ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় গ্রেফতার ৮ কুখ্যাত সন্ত্রাসী

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরীতে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, মানবপাচার ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সিএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিএমপির একাধিক বিশেষ টিম, চকবাজার থানা পুলিশ এবং র‍্যাব-৭-এর সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসা ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর স্বত্বাধিকারীর কাছে গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেবিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাহিদামতো অর্থ না দিলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়।

এর দুই দিন পর, ১৩ জুলাই দুপুরে চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকার মনুমিয়াজী লেইনে মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অফিসে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

এ সময় অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র, কাঁচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া হামলাকারীরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)।

সিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, মো. নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি এবং মনির ওরফে কেহেরমানের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। এছাড়া ইউনুস, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, মানবপাচার, চোরাচালান, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ্রুত বিচার আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে সিএমপি। তদন্তের স্বার্থে আরও একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান থাকায় তার পরিচয় ও ছবি আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় গ্রেফতার ৮ কুখ্যাত সন্ত্রাসী

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীতে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, মানবপাচার ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সিএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিএমপির একাধিক বিশেষ টিম, চকবাজার থানা পুলিশ এবং র‍্যাব-৭-এর সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসা ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর স্বত্বাধিকারীর কাছে গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেবিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাহিদামতো অর্থ না দিলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়।

এর দুই দিন পর, ১৩ জুলাই দুপুরে চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকার মনুমিয়াজী লেইনে মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অফিসে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

এ সময় অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র, কাঁচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া হামলাকারীরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)।

সিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, মো. নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি এবং মনির ওরফে কেহেরমানের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। এছাড়া ইউনুস, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, মানবপাচার, চোরাচালান, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ্রুত বিচার আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে সিএমপি। তদন্তের স্বার্থে আরও একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান থাকায় তার পরিচয় ও ছবি আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।