ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

পটুয়াখালীতে আমতলীর শ্রমিক দল সভাপতিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা

মাইনুল ইসলাম রাজু আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ৮৯ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজারঘোনা এলাকায় মঙ্গলবার রাতে ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে মো. রিপন কাজী (৩৫) নামে আমতলীর এক শ্রমিক দল সভাপতিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

নিহত রিপন কাজী বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের মিজানুর রহমান কাজীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন এবং গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নিহতের চাচাতো ভাই রাজীব কাজী অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি ও রিপন কাজী মোটরসাইকেলে করে পাশের পটুয়াখালী জেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের গগনখা বাজারে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ বাজারঘোনা এলাকার ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা রিপনের চাচাতো ভাই রাসেল কাজী, রিফাত কাজী, সোহাগ কাজী ও রাহাত কাজীর নেতৃত্বে ৮-১০ জন যুবক তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো রামদা, দা ও লাঠি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন, হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি খালে ঝাঁপ দেন। পরে সেখান থেকে উঠে এসে দেখেন, রিপন কাজী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা ও আমতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের মা আমেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে রাসেল কাজী, রিফাত কাজী, সোহাগ কাজী ও রাহাত কাজীর নেতৃত্বে ৮-১০ জন যুবক তার ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

আমতলী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, রিপন কাজী গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, নিহত রিপন কাজী আমতলী থানার বাসিন্দা হওয়ায় আমতলী থানার পুলিশের একটি দল পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশকে তদন্তে সহায়তা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পটুয়াখালীতে আমতলীর শ্রমিক দল সভাপতিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ০৪:১৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজারঘোনা এলাকায় মঙ্গলবার রাতে ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে মো. রিপন কাজী (৩৫) নামে আমতলীর এক শ্রমিক দল সভাপতিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

নিহত রিপন কাজী বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের মিজানুর রহমান কাজীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন এবং গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নিহতের চাচাতো ভাই রাজীব কাজী অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি ও রিপন কাজী মোটরসাইকেলে করে পাশের পটুয়াখালী জেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের গগনখা বাজারে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ বাজারঘোনা এলাকার ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা রিপনের চাচাতো ভাই রাসেল কাজী, রিফাত কাজী, সোহাগ কাজী ও রাহাত কাজীর নেতৃত্বে ৮-১০ জন যুবক তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো রামদা, দা ও লাঠি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন, হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি খালে ঝাঁপ দেন। পরে সেখান থেকে উঠে এসে দেখেন, রিপন কাজী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা ও আমতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের মা আমেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে রাসেল কাজী, রিফাত কাজী, সোহাগ কাজী ও রাহাত কাজীর নেতৃত্বে ৮-১০ জন যুবক তার ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

আমতলী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, রিপন কাজী গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, নিহত রিপন কাজী আমতলী থানার বাসিন্দা হওয়ায় আমতলী থানার পুলিশের একটি দল পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশকে তদন্তে সহায়তা করছে।