে আমন ফসল উৎপাদিত হয় ১৯ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন। পরবর্তী বছর ২০২০ সালে আমন রোপণ করা হয়েছিল সাত হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে এবং সে মৌসুমে আমন ফসল উৎপাদিত হয় ২১ হাজার ৩৮৭ মেট্রিক টন। একই বছরের ১১ অক্টোবর এলিভেটর ড্যাম চালু হওয়ার পর ২০২১ সালে সাত হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আমন রোপণ করা হয়, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় তেমন একটা বেশি নয়। অপরদিকে বোরো মৌসুমে এলিভেটর ড্যাম চালুর আগে ২০১৯ সালে ছয় হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হলেও এলিভেটর ড্যাম চালু হওয়ার পর তা কমে পাঁচ হাজার ৫০০ হেক্টরে নেমে এসেছে। আর উৎপাদন নেমে এসেছে ২৪ হাজার ৩৮১ মেট্রিক টন থেকে ২২ হাজার ১০৬ মেট্রিক টনে।

এদিকে  গত ৫বছরের আমন ও বোরোর উৎপাদনের লক্ষমাত্রায় দেখা যাচ্ছে  ২০১৯ সালে আমন উৎপাদন হয় ৬৯৫০ হেক্টর বোরো আবাদ হয় ৬৩০০ হেক্টর। ২০২০ সালে  ৭২৯৫ হেক্টর বোরো আবাদ হয় ৫৫০০হেক্টর। ২০২১ সালে আমন আবাদ হয় ৭৪৮৫ হেক্টর বোরো আবাদ হয় ৬১২০ হেক্টর। ২০২২ সালে আমন আবাদ হয় ৭৫৩০ হেক্টর বোরো আবাদ হয় ৫৯৮০ হেক্টর। ২০২৩ সালে আমন আবাদ হয় ৭৫৩০ হেক্টর বোরো আবাদ হয় ৫৯৮০ হেক্টর। বিগত ৫বছরের আবাদের ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে আমন আবাদে ভারসাম্য থাকলেও বোরোতে কমেছে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা। বোরোর লক্ষমাত্রা কমে যাওয়ার পিছনে সেচ সংকট ও লবনের পানি এই দুই সমস্যা প্রখরভাবে দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, একদিকে লবনের কারণে বোরোতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আরেক দিকে বর্ষা আসলেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হই। এসব থেকে রক্ষা করতে স্লুইসগেট করলেও এগুলো খোলা বাধা নিয়ে আমরা চরম বিপাকে আছি। এছাড়াও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল মাছ ধরার জন্য তারা তাদের দখল করে রাখে এসব স্লুইসগেট। এসবের কারণে আমরা কৃষকরা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এগুলো উপজেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

কৃষিবিদরা মনে করছেন, চাষাবাদের মূল প্রাণ হচ্ছে মূল খালের শাখা ছোট ছোট খাল গুলো।  এসব খাল যদি মরে যায় তাহলে জমিকে জমি কৃষি আবাদ ব্যহত হবে। খাল মরে যায় স্লুইসগেট এবং প্রভাবশালীরা খাল দখলের কারণে। উপজেলা প্রশাসনকে বিএডিসি, কৃষি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সাথে জনপ্রতিনিধি নিয়ে একটি পরিকল্পিত সমন্বয়ভাবে কাজ করতে হবে। তখন কৃষি আবাদটা বাড়বে। কৃষিতে ফসল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে। না হয় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে কৃষি অধিদপ্তরের করার কিছু থাকবে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, বর্ষায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বন্যা হচ্ছে এক মৌসুমে তিনবার। অন্যদিকে বোরো মৌসুমে সেচ সংকট। মূলত এসব হচ্ছে স্লুইসগেটের কারণে। তার মাঝে তো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আছেই। আমরা বাধ্য হয়ে স্লুইসগেট পরিচালনা করছি। দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে আধুনিক কৃষির দিকে যাচ্ছি আমরা। অন্যদিকে  কৃষকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সচেতন করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বর্ষায় পানি নিষ্কাশন শুকনা মৌসুমে সেচ সংকট! আনোয়ারায় আমনে ভারসাম্য  বোরোতে কমেছে উৎপাদনমাত্রা

আপডেট সময় : ১১:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৪

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিএডিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)র সমন্বয়হীনতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩০টি খালের মৃত্যু হয়েছে। স্লুইসগেট নির্মাণে অনিয়ম রক্ষণাবেক্ষণ অব্যবস্থাপনার কারণে  এমনটাই হয়েছে  মনে করছেন কৃষির সাথে সংশ্লিষ্টরা। মরে যাওয়া খালের মধ্যে বড় খাল হচ্ছে শোলকাটা খাল, কান্দুরিয়া খাল (কালাবিবির দিঘি), সাপমারা খাল (বারশত রাযপুর বটতলী), মালঘর খাল, বারখাইন খাল, ইছামতি খাল, বৈরাগ খাল। দেখা যাচ্ছে উপজেলার চারটি বড় খালের সাথে সংযুক্তি এসব খাল মরে যাওয়ায় পানি চলাচল না থাকায় আশেপাশের শত শত  কৃষি জমি এখন আর আবাদ হচ্ছে না। স্লুইসগেট নিয়ে একটি চাষাবাদে কৃত্রিম সমস্যা অন্যদিকে অনাবৃষ্টি, বন্যা লবনাক্তসহ প্রাকৃতিক সমস্যায় আনোয়ারায় ফসল উৎপাদনে লক্ষমাত্রা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দেখা যায়, প্রতিবছর সেচের পানির মাধ্যমে  বোরো মৌসুমে  চাষাবাদে বড় কাল  হয়ে দাড়ায় লবণের বিষ। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে সেচের পানির মাধ্যমে বোরো রোপন করলেও শীতের শেষে সাঙ্গু কর্ণফুলী দুই দিকে চলে আসে লবনের পানি । ফলে উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের কৃষকরা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও দেখা গেছে স্লুইসগেট পরিচালনা না থাকায় বর্ষায় অনাবৃষ্টি হলে বন্যা সৃষ্টি হয়। ফলে আমনের বীজতলা চরমভাবে নষ্ট হয়। বর্ষার পানি নিষ্কাশনের কারণে আমনের বীজতলা এক মৌসুমে তিনবার ডুবে। এদিকে বর্ষার পানিতে  আমন রোপন করতে পারলেও ফসল বের হওয়ার আগে আবার দেখা দেয় পানি সংকট। ফলে উৎপাদন লক্ষমাত্রায় চরম আকারে বিঘ্নিত হয়।

উপজেলার কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বরুমছড়া ভরা শঙ্খ খালে ২১ কোটি টাকা ব্যায়ে একটির এলিভেটেড  ড্যাম নির্মাণ করা হয়। ফলে আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া, বারখাইন, হাইলধর, বটতলী, চাতুরী ও সদর ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণসহ প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন বাড়তি ফসল উৎপাদিত হওয়ার কথা। যার বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আনোয়ারায় বোরো আবাদে বড় ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া শুকনো মৌসুমে (জানুয়ারি-মে) জোয়ারের সঙ্গে আসা লবণাক্ত পানির প্রভাব থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার ফসল ও গাছপালা রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং আনোয়ারা উপজেলায় কৃষি-উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, আনোয়ারায় তিন ফসলি চাষাবাদের জমি রয়েছে  মোট ৯হাজার ৪শ ৭০ হেক্টর।

২০১৯ সাল থেকে তিন বছরের কৃষি অধিদপ্তরের ফসল উৎপাদনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৯ সালে আউশ ধান রোপণ করা হয়েছিল এক হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে এবং সে মৌসুমে আউশের ফসল উৎপাদিত হয় তিন হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন। পরবর্তী বছর ২০২০ সালে আউশ রোপণ করা হয়েছিল তিন হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে এবং সে মৌসুমে আউশের ফসল উৎপাদিত হয় ৯ হাজার ৬৩২ মেট্রিক টন।
একই বছরের ১১ অক্টোবর এলিভেটর ড্যাম চালু হওয়ার পর ২০২১ সালে তিন হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে আউশ রোপণ করা হয় এবং এ মৌসুমে আউশের ফলন হয় ছয় হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন, যা এলিভেটর ড্যাম নির্মাণের আগের সময়ের চেয়ে কম। অন্যদিকে ২০১৯ সালে আমন ধান রোপণ করা হয়েছিল ছয় হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে এবং সে মৌসুমে আমন ফসল উৎপাদিত হয় ১৯ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন। পরবর্তী বছর ২০২০ সালে আমন রোপণ করা হয়েছিল সাত হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে এবং সে মৌসুমে আমন ফসল উৎপাদিত হয় ২১ হাজার ৩৮৭ মেট্রিক টন। একই বছরের ১১ অক্টোবর এলিভেটর ড্যাম চালু হওয়ার পর ২০২১ সালে সাত হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আমন রোপণ করা হয়, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় তেমন একটা বেশি নয়। অপরদিকে বোরো মৌসুমে এলিভেটর ড্যাম চালুর আগে ২০১৯ সালে ছয় হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হলেও এলিভেটর ড্যাম চালু হওয়ার পর তা কমে পাঁচ হাজার ৫০০ হেক্টরে নেমে এসেছে। আর উৎপাদন নেমে এসেছে ২৪ হাজার ৩৮১ মেট্রিক টন থেকে ২২ হাজার ১০৬ মেট্রিক টনে।

এদিকে  গত ৫বছরের আমন ও বোরোর উৎপাদনের লক্ষমাত্রায় দেখা যাচ্ছে  ২০১৯ সালে আমন উৎপাদন হয় ৬৯৫০ হেক্টর বোরো আবাদ হয় ৬৩০০ হেক্টর। ২০২০ সালে  ৭২৯৫ হেক্টর বোরো আবাদ হয় ৫৫০০হেক্টর। ২০২১ সালে আমন আবাদ হয় ৭৪৮৫ হেক্টর বোরো আবাদ হয় ৬১২০ হেক্টর। ২০২২ সালে আমন আবাদ হয় ৭৫৩০ হেক্টর বোরো আবাদ হয় ৫৯৮০ হেক্টর। ২০২৩ সালে আমন আবাদ হয় ৭৫৩০ হেক্টর বোরো আবাদ হয় ৫৯৮০ হেক্টর। বিগত ৫বছরের আবাদের ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে আমন আবাদে ভারসাম্য থাকলেও বোরোতে কমেছে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা। বোরোর লক্ষমাত্রা কমে যাওয়ার পিছনে সেচ সংকট ও লবনের পানি এই দুই সমস্যা প্রখরভাবে দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, একদিকে লবনের কারণে বোরোতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আরেক দিকে বর্ষা আসলেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হই। এসব থেকে রক্ষা করতে স্লুইসগেট করলেও এগুলো খোলা বাধা নিয়ে আমরা চরম বিপাকে আছি। এছাড়াও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল মাছ ধরার জন্য তারা তাদের দখল করে রাখে এসব স্লুইসগেট। এসবের কারণে আমরা কৃষকরা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এগুলো উপজেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

কৃষিবিদরা মনে করছেন, চাষাবাদের মূল প্রাণ হচ্ছে মূল খালের শাখা ছোট ছোট খাল গুলো।  এসব খাল যদি মরে যায় তাহলে জমিকে জমি কৃষি আবাদ ব্যহত হবে। খাল মরে যায় স্লুইসগেট এবং প্রভাবশালীরা খাল দখলের কারণে। উপজেলা প্রশাসনকে বিএডিসি, কৃষি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সাথে জনপ্রতিনিধি নিয়ে একটি পরিকল্পিত সমন্বয়ভাবে কাজ করতে হবে। তখন কৃষি আবাদটা বাড়বে। কৃষিতে ফসল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে। না হয় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে কৃষি অধিদপ্তরের করার কিছু থাকবে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, বর্ষায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বন্যা হচ্ছে এক মৌসুমে তিনবার। অন্যদিকে বোরো মৌসুমে সেচ সংকট। মূলত এসব হচ্ছে স্লুইসগেটের কারণে। তার মাঝে তো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আছেই। আমরা বাধ্য হয়ে স্লুইসগেট পরিচালনা করছি। দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে আধুনিক কৃষির দিকে যাচ্ছি আমরা। অন্যদিকে  কৃষকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সচেতন করছি।