বিচারহীনতার বেদনায় কাতর নাগেশ্বরীর জুলাই শহীদ পরিবার
- আপডেট সময় : ০৬:২৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পালিত হলো ‘জুলাই শহীদ দিবস’। উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এই স্মরণসভাটি হয়ে উঠেছিল শোক আর প্রতিবাদের এক মিলনমেলা। দেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষে আত্মাহুতি দেওয়া শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাতাসে যেন ভারী হয়ে ছিল স্বজন হারানো মানুষের দীর্ঘশ্বাস।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদ রাশেদুল ইসলামের বাবা বাচ্চু মিয়া ও শহীদ গোলাম রব্বানীর বাবা সাইদুল ইসলাম। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শহীদ রাশেদুলের বাবা বাচ্চু মিয়া। কান্নারুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘‘পাঁচ ছেলের মধ্যে রাশেদুল ছিল আমার কলিজার টুকরা। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই এখনো মনে হয়, হয়তো আমার ছেলেটা ঘরে ফিরবে। কিন্তু সেই ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। আর সন্তান হারানোর শোকের চেয়েও বড় কষ্ট হলো— এতগুলো দিন পার হয়ে গেলেও হত্যার বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা।
শহীদ গোলাম রব্বানীর বাবা সাইদুল ইসলাম ব্যথিত হৃদয়ে বলেন, ‘‘সন্তান হারানোর বেদনা কখনো মুছে যাওয়ার নয়। আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না, শুধু ন্যায়বিচারটুকু চাই। রাষ্ট্র যদি আমাদের এইটুকু শান্তি দেয়, তবেই হয়তো আমাদের পরিবারের বুকের পাথরটা কিছুটা হলেও হালকা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লা হিল জামান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল মান্নান মিঞা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহারিয়ার হোসেন এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, শহীদদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তাদের স্বপ্ন ও রক্তদান দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত শহীদের প্রতি সম্মান জানানো সম্ভব বলে তারা একমত পোষণ করেন। সভায় শহীদ পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে বিচারের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
















