ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

সাতক্ষীরায় গণসংহতি আন্দোলনের গণজাগরণ: জেলা কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভীড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১০:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ১০২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার মাটি জাগে, বদলের নতুন গান, গণসংহতির পতাকাতলে জাগছে জনতার প্রাণ,প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন মুখ, নতুন স্বপ্নের দল।

সাতক্ষীরা জেলায় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন।

সম্প্রতি জেলা পার্টি অফিসে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের উপচে পড়া উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর দলীয় কার্যালয়ে এমন কর্মচাঞ্চল্য নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও আশাবাদের জন্ম দিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, জেলা আহ্বায়ক প্রভাষক মামুনুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আলফাত হোসেন এবং সদস্য সচিব রুবেল গাইন-এর নেতৃত্বে জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হয়েছে। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা জেলার ৩ উপজেলায় দলীয় কমিটি অনুমোদনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বাকি উপজেলায় কমিটি অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং নতুন নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

জিএসএ- সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহ্বায়ক মামুনুর রহমান বলেন, “‘পরিবর্তন সম্ভব, পরিবর্তন চাই’—এই বিশ্বাস ও প্রত্যয়কে ধারণ করেই গণসংহতি আন্দোলন কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের এই রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করছে এবং প্রতিদিনই নতুন মানুষ এই আন্দোলনের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

নেতাকর্মীরা জানান, গণসংহতি আন্দোলনের ঘোষিত “নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সদস্য সংগ্রহ, মতবিনিময় সভা, সাংগঠনিক বৈঠক এবং জনসংযোগ কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এতে তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং অনেকেই দলে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন।

গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ) সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সদস্য সচিব রুবেল গাইন বলেন,”গণসংহতি আন্দোলন গণমানুষের রাজনীতি করে। জনগণের স্বার্থ রক্ষা, মজলুম, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সাতক্ষীরায় প্রতিনিয়ত সচেতন ও শিক্ষিত মানুষ গণসংহতি আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন, যা আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলছে।

জেলা পার্টি অফিসে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, গণসংহতি আন্দোলন জনগণের অধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। এই আদর্শকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দলীয় নেতারা বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গণমুখী করতে প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও আদর্শিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গণসংহতি আন্দোলনের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আলফাত হোসেন বলেন,গণসংহতি আন্দোলনের প্রস্তাবিত নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের রাজনীতি ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার মানুষের মনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের আশাবাদী করে তুলছে।

সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি বিএনপিও এ জেলার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি। তবে আমরা লক্ষ্য করছি, নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। সেই বিবেচনায় গণসংহতি আন্দোলন ইতোমধ্যে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

আমাদের বিশ্বাস, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, জনগণের পাশে থেকে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে খুব শিগগিরই গণসংহতি আন্দোলন সাতক্ষীরায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। জনগণের আস্থা ও সমর্থন নিয়েই আমরা একটি গণমুখী, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

সাতক্ষীরার সুধীসমাজ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আশা প্রকাশ করেন, গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্প্রসারণ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে সাতক্ষীরায় দলটি আরও শক্তিশালী গণভিত্তি অর্জন করবে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

জিএসএ-শ্যামনগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক জিএম মাহফুজ বলেন, গণসংহতি আন্দোলন কর্মীদের মূল্যায়ন করে এবং জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা নিয়মিত তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে দলের রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হচ্ছে।

এদিকে ইতিমধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের জলা কমটির নেতৃবৃন্দ ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকটসহ সাতক্ষীরার নানা প্রাকৃতিক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যহত রাখছে। মানুষের অধিকার ও টেকসই সমাধানের দাবিতে দলটি ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার সাতক্ষীরায়।

আশাশুনি উপজেলা সদস্য সচিব কবি অর্জুন সরকার বলেন,গণসংহতি আন্দোলন আজ আশাশুনি উপজেলার মানুষের হৃদয়ে গেঁথে গেছে। সাধারণ মানুষ এই রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখছেন এবং আমাদের আদর্শ ও কর্মসূচির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করছেন। আমরা বিশ্বাস করি, মাওলানা ভাসানীর শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও গণমুখী রাজনীতির আদর্শ আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সেই আদর্শকে ধারণ করেই আমরা মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের ভালোবাসা ও অংশগ্রহণই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধারাবাহিক সাংগঠনিক তৎপরতা ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে গণসংহতি আন্দোলন সাতক্ষীরার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাতক্ষীরায় গণসংহতি আন্দোলনের গণজাগরণ: জেলা কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভীড়

আপডেট সময় : ০১:১০:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরার মাটি জাগে, বদলের নতুন গান, গণসংহতির পতাকাতলে জাগছে জনতার প্রাণ,প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন মুখ, নতুন স্বপ্নের দল।

সাতক্ষীরা জেলায় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন।

সম্প্রতি জেলা পার্টি অফিসে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের উপচে পড়া উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর দলীয় কার্যালয়ে এমন কর্মচাঞ্চল্য নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও আশাবাদের জন্ম দিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, জেলা আহ্বায়ক প্রভাষক মামুনুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আলফাত হোসেন এবং সদস্য সচিব রুবেল গাইন-এর নেতৃত্বে জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হয়েছে। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা জেলার ৩ উপজেলায় দলীয় কমিটি অনুমোদনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বাকি উপজেলায় কমিটি অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং নতুন নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

জিএসএ- সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহ্বায়ক মামুনুর রহমান বলেন, “‘পরিবর্তন সম্ভব, পরিবর্তন চাই’—এই বিশ্বাস ও প্রত্যয়কে ধারণ করেই গণসংহতি আন্দোলন কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের এই রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করছে এবং প্রতিদিনই নতুন মানুষ এই আন্দোলনের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

নেতাকর্মীরা জানান, গণসংহতি আন্দোলনের ঘোষিত “নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সদস্য সংগ্রহ, মতবিনিময় সভা, সাংগঠনিক বৈঠক এবং জনসংযোগ কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এতে তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং অনেকেই দলে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন।

গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ) সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সদস্য সচিব রুবেল গাইন বলেন,”গণসংহতি আন্দোলন গণমানুষের রাজনীতি করে। জনগণের স্বার্থ রক্ষা, মজলুম, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সাতক্ষীরায় প্রতিনিয়ত সচেতন ও শিক্ষিত মানুষ গণসংহতি আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন, যা আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলছে।

জেলা পার্টি অফিসে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, গণসংহতি আন্দোলন জনগণের অধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। এই আদর্শকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দলীয় নেতারা বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গণমুখী করতে প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও আদর্শিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গণসংহতি আন্দোলনের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আলফাত হোসেন বলেন,গণসংহতি আন্দোলনের প্রস্তাবিত নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের রাজনীতি ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার মানুষের মনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের আশাবাদী করে তুলছে।

সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি বিএনপিও এ জেলার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি। তবে আমরা লক্ষ্য করছি, নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। সেই বিবেচনায় গণসংহতি আন্দোলন ইতোমধ্যে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

আমাদের বিশ্বাস, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, জনগণের পাশে থেকে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে খুব শিগগিরই গণসংহতি আন্দোলন সাতক্ষীরায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। জনগণের আস্থা ও সমর্থন নিয়েই আমরা একটি গণমুখী, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

সাতক্ষীরার সুধীসমাজ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আশা প্রকাশ করেন, গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্প্রসারণ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে সাতক্ষীরায় দলটি আরও শক্তিশালী গণভিত্তি অর্জন করবে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

জিএসএ-শ্যামনগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক জিএম মাহফুজ বলেন, গণসংহতি আন্দোলন কর্মীদের মূল্যায়ন করে এবং জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা নিয়মিত তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে দলের রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হচ্ছে।

এদিকে ইতিমধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের জলা কমটির নেতৃবৃন্দ ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকটসহ সাতক্ষীরার নানা প্রাকৃতিক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যহত রাখছে। মানুষের অধিকার ও টেকসই সমাধানের দাবিতে দলটি ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার সাতক্ষীরায়।

আশাশুনি উপজেলা সদস্য সচিব কবি অর্জুন সরকার বলেন,গণসংহতি আন্দোলন আজ আশাশুনি উপজেলার মানুষের হৃদয়ে গেঁথে গেছে। সাধারণ মানুষ এই রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখছেন এবং আমাদের আদর্শ ও কর্মসূচির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করছেন। আমরা বিশ্বাস করি, মাওলানা ভাসানীর শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও গণমুখী রাজনীতির আদর্শ আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সেই আদর্শকে ধারণ করেই আমরা মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের ভালোবাসা ও অংশগ্রহণই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধারাবাহিক সাংগঠনিক তৎপরতা ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে গণসংহতি আন্দোলন সাতক্ষীরার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।