ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

সরকারি আদেশ অমান্য, ব্রিতে তালাবদ্ধ নৈরাজ্য ও তদন্তে রহস্যজনক ধীরগতি: দায়ীদের পুরস্কৃত করার অপচেষ্টা কেন?

মোঃ মমিন আলী স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-তে সরকারি শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সংঘটিত ঘটনাবলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৩ মে ২০২৬ তারিখে ব্রির জ্যেষ্ঠতম মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলামকে মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সরকারের ওই আদেশ কার্যকর হতে বাধা দিতে ড. হাবিবুর রহমান মুকুল এবং তৎকালীন পরিচালক (গবেষণা) ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একদল কর্মচারী ও শ্রমিককে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে নজিরবিহীন নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ ও ৪ মে সংঘটিত এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। এমনকি সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালককে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এত গুরুতর ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দুই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তদন্ত কার্যত স্থবির। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—এটি কি শুধুই প্রশাসনিক উদাসীনতা, নাকি প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে তদন্তকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে?

আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি আদেশ অমান্যের ঘটনায় যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের মধ্যে একজনকে ব্রির মহাপরিচালক করার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির চলছে। যদি এমনটি ঘটে, তবে তা হবে সরকারি শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির প্রতি চরম উপহাস।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা প্রদান অসদাচরণ হিসেবে গণ্য। সেই আলোকে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই প্রত্যাশিত।

অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে বিভিন্ন মহলে তদবির, লবিং এবং নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি কিছু ঠিকাদারের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে তদন্তকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। এসব অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ব্রির নিয়োগ, পদোন্নতি, টেন্ডার, আরএফকিউ, প্রকল্প পরিচালনা এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এসব অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, সমগ্র সরকারি প্রশাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

ব্রি প্রগতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি, বেতন স্কেল উন্নীতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মুকুল এর স্ত্রীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নীতিমালা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং অন্যায়ভাবে প্রমোশন দেয়া হয়েছে। বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, প্রকল্পের যানবাহন ব্যবহার, নানান বিলের অনিয়ম এবং অন্যান্য আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এসব অভিযোগও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করা উচিত।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে সরকারি আদেশ অমান্য করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক বা প্রশাসনিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।

এ ধরনের ঘটনায় যদি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের বিশৃঙ্খলা আরও উৎসাহিত হবে।

ব্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা—গঠিত তদন্ত কমিটি অবিলম্বে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত সম্পন্ন করবে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।অন্যথায়, অপরাধীদের পুরস্কৃত করার সংস্কৃতি প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা আরও ক্ষুণ্ন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সরকারি আদেশ অমান্য, ব্রিতে তালাবদ্ধ নৈরাজ্য ও তদন্তে রহস্যজনক ধীরগতি: দায়ীদের পুরস্কৃত করার অপচেষ্টা কেন?

আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-তে সরকারি শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সংঘটিত ঘটনাবলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৩ মে ২০২৬ তারিখে ব্রির জ্যেষ্ঠতম মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলামকে মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সরকারের ওই আদেশ কার্যকর হতে বাধা দিতে ড. হাবিবুর রহমান মুকুল এবং তৎকালীন পরিচালক (গবেষণা) ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একদল কর্মচারী ও শ্রমিককে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে নজিরবিহীন নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ ও ৪ মে সংঘটিত এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। এমনকি সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালককে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এত গুরুতর ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দুই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তদন্ত কার্যত স্থবির। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—এটি কি শুধুই প্রশাসনিক উদাসীনতা, নাকি প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে তদন্তকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে?

আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি আদেশ অমান্যের ঘটনায় যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের মধ্যে একজনকে ব্রির মহাপরিচালক করার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির চলছে। যদি এমনটি ঘটে, তবে তা হবে সরকারি শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির প্রতি চরম উপহাস।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা প্রদান অসদাচরণ হিসেবে গণ্য। সেই আলোকে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই প্রত্যাশিত।

অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে বিভিন্ন মহলে তদবির, লবিং এবং নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি কিছু ঠিকাদারের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে তদন্তকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। এসব অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ব্রির নিয়োগ, পদোন্নতি, টেন্ডার, আরএফকিউ, প্রকল্প পরিচালনা এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এসব অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, সমগ্র সরকারি প্রশাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

ব্রি প্রগতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি, বেতন স্কেল উন্নীতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মুকুল এর স্ত্রীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নীতিমালা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং অন্যায়ভাবে প্রমোশন দেয়া হয়েছে। বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, প্রকল্পের যানবাহন ব্যবহার, নানান বিলের অনিয়ম এবং অন্যান্য আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এসব অভিযোগও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করা উচিত।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে সরকারি আদেশ অমান্য করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক বা প্রশাসনিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।

এ ধরনের ঘটনায় যদি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের বিশৃঙ্খলা আরও উৎসাহিত হবে।

ব্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা—গঠিত তদন্ত কমিটি অবিলম্বে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত সম্পন্ন করবে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।অন্যথায়, অপরাধীদের পুরস্কৃত করার সংস্কৃতি প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা আরও ক্ষুণ্ন করবে।