ঢাকা ১২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

জলঢাকায় আরসিসি রাস্তার কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় যুবকের ওপর হামলা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

সুমন মিয়া, জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভা এলাকার মাথাভাঙ্গা ২নং ওয়ার্ডে একটি সড়কের আরসিসি (R.C.C) ঢালাই কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় শফিকুল ইসলাম সোহাগ নামের এক স্থানীয় যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার দুপুরে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঠিকাদার বদল হলেও কাজের মান ও উপকরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। উল্টো অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় ভুক্তভোগী পরিবারকে বর্তমানে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ২টার সময় জলঢাকা বাজার থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে শাহীন ডাক্তারের বাড়ি হতে হাই এর মিল পর্যন্ত চলমান রাস্তার ঢালাই কাজ দেখতে পান সোহাগ। এ সময় একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি কাজের নিম্নমান ও অনিয়ম হাতেনাতে প্রত্যক্ষ করে এর প্রতিবাদ জানান।

নথিসূত্র অনুযায়ী, উক্ত সড়কটির আরসিসি ঢালাই কাজের দৈর্ঘ্য ১০০ মিটার এবং প্রস্থ ৩ মিটার। সিডিউল মোতাবেক এতে ১০ মিলিমিটার রড, ৩৮ মিলিমিটার সাইজের পাথর, বেইজের জন্য ০.৫ এফ.এম এবং ঢালাইয়ের কাস্টিংয়ের জন্য ২.৫ এফ.এম মানের বালু ব্যবহার করার কথা। এই কাজের মূল তালিকাভুক্ত ঠিকাদার হলেন এনামুল হক লেবু এবং কাজটির সমাপ্তির মেয়াদ আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ে সিডিউলের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছিল না বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়। বক্তাদের দাবি:
ঢালাইয়ের সময় রডের জালি অতিরিক্ত ফাঁকা করে বিছানো হচ্ছিল।
ভালো মানের লাল বালুর পরিবর্তে নিম্নমানের সাধারণ ভিটি বালু ব্যবহার করা হচ্ছিল।
সিডিউল অনুযায়ী (অনুপাত বা রেশিও) যেখানে ৫ ব্যাগ সিমেন্ট দেওয়ার কথা, সেখানে মাত্র ৩ ব্যাগ সাধারণ সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই চালানো হচ্ছিল।
সিডিউলভুক্ত ভুটানের এলসি পাথরের পরিবর্তে অত্যন্ত নিম্নমানের মরা পাথর ব্যবহার করা হচ্ছিল।

মানববন্ধনে আহত যুবকের পিতা সোলাইমান আলী ও স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, সোহাগ এই প্রকাশ্য অনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানালে সেখানে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, উক্ত কাজের মূল ঠিকাদার এনামুল হক লেবু মিয়াকে সম্প্রতি হেনস্তা করে কাজটি জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেন স্থানীয় ময়নুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা।

এরপর তারা নতুন করে কাজ শুরু করলে এই অনিয়মের চিত্র সামনে আসে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় ময়নুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা দলবদ্ধ হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শফিকুল ইসলাম সোহাগের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সোহাগকে লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মানববন্ধনে জানানো হয়, এই বর্বরোচিত হামলার পরও ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। বর্তমানে ভুক্তভোগী সোহাগ ও তার পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য এবং গণমাধ্যমের কাছে মুখ বন্ধ রাখতে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে পুরো পরিবারটি জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সমবেত বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কাজের প্রকাশ্য অনিয়মের প্রতিবাদ করা যদি অপরাধ হয়, তবে সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা কোথায় থাকবে?”
তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সাথে দুর্নীতিবাজ চক্র ও হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জলঢাকায় আরসিসি রাস্তার কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় যুবকের ওপর হামলা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভা এলাকার মাথাভাঙ্গা ২নং ওয়ার্ডে একটি সড়কের আরসিসি (R.C.C) ঢালাই কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় শফিকুল ইসলাম সোহাগ নামের এক স্থানীয় যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার দুপুরে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঠিকাদার বদল হলেও কাজের মান ও উপকরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। উল্টো অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় ভুক্তভোগী পরিবারকে বর্তমানে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ২টার সময় জলঢাকা বাজার থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে শাহীন ডাক্তারের বাড়ি হতে হাই এর মিল পর্যন্ত চলমান রাস্তার ঢালাই কাজ দেখতে পান সোহাগ। এ সময় একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি কাজের নিম্নমান ও অনিয়ম হাতেনাতে প্রত্যক্ষ করে এর প্রতিবাদ জানান।

নথিসূত্র অনুযায়ী, উক্ত সড়কটির আরসিসি ঢালাই কাজের দৈর্ঘ্য ১০০ মিটার এবং প্রস্থ ৩ মিটার। সিডিউল মোতাবেক এতে ১০ মিলিমিটার রড, ৩৮ মিলিমিটার সাইজের পাথর, বেইজের জন্য ০.৫ এফ.এম এবং ঢালাইয়ের কাস্টিংয়ের জন্য ২.৫ এফ.এম মানের বালু ব্যবহার করার কথা। এই কাজের মূল তালিকাভুক্ত ঠিকাদার হলেন এনামুল হক লেবু এবং কাজটির সমাপ্তির মেয়াদ আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ে সিডিউলের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছিল না বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়। বক্তাদের দাবি:
ঢালাইয়ের সময় রডের জালি অতিরিক্ত ফাঁকা করে বিছানো হচ্ছিল।
ভালো মানের লাল বালুর পরিবর্তে নিম্নমানের সাধারণ ভিটি বালু ব্যবহার করা হচ্ছিল।
সিডিউল অনুযায়ী (অনুপাত বা রেশিও) যেখানে ৫ ব্যাগ সিমেন্ট দেওয়ার কথা, সেখানে মাত্র ৩ ব্যাগ সাধারণ সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই চালানো হচ্ছিল।
সিডিউলভুক্ত ভুটানের এলসি পাথরের পরিবর্তে অত্যন্ত নিম্নমানের মরা পাথর ব্যবহার করা হচ্ছিল।

মানববন্ধনে আহত যুবকের পিতা সোলাইমান আলী ও স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, সোহাগ এই প্রকাশ্য অনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানালে সেখানে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, উক্ত কাজের মূল ঠিকাদার এনামুল হক লেবু মিয়াকে সম্প্রতি হেনস্তা করে কাজটি জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেন স্থানীয় ময়নুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা।

এরপর তারা নতুন করে কাজ শুরু করলে এই অনিয়মের চিত্র সামনে আসে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় ময়নুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা দলবদ্ধ হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শফিকুল ইসলাম সোহাগের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সোহাগকে লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মানববন্ধনে জানানো হয়, এই বর্বরোচিত হামলার পরও ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। বর্তমানে ভুক্তভোগী সোহাগ ও তার পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য এবং গণমাধ্যমের কাছে মুখ বন্ধ রাখতে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে পুরো পরিবারটি জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সমবেত বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কাজের প্রকাশ্য অনিয়মের প্রতিবাদ করা যদি অপরাধ হয়, তবে সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা কোথায় থাকবে?”
তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সাথে দুর্নীতিবাজ চক্র ও হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।