ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটে আগুনের পর চরম দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা, দ্রুত সমাধানের দাবি

মোঃ বিপ্লব চৌধুরী ঃ বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫ ২১১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশের ব্যবসায়ীরা এখন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কার্গো টার্মিনালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পণ্য উঠানো-নামানো ও ডেলিভারি প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে।

ঘটনার পর কার্গো ইউনিটের একটি বড় অংশ অচল হয়ে পড়ায় মালামাল সংরক্ষণ ও বিতরণে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনের পর থেকে নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় তাদের আমদানি করা পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবন্দরে পড়ে থাকছে। এতে অতিরিক্ত গুদাম খরচ, পরিবহন জটিলতা ও সময় অপচয়ে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

একজন আমদানিকারক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে নির্দিষ্ট সময়ে আমরা মালামাল ডেলিভারি নিতে পারতাম। এখন জায়গার অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কখনো পুরো দিনও চলে যায়। এতে আমাদের ব্যবসায়িক চেইন পুরোপুরি ভেঙে গেছে।”

আরেকজন রপ্তানিকারক জানান, “কার্গো ইউনিটে জায়গা না থাকায় পণ্য উঠানো-নামানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাছাড়া সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।”

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) প্রতি ব্যবসায়ীরা আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে কার্যক্রম সচল করার। নতুবা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আরও বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।

একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমনিতেই আমরা ডলারের সংকট, উচ্চ শুল্ক আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে আছি। তার মধ্যে এই কার্গো ইউনিটের সংকট আমাদের দম বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকার যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়, রাজস্ব ক্ষতি এবং ব্যবসায়িক আস্থার সংকট দুই-ই বাড়বে।”

জানা গেছে, গত সপ্তাহে আগুনে কার্গো ইউনিটের একটি অংশ পুড়ে যায়। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কার্যকর পুনর্গঠনের উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্গো ইউনিট পুনর্বিন্যাস ও নতুন স্থান বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা— সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবে, যাতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং দেশের রাজস্ব ও বাণিজ্য সুরক্ষিত থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটে আগুনের পর চরম দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা, দ্রুত সমাধানের দাবি

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশের ব্যবসায়ীরা এখন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কার্গো টার্মিনালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পণ্য উঠানো-নামানো ও ডেলিভারি প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে।

ঘটনার পর কার্গো ইউনিটের একটি বড় অংশ অচল হয়ে পড়ায় মালামাল সংরক্ষণ ও বিতরণে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনের পর থেকে নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় তাদের আমদানি করা পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবন্দরে পড়ে থাকছে। এতে অতিরিক্ত গুদাম খরচ, পরিবহন জটিলতা ও সময় অপচয়ে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

একজন আমদানিকারক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে নির্দিষ্ট সময়ে আমরা মালামাল ডেলিভারি নিতে পারতাম। এখন জায়গার অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কখনো পুরো দিনও চলে যায়। এতে আমাদের ব্যবসায়িক চেইন পুরোপুরি ভেঙে গেছে।”

আরেকজন রপ্তানিকারক জানান, “কার্গো ইউনিটে জায়গা না থাকায় পণ্য উঠানো-নামানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাছাড়া সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।”

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) প্রতি ব্যবসায়ীরা আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে কার্যক্রম সচল করার। নতুবা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আরও বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।

একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমনিতেই আমরা ডলারের সংকট, উচ্চ শুল্ক আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে আছি। তার মধ্যে এই কার্গো ইউনিটের সংকট আমাদের দম বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকার যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়, রাজস্ব ক্ষতি এবং ব্যবসায়িক আস্থার সংকট দুই-ই বাড়বে।”

জানা গেছে, গত সপ্তাহে আগুনে কার্গো ইউনিটের একটি অংশ পুড়ে যায়। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কার্যকর পুনর্গঠনের উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্গো ইউনিট পুনর্বিন্যাস ও নতুন স্থান বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা— সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবে, যাতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং দেশের রাজস্ব ও বাণিজ্য সুরক্ষিত থাকে।