ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

হত্যা কে কেন্দ্র করে কোটি টাকার ক্ষতি মাছসহ মালামাল লুটপাট ও ভাঙচুর

জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫ ২১৩ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের জামাটি গ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জেরে পাঁচ পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত।

এ ঘটনায় পাঁচটি ঘর তছনছ করার পাশাপাশি ১০টি পুকুর থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাছ লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া লুট হয়ে গেছে মোটরসাইকেল, সোনার অলংকার, নগদ অর্থ, ফার্নিচার,আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী সহ ঘরোয়া নানা মালামাল।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, সন্ত্রাসীরা মনু মিয়ার দুটি, মাতু মিয়ার দুটি ও মজনু মিয়ার একটি ঘরে হামলা চালায়। অভিযুক্তদের তালিকায় মোফাজ্জল হোসেন, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, শবিকুল ইসলাম , আব্দুল,শিপনসহ আরও ১৫–২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে এইসব ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ৩০ আগস্ট রাতে রফিকের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় রফিকের ভাতিজা নূর মোহাম্মদ (২৯) নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

হত্যাকান্ডের দিন প্রত্যক্ষদর্শী রফিক বলেন, সেদিন রাতে হঠাৎ একদল সংঘবদ্ধ লোক আমাদের বসত বাড়ীতে আক্রমণ চালায়। আক্রমণের শিকার হয়ে আমার ভাতিজা নূর মোহাম্মদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমি নিজেও গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি ছিলাম। কে বা কারা পরে তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে, তা আমি জানি না।

ক্ষতিগ্রস্ত এই ৫ পরিবারের শিশু , নারী- পুরুষ সহ প্রাণনাশের চরম হুমকির মুখে আছে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবারের সকল সদস্য গন, অসহায় হয়ে বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে তাদের, যেতে পারছেনা নিজেদের বাড়ি ঘরে।

অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মাতু মিয়া বলেন,হত্যাকাণ্ড কারা করেছে আমরা জানি না। কিন্তু আমাদের অহেতুক আসামি করে ভীতি ও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। সেই সুযোগে সব লুট করে নেওয়া হয়েছে। ৫ টি পরিবারের পুকুরের মাছ সহ সোয়া কোটি টাকার লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। থানায় ও
যেতে পথে বাঁধা দিচ্ছে ।

ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর অসহায় সদস্য গন নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রার্থনা করেন ও উপজেলা সহ জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।।

লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত মজনু মিয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক আমরা ও চাই। কিন্তু এ ঘটনার জেরে আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। সব লুট হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না। বাড়িতে গেলে আবার হামলার আশঙ্কা আছে আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হত্যা কে কেন্দ্র করে কোটি টাকার ক্ষতি মাছসহ মালামাল লুটপাট ও ভাঙচুর

আপডেট সময় : ০৬:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের জামাটি গ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জেরে পাঁচ পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত।

এ ঘটনায় পাঁচটি ঘর তছনছ করার পাশাপাশি ১০টি পুকুর থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাছ লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া লুট হয়ে গেছে মোটরসাইকেল, সোনার অলংকার, নগদ অর্থ, ফার্নিচার,আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী সহ ঘরোয়া নানা মালামাল।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, সন্ত্রাসীরা মনু মিয়ার দুটি, মাতু মিয়ার দুটি ও মজনু মিয়ার একটি ঘরে হামলা চালায়। অভিযুক্তদের তালিকায় মোফাজ্জল হোসেন, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, শবিকুল ইসলাম , আব্দুল,শিপনসহ আরও ১৫–২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে এইসব ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ৩০ আগস্ট রাতে রফিকের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় রফিকের ভাতিজা নূর মোহাম্মদ (২৯) নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

হত্যাকান্ডের দিন প্রত্যক্ষদর্শী রফিক বলেন, সেদিন রাতে হঠাৎ একদল সংঘবদ্ধ লোক আমাদের বসত বাড়ীতে আক্রমণ চালায়। আক্রমণের শিকার হয়ে আমার ভাতিজা নূর মোহাম্মদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমি নিজেও গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি ছিলাম। কে বা কারা পরে তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে, তা আমি জানি না।

ক্ষতিগ্রস্ত এই ৫ পরিবারের শিশু , নারী- পুরুষ সহ প্রাণনাশের চরম হুমকির মুখে আছে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবারের সকল সদস্য গন, অসহায় হয়ে বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে তাদের, যেতে পারছেনা নিজেদের বাড়ি ঘরে।

অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মাতু মিয়া বলেন,হত্যাকাণ্ড কারা করেছে আমরা জানি না। কিন্তু আমাদের অহেতুক আসামি করে ভীতি ও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। সেই সুযোগে সব লুট করে নেওয়া হয়েছে। ৫ টি পরিবারের পুকুরের মাছ সহ সোয়া কোটি টাকার লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। থানায় ও
যেতে পথে বাঁধা দিচ্ছে ।

ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর অসহায় সদস্য গন নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রার্থনা করেন ও উপজেলা সহ জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।।

লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত মজনু মিয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক আমরা ও চাই। কিন্তু এ ঘটনার জেরে আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। সব লুট হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না। বাড়িতে গেলে আবার হামলার আশঙ্কা আছে আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।