নাগেশ্বরীতে এসআইকে ঘিরে বাদী-বিবাদীর পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৬:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) ইদ্রিস আলীকে ঘিরে বাদী ও বিবাদীপক্ষ পৃথক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, অপপ্রচার এবং বিচারাধীন মামলার তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) নাগেশ্বরী থানা গেট ও উপজেলা চত্বরে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বিবাদীপক্ষ এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে স্মারকলিপি প্রদান করে। পরে একই স্থানে বাদীপক্ষ প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিবাদীপক্ষের অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
জানা গেছে, উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কুমরিয়ারপাড় (মাদাইখাল) গ্রামের মৃত খলিলের ছেলে হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেশী ইদ্রিস আলীর ছেলে এমদাদুল হক, আমিনুর রহমান এবং আবুল কাসেমের ছেলে শামছুল হকসহ অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ-সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে কুড়িগ্রামের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রায় দুই একর জমিতে চাষাবাদে বাধা, চলাচলে প্রতিবন্ধকতা, মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
তাদের দাবি, গত ২ মে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে প্রতিপক্ষ প্রায় ৯০টি গাছ কেটে নেয় এবং পাটক্ষেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বাদীপক্ষের ভাষ্য, তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই অভিযুক্তরা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের দাবি, গাছ কাটার ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করা যাবে। উল্লেখ্য, গাছ কাটার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এই প্রতিবেদকের কাছেও সংরক্ষিত রয়েছে।
নাগেশ্বরী থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গত মে মাস আদালতে দাখিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে গত ২৩ জুলাই বিবাদীপক্ষের চারজন আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ ২৫ জুলাই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং ২৬ জুলাই তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করে। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্ত হওয়ার পরই তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই ইদ্রিস আলী)র বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন বিবাদীরা।
উল্লেখ্য – বিবাদী কতৃক গাছ কাটার ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।















