ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

ভালো নেই চাঁচড়া ট্রাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ

মালিকুজ্জামান কাকা
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৮১ বার পড়া হয়েছে

চাঁচড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ। কিছু দিন আগেও সব কিছু ছিল রমরমা। আজ ভালো নেই। না আছে ট্রাক্টর না কাজে আসা মানুষের ভীড়। মালিক আগের মতই সকালে আসছেন। রয়েছে কর্মচারীরাও। কিন্তু পার্টি নেই।

চাঁচড়া চাঁচড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ মালিক জানালেন,
এখানে রোটার, ভিটর, কাল্টিভেটর, ট্রলির যন্ত্রাংশ ক্রয় বিক্রয় করা হয়। কিন্তু পুলিশ ট্রাক্টর আসতে দিচ্ছে না বলে তার কারবারে চরম মন্দা। পালবাড়ি, মুড়ালি, উপশহরে হাইওয়ে পুলিশ ডিউটি করে। তারা ট্রাক্টর আসতে দেয় না।

নাম মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। পিতা মৃত আমজাদ হোসেন, মাতা আঞ্জুমান বেগম। বাড়ি চাঁচড়া মধ্য পাড়া। প্রায় কিশোর বয়সে এই পেশা তার। কৃষি যন্ত্র হিসাবে চাঁচড়ায় গড়ে উঠেছিল ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসা। প্রায় ২০ হাজার ট্রাক্টর বিভিন্ন কাজে সংস্কারে এখানে নিয়মিত আনা নেওয়া করতো ট্রাক্টর মালিকরা।

সময়ের হিসাবে ব্যবসা ১৬ বছর। কিন্তু কাজ কাম হঠাৎ করে। কমে যাওয়ার মূল কারন পুলিশের অসহযোগিতা। নাঙল ফলা ছাড়া ট্রাক্টর সড়কে চলাচল করতে না দেওয়ার কারণ জানেনা এসব ব্যাবসায়ী।
চাঁচড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক জাহাঙ্গীর জানালেন, সংসারে চার সদস্য। ঋণ আছে। চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বছর দুই এই সমস্যা। কর্মচারী পাঁচজন। সাপ্তাহিক বেতন দিতে তীব্র সমস্যা হচ্ছে।

যশোর শহরের গাঁ ঘেঁষে চাঁচড়া মোড় গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে তার ওয়ার্কশপটি। এখন বাজার মন্দা। । পুলিশ রাস্তায় ট্রাক্টর চলতে দেয় না। বাইরের গাড়ি আসতে দেয় না।

বরিশাল, নাভারণ, বেনাপোল, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরাসহ দূর দূরান্ত থেকে ট্রাক্টর আসতো বিনা বাঁধায় এইতো কদিন আগে। পালবাড়ি মোড়ে পুলিশের ঝামেলা বেশি। ফলে ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নড়াইলের গাড়ি আসতে পারছে না।

শুধু জাহাঙ্গীর একা নয়, তার মত প্রায় ২০০ ব্যাবসায়ী চরম দুশ্চিন্তায় পথে বসার জোগাড়। কর্মচারী নিয়ে মালিকদের খেয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। দোকানদার এদের পণ্য বাকি দিতেও ভয় পাচ্ছে। কঠিন সমস্যায় ট্রাক্টর পার্টস ওয়ার্কশপ ও ব্যাবসায়ীরা। চাঁচড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে পাঁচজন কর্মচারী। প্রতি সপ্তাহে ওদের বেতন ভাতা দিতেই হবে। কাজ হোক না হোক সে বিবেচনা কে করে।

চাঁচড়া ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায়ী মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি বাদল শেখ বলেন, ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায় এখন বেজায় মন্দা। বাইরের বা এলাকার ট্রাক্টর চাঁচড়ায় আসতে পারছে না। ফলে ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায়ীরা নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভালো নেই চাঁচড়া ট্রাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

চাঁচড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ। কিছু দিন আগেও সব কিছু ছিল রমরমা। আজ ভালো নেই। না আছে ট্রাক্টর না কাজে আসা মানুষের ভীড়। মালিক আগের মতই সকালে আসছেন। রয়েছে কর্মচারীরাও। কিন্তু পার্টি নেই।

চাঁচড়া চাঁচড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ মালিক জানালেন,
এখানে রোটার, ভিটর, কাল্টিভেটর, ট্রলির যন্ত্রাংশ ক্রয় বিক্রয় করা হয়। কিন্তু পুলিশ ট্রাক্টর আসতে দিচ্ছে না বলে তার কারবারে চরম মন্দা। পালবাড়ি, মুড়ালি, উপশহরে হাইওয়ে পুলিশ ডিউটি করে। তারা ট্রাক্টর আসতে দেয় না।

নাম মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। পিতা মৃত আমজাদ হোসেন, মাতা আঞ্জুমান বেগম। বাড়ি চাঁচড়া মধ্য পাড়া। প্রায় কিশোর বয়সে এই পেশা তার। কৃষি যন্ত্র হিসাবে চাঁচড়ায় গড়ে উঠেছিল ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসা। প্রায় ২০ হাজার ট্রাক্টর বিভিন্ন কাজে সংস্কারে এখানে নিয়মিত আনা নেওয়া করতো ট্রাক্টর মালিকরা।

সময়ের হিসাবে ব্যবসা ১৬ বছর। কিন্তু কাজ কাম হঠাৎ করে। কমে যাওয়ার মূল কারন পুলিশের অসহযোগিতা। নাঙল ফলা ছাড়া ট্রাক্টর সড়কে চলাচল করতে না দেওয়ার কারণ জানেনা এসব ব্যাবসায়ী।
চাঁচড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক জাহাঙ্গীর জানালেন, সংসারে চার সদস্য। ঋণ আছে। চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বছর দুই এই সমস্যা। কর্মচারী পাঁচজন। সাপ্তাহিক বেতন দিতে তীব্র সমস্যা হচ্ছে।

যশোর শহরের গাঁ ঘেঁষে চাঁচড়া মোড় গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে তার ওয়ার্কশপটি। এখন বাজার মন্দা। । পুলিশ রাস্তায় ট্রাক্টর চলতে দেয় না। বাইরের গাড়ি আসতে দেয় না।

বরিশাল, নাভারণ, বেনাপোল, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরাসহ দূর দূরান্ত থেকে ট্রাক্টর আসতো বিনা বাঁধায় এইতো কদিন আগে। পালবাড়ি মোড়ে পুলিশের ঝামেলা বেশি। ফলে ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নড়াইলের গাড়ি আসতে পারছে না।

শুধু জাহাঙ্গীর একা নয়, তার মত প্রায় ২০০ ব্যাবসায়ী চরম দুশ্চিন্তায় পথে বসার জোগাড়। কর্মচারী নিয়ে মালিকদের খেয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। দোকানদার এদের পণ্য বাকি দিতেও ভয় পাচ্ছে। কঠিন সমস্যায় ট্রাক্টর পার্টস ওয়ার্কশপ ও ব্যাবসায়ীরা। চাঁচড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে পাঁচজন কর্মচারী। প্রতি সপ্তাহে ওদের বেতন ভাতা দিতেই হবে। কাজ হোক না হোক সে বিবেচনা কে করে।

চাঁচড়া ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায়ী মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি বাদল শেখ বলেন, ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায় এখন বেজায় মন্দা। বাইরের বা এলাকার ট্রাক্টর চাঁচড়ায় আসতে পারছে না। ফলে ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায়ীরা নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছেন।