পাবনায় স্বামীর পরকীয়া প্রেমের জেড়ে ঝগড়া, প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১২:০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৮৯ বার পড়া হয়েছে
পাবনায় স্বামীর পরকীয়া প্রেমের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পারিবারিক কলহের একদিন পর পাপিয়া খাতুন (৩৪) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুর একটার দিকে দোগাছি ইউনিয়নের দোগাছি গ্রামের বিল্ডিং বাড়ি থেকে গলায় ফাঁস নেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত পাপিয়া ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী হুমায়ুন কবীর সরদারের স্ত্রী ও প্রতিবেশী আব্দুর রশিদ শেখের মেয়ে। এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জননী ছিলেন তিনি।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ বছর আগে পারিবারিকভাবে প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতিবেশী আব্দুর রশিদের ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের বিবাহ হয়। এরপর সৌদি প্রবাসী হন। তাদের ভালোই চলছিল দিনকাল। গত কোরবানির ঈদের আগে প্রবাস থেকে ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে আসেন হুমায়ুন কবির সরদার। এরপর একটি মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হলে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। প্রায়ই ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকত। এরপর গতকাল মঙ্গলবার তাদের পরিবারের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি পর্যায়ের ঘটনা ঘটে। রাতেও চেচামেচি শুনতে পায় স্থানীয়রা।
এরপর আজ দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ওয়াশিন মেশিন দিয়ে কাপড়চোপড় ধুয়ে বাড়ির ছাদের উপর রোদেও দেন। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। একটু পর শয়নকক্ষের দড়জা ভেঙে গলাশ ফাঁস নেওয়া অবস্থা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় মেয়ের পরিবার। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, মেয়েটি খুবই ভালো ছিল। কোনদিন কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেনি। তবে মেয়েটিকে কোনদিন বাড়ির বাহিরে বের হতে দিত না স্বামী। বেশ কয়েকমাস আগে থেকে একটি মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সম্প্রতি ওই মেয়েকে এক বিঘা জমি লিখে দিয়ে বিবাহের প্রস্তুতি নেন হুমায়ুন। ঘটনা জানাজানি হলে এমন ঘটনা ঘটে।
মেয়ের চাচা আসলাম হোসেন বলেন, আমার ভাতিজীর মত একটা মেয়েও এই অঞ্চলে নেই। সে বেশ কয়েকবার হজ্জ করে আসছেন। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত, পর্দায় থাকত। সবার সঙ্গে সদাচরণ করত। আজকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর আমরা মর্মাহত হচ্ছি। যে এই মেয়ে কোনদিনও ফাঁসি নিতে পারে না। অন্য কোন ঘটনা থাকতে পারে। তবে শরীরের অনেক জায়গায় আঘাতের চিহ্নও রয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়ুন কবির জানিয়েছে, তাদের মধ্যে কিছু একটা বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়েছে।
পাবনা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক ( অপারেশন ) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রুমের ভিতরে ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ফাঁস নেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যা নাকি আত্মহত্যা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে স্বামীকে পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
















