ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

সীতাকুণ্ডে খেজুরের রস সংগ্রহে গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত গাছিরা

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০২৪ ৪৫৯ বার পড়া হয়েছে

শীত মৌসুম আসতে এখনও বেশ কিছুদিন বাকি। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন গ্রাম-অঞ্চলে শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। রাতে ঠান্ডা-হিমেল বায়ু আর সকালের শিশির ভেজা ঘাস-পাতাই জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই গাছিদের রস সংগ্রহে খেজুর গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ততা বাড়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

এদেরই একজন উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা গাছি আবুল কাশেম। শীতের শুরুতেই সারা বছর অযত্নে পড়ে থাকা নিজের ও চুক্তিতে নেওয়া অর্ধশতাধিক খেজুর গাছ পরিষ্কার শুরু করেন তিনি। এরপর গাছ থেকে রস সংগ্রহ এবং বিক্রির পালা। আগামী দুই মাস তাঁর কোনো ছুটি নেই। কাশেম এর মতো বর্তমানে গাছ কাটা ও রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন সীতাকুণ্ডের শতাধিক গাছি। এতে বাড়তি আয় হওয়ায় গাছিদের পরিবারে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে।

গাছিরা গাছ পরিষ্কারের পর বিশেষ কায়দায় বাঁশের কঞ্চির নল বসিয়ে দেন। পরবর্তীতে নলের মুখে প্লাস্টিকের বোতল বসিয়ে দেওয়া হয়। নল বেয়ে বোতলে এসে জমা হয় মিষ্টি রস। পড়ন্ত বিকেলে রসের হাঁড়ি বসানোর দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর কাক ডাকা ভোরে এসব গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এরপর রস নিয়ে বিক্রির জন্য ছুটেন গ্রামে গ্রামে।

গাছি আবুল কাশেম জানান, বছরের অন্যান্য সময় কৃষিকাজ এবং দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে কাজ করে পরিবারের খরচ নির্বাহ করেন তিনি। তবে শীত মৌসুম এলেই সব কাজ বন্ধ রেখে রস সংগ্রহর লক্ষ্যে খেজুর গাছ ছোলার কাজ শুরু করেন তিনি। নিজের ও অন্যের কাছ থেকে চুক্তিতে গাছ ভাড়া নেন। গ্রামাঞ্চলে রসের চাহিদা খুব। সে তুলনায় গাছ কম বলে জানান তিনি।

কাশেম আফসোস করে বলেন, এক সময় গ্রামাঞ্চলে প্রচুর খেজুর গাছ ছিল। সে সময় বাজারে হাঁড়ি হিসাবে রস বিক্রি করা হতো। কিন্তু এখন গাছ কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ করতে পারছেন না। তাই রসের দামও বেশী। প্রতিকেজি খেজুরের রস ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বছরের এ সময়ে খেজুর রস বিক্রির মাধ্যমে বাড়তি টাকা উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি লক্ষাধিক টাকা আয় হয় বলেও জানান তিনি।

পশ্চিম বাকখালী এলাকার গাছি মোঃ শহিদুল্লাহ, দেলোয়ার হোসেন, আখের ইসলাম ও মোঃ বশির আহমেদ জানান, পেশায় তাঁরা চারজনেই কৃষক। অন্যের জমিতে দিন মজুরীর কাজ করে পরিবার চালান। তাঁরা অপেক্ষায় থাকেন শীতকালীন এ মৌসুমি খেজুর রসের জন্য। এ সময়টা তাঁদের খুশির সময়।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বাকখালী এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ‘চমৎকার ও সুমিষ্ট এ খেজুরের রস এখন গ্রামীণ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর শীতকাল এলেই গ্রামাঞ্চলে পিঠা, পুলি তৈরীর ধুম পড়ে যায়। গ্রামের বিভিন্ন স্থানে উদ্‌যাপিত হয় পিঠে উৎসব।’

সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সভাপতি সুলেমান মেহেদী হাসান বলেন, ‘শীতকালে খেজুর রসে তৈরী নানা ধরনের পিঠা, পুলি খেতে আবদার করতাম মায়ের কাছে। কিন্তু বর্তমানে ক্রমেই বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ। এক সময়ের গ্রামাঞ্চলের সহজলভ্য ও জনপ্রিয় খেজুর রস বর্তমানে পাওয়া দুস্কর। গাছিকে আগে থেকে বলেও রস পাওয়া যায় না। এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে খেজুর গাছ লাগাতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সীতাকুণ্ডে খেজুরের রস সংগ্রহে গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত গাছিরা

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০২৪

শীত মৌসুম আসতে এখনও বেশ কিছুদিন বাকি। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন গ্রাম-অঞ্চলে শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। রাতে ঠান্ডা-হিমেল বায়ু আর সকালের শিশির ভেজা ঘাস-পাতাই জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই গাছিদের রস সংগ্রহে খেজুর গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ততা বাড়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

এদেরই একজন উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা গাছি আবুল কাশেম। শীতের শুরুতেই সারা বছর অযত্নে পড়ে থাকা নিজের ও চুক্তিতে নেওয়া অর্ধশতাধিক খেজুর গাছ পরিষ্কার শুরু করেন তিনি। এরপর গাছ থেকে রস সংগ্রহ এবং বিক্রির পালা। আগামী দুই মাস তাঁর কোনো ছুটি নেই। কাশেম এর মতো বর্তমানে গাছ কাটা ও রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন সীতাকুণ্ডের শতাধিক গাছি। এতে বাড়তি আয় হওয়ায় গাছিদের পরিবারে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে।

গাছিরা গাছ পরিষ্কারের পর বিশেষ কায়দায় বাঁশের কঞ্চির নল বসিয়ে দেন। পরবর্তীতে নলের মুখে প্লাস্টিকের বোতল বসিয়ে দেওয়া হয়। নল বেয়ে বোতলে এসে জমা হয় মিষ্টি রস। পড়ন্ত বিকেলে রসের হাঁড়ি বসানোর দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর কাক ডাকা ভোরে এসব গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এরপর রস নিয়ে বিক্রির জন্য ছুটেন গ্রামে গ্রামে।

গাছি আবুল কাশেম জানান, বছরের অন্যান্য সময় কৃষিকাজ এবং দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে কাজ করে পরিবারের খরচ নির্বাহ করেন তিনি। তবে শীত মৌসুম এলেই সব কাজ বন্ধ রেখে রস সংগ্রহর লক্ষ্যে খেজুর গাছ ছোলার কাজ শুরু করেন তিনি। নিজের ও অন্যের কাছ থেকে চুক্তিতে গাছ ভাড়া নেন। গ্রামাঞ্চলে রসের চাহিদা খুব। সে তুলনায় গাছ কম বলে জানান তিনি।

কাশেম আফসোস করে বলেন, এক সময় গ্রামাঞ্চলে প্রচুর খেজুর গাছ ছিল। সে সময় বাজারে হাঁড়ি হিসাবে রস বিক্রি করা হতো। কিন্তু এখন গাছ কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ করতে পারছেন না। তাই রসের দামও বেশী। প্রতিকেজি খেজুরের রস ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বছরের এ সময়ে খেজুর রস বিক্রির মাধ্যমে বাড়তি টাকা উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি লক্ষাধিক টাকা আয় হয় বলেও জানান তিনি।

পশ্চিম বাকখালী এলাকার গাছি মোঃ শহিদুল্লাহ, দেলোয়ার হোসেন, আখের ইসলাম ও মোঃ বশির আহমেদ জানান, পেশায় তাঁরা চারজনেই কৃষক। অন্যের জমিতে দিন মজুরীর কাজ করে পরিবার চালান। তাঁরা অপেক্ষায় থাকেন শীতকালীন এ মৌসুমি খেজুর রসের জন্য। এ সময়টা তাঁদের খুশির সময়।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বাকখালী এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ‘চমৎকার ও সুমিষ্ট এ খেজুরের রস এখন গ্রামীণ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর শীতকাল এলেই গ্রামাঞ্চলে পিঠা, পুলি তৈরীর ধুম পড়ে যায়। গ্রামের বিভিন্ন স্থানে উদ্‌যাপিত হয় পিঠে উৎসব।’

সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সভাপতি সুলেমান মেহেদী হাসান বলেন, ‘শীতকালে খেজুর রসে তৈরী নানা ধরনের পিঠা, পুলি খেতে আবদার করতাম মায়ের কাছে। কিন্তু বর্তমানে ক্রমেই বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ। এক সময়ের গ্রামাঞ্চলের সহজলভ্য ও জনপ্রিয় খেজুর রস বর্তমানে পাওয়া দুস্কর। গাছিকে আগে থেকে বলেও রস পাওয়া যায় না। এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে খেজুর গাছ লাগাতে হবে।