ছেলের নির্যাতনে ঘরছাড়া বৃদ্ধা মাকে নিজ ভিটায় ফিরিয়ে দিলেন ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমান
- আপডেট সময় : ০৭:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
নিজের গর্ভধারিণী মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছিলেন ছেলে। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করা সেই বৃদ্ধা মাকে অবশেষে তার নিজ ভিটায় ফিরিয়ে দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নওগাঁর ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিন্টু রহমান।
ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার চকউমর গ্রামে। ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম (বৃদ্ধা) ওই গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ছেলে সোহাগের হাতে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন আনোয়ারা বেগম। একপর্যায়ে প্রায় ছয় মাস আগে ছেলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর থেকে তিনি খোলা আকাশের নিচে, কখনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আবার কখনো অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হন। বিচার পাওয়ার আশায় বিভিন্ন স্থানে ধর্ণা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।
অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে গত রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ধামইরহাট থানায় গিয়ে ছেলে সোহাগের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বৃদ্ধা মা।
অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেন ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিন্টু রহমান। তিনি তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়ে ওই রাতেই আনোয়ারা বেগমকে সঙ্গে করে তার বাড়িতে যান। ওসির উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপে ছেলে সোহাগ তার ভুল স্বীকার করে মাকে পুনরায় বাড়িতে তুলে নিতে বাধ্য হয়।
দীর্ঘদিন পর নিজের ঘরে ফিরতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আনোয়ারা বেগম। তিনি ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।
এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, “মায়ের চেয়ে বড় কোনো সম্পদ পৃথিবীতে নেই। একজন মা নিজ সন্তানের হাতে নির্যাতিত হবেন এবং বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করবেন, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকেই আমি তাকে তার নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়েছি। আমি চাই তিনি যেন নিরাপদে ও শান্তিতে সেখানে বসবাস করতে পারেন। ভবিষ্যতে তার ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা ওসির এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, পুলিশের এমন জনবান্ধব ও মানবিক ভূমিকা সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয় এবং অসহায় মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করে।















