ইতিহাসের নীরব সাক্ষী শৈলগাছি জমিদার বাড়ি! ছোট যমুনার তীরে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন
- আপডেট সময় : ০৬:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ১০৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার ছোট যমুনা নদীর তীরে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে শৈলগাছি জমিদার বাড়ি। একসময় এটি ছিল ক্ষমতা, ঐশ্বর্য, সংস্কৃতি ও আভিজাত্যের প্রতীক। কালের পরিক্রমায় সেই জৌলুস আজ অনেকটাই ম্লান। অবহেলা ও সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এখন অতীতের গৌরবগাথার নীরব স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, শৈলগাছি জমিদার বাড়ির ইতিহাস দুবলহাটি রাজবংশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। রাজা পরমেশ্বর রায়ের দুই পুত্র—জ্যেষ্ঠ শিবনাথ রায় ও কনিষ্ঠ কাশীনাথ রায়ের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে কাশীনাথ রায় দুবলহাটি রাজ্যের ৯০ আনা অংশের মালিকানা লাভ করেন। এরপর থেকেই শৈলগাছি রাজবংশের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে কাশীনাথ রায়ের বংশধররা দুবলহাটির ৯০ আনির জমিদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁদের মধ্যে গোলকনাথ রায় ছিলেন ধর্মপরায়ণ, অতিথিপরায়ণ ও জনহিতৈষী ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত।
প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর নির্মিত শৈলগাছি জমিদার বাড়িটি ছিল সে সময়ের এক অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। পূর্বমুখী মূল ভবনের দক্ষিণ পাশে ছিল প্রধান প্রবেশদ্বার এবং সম্মুখভাগে শোভা পেত সাতটি মিনা করা গোলাকার স্তম্ভ, যা ভবনটির নান্দনিক সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি করেছিল। ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে ছিল একটি নাট্যশালা, যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। উত্তর পাশে ছিল ১২টি নকশাখচিত স্তম্ভের ওপর নির্মিত প্রশস্ত বারান্দা। দ্বিতীয় তলায় ছিল ‘হাওয়াখানা’, যেখানে জমিদার পরিবারের সদস্যরা ছোট যমুনা নদীর মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতেন।
মোট ২২টি কক্ষ নিয়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল প্রাসাদটি ছিল জমিদার পরিবারের আবাসস্থল, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কেন্দ্র এবং প্রজাদের বিচারকার্য পরিচালনার অন্যতম স্থান। এখানেই অনুষ্ঠিত হতো বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যা শৈলগাছি জমিদার বাড়িকে এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ইতিহাসপ্রেমীরা দ্রুত প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নওগাঁর এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে পারে।
















