মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনায় পুলিশের নানা প্রতিবন্ধকতা
- আপডেট সময় : ০৭:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে পুলিশের মনোবল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে এবং দেশের জানমালের নিরাপত্তায় তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানের গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে কিছু কুচক্রী মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পুলিশকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পাবনার ঈশ্বরদীর ঘটনায় বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্ট সম্প্রতি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িকে নিয়ে ফেসবুকে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অভিযোগের মূল ভিত্তি দুর্বল এবং তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয় ও বাস্তবতা: তারিখ বিভ্রাট : ফেসবুক পোস্টে ঘটনার তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০/০৫/২৬, অথচ প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ দেখানো হয়েছে ২১/০৫/২৬। এতে সময়রেখায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
অভিযোগকারীর পরিচয়: অভিযোগকারী শাহীন নিজেকে বারের মালিক হিসেবে পরিচয় দিলেও বাস্তবে তিনি একজন পারমিটধারী মদ্যপানকারী। তার নামে কোনো বার লাইসেন্স নেই।
আটক নিয়ে মিথ্যা দাবি: তিনি দাবি করেছেন তাকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট তারিখ ও সময়ে শাহীন নামে কাউকে আটক করার রেকর্ড রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নেই।
লাইসেন্সের অপব্যবহার: অভিযোগকারী স্বীকার করেছেন, তিনি নিজ নামের লাইসেন্স অন্যকে দিয়ে বিয়ার আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। এটি আইনের লঙ্ঘন।
মোবাইল লোকেশন অসামঞ্জস্য: শাহীন দাবি করেছেন তার মোবাইল সহ তিনি রূপপুর ফাঁড়িতে আটক ছিলেন। অথচ ঘটনার সময়ের তার মোবাইল ফোনের লোকেশন ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ঈশ্বরদী বাজার, পাকশী বাজার সহ বেশির ভাগ সময়ে কুষ্টিয়া ও ভেড়ামারা এলাকার তার অবস্থান ।
পুলিশ পরিচয়ধারীকে সঙ্গে আনা: তিনি নিজেই আরেকজন পুলিশ পরিচয়ধারী ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ফাঁড়িতে এসে আটক ব্যক্তি ও মাদক ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
ফেসবুক পোস্টে রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িকে অবৈধ বালি-মাটি উত্তোলনের সঙ্গেও জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে রূপপুর ফাঁড়ি এ বিষয়ে শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছে। ইতিপূর্বে অবৈধ উত্তোলনের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপসহ আইনানুগ সব ব্যবস্থা নিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
যখন সমাজে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে, তখন পুলিশ আইনের যথাযথ প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং দমনে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।
এমন বাস্তবতায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা শুধু পুলিশের মনোবল নয়, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই দুর্বল করে। স্থানীয়ভাবে যারা আগে অনৈতিক সুবিধা পেতেন, বর্তমানে তা বন্ধ হওয়ায় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মাদকবিরোধী অভিযানের সফলতা নির্ভর করে জনসমর্থন ও তথ্যের সত্যতার ওপর। বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই না করে প্রচার করলে অপরাধীরাই সুবিধা পায়। এ অবস্থায় সত্য তথ্য যাচাই, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং পুলিশের সঙ্গে জনগণের সহযোগিতা জরুরি।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশের পাশাপাশি সচেতন নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।











