ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

পাবনায় জেলা রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ, স্মারকলিপি পেশ

পাবনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ ২৬২ বার পড়া হয়েছে

পাবনা জেলা রেজিস্ট্রার দীপক কুমার সরকারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, রাজনৈতিক পক্ষপাত ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পাবনা কোর্ট এলাকা ।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। বিক্ষুব্ধ অংশগ্রহণকারীরা এ সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়ে জেলা রেজিস্ট্রারের অপসারণ দাবি করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি দায়িত্বে থেকে দীপক কুমার সরকার দানকৃত জমির মতো পবিত্র রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াতেও ঘুষের প্রস্তাব দেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে জমি রেজিস্ট্রেশন ঘিরে উৎকোচ গ্রহণ, নারী কেলেঙ্কারি ও দলীয় আনুগত্যের অভিযোগ ওঠেছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসে চার-পাঁচ দিনের বেশি অফিসে দেখা মেলে না তার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের এই কর্মকর্তার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে বিপুল সম্পদের মালিকানা রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রীর নামে ঢাকায় দুটি অভিজাত ফ্ল্যাট, শ্বশুরের নামে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে একটি ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা সিটিতে দুটি দোকান, যমুনা ফিউচার পার্কে একটি দোকান এবং পূর্বাচলে ১৮ কাঠার একটি প্লট রয়েছে, যা তাঁর ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রিকৃত। এছাড়া তাঁর স্ত্রী ব্যবহার করেন প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি, রয়েছে টয়োটা প্রিমিও গাড়িও।

একজন জমি ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন রেজিস্ট্রার দীপক। যদিও পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আইনি ব্যবস্থা নেন, শেষপর্যন্ত আপসে সমাধান হয় বলে জানা গেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, একটি জাতীয় দৈনিকে তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে দুর্নীতির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সারা দেশের নকলনবিশদের চলমান আন্দোলনে তিনি গোপনে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ সূত্রে আরও জানা যায়, ঢাকার গুলশান-২ এর একটি বিলাসবহুল হোটেলে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে, যা তাঁর জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিষয়টি জানতে চাইলে দীপক কুমার সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধরা মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন— “চরিত্রহীন, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ রেজিস্ট্রারকে অপসারণ করো।” তাঁরা দীপক কুমার সরকারকে একজন বিতর্কিত ইসকন সদস্য বলেও দাবি করেন।

পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর অপসারণের দাবিতে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন ভুক্তভোগীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাবনায় জেলা রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ, স্মারকলিপি পেশ

আপডেট সময় : ০২:২৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

পাবনা জেলা রেজিস্ট্রার দীপক কুমার সরকারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, রাজনৈতিক পক্ষপাত ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পাবনা কোর্ট এলাকা ।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। বিক্ষুব্ধ অংশগ্রহণকারীরা এ সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়ে জেলা রেজিস্ট্রারের অপসারণ দাবি করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি দায়িত্বে থেকে দীপক কুমার সরকার দানকৃত জমির মতো পবিত্র রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াতেও ঘুষের প্রস্তাব দেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে জমি রেজিস্ট্রেশন ঘিরে উৎকোচ গ্রহণ, নারী কেলেঙ্কারি ও দলীয় আনুগত্যের অভিযোগ ওঠেছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসে চার-পাঁচ দিনের বেশি অফিসে দেখা মেলে না তার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের এই কর্মকর্তার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে বিপুল সম্পদের মালিকানা রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রীর নামে ঢাকায় দুটি অভিজাত ফ্ল্যাট, শ্বশুরের নামে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে একটি ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা সিটিতে দুটি দোকান, যমুনা ফিউচার পার্কে একটি দোকান এবং পূর্বাচলে ১৮ কাঠার একটি প্লট রয়েছে, যা তাঁর ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রিকৃত। এছাড়া তাঁর স্ত্রী ব্যবহার করেন প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি, রয়েছে টয়োটা প্রিমিও গাড়িও।

একজন জমি ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন রেজিস্ট্রার দীপক। যদিও পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আইনি ব্যবস্থা নেন, শেষপর্যন্ত আপসে সমাধান হয় বলে জানা গেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, একটি জাতীয় দৈনিকে তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে দুর্নীতির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সারা দেশের নকলনবিশদের চলমান আন্দোলনে তিনি গোপনে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ সূত্রে আরও জানা যায়, ঢাকার গুলশান-২ এর একটি বিলাসবহুল হোটেলে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে, যা তাঁর জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিষয়টি জানতে চাইলে দীপক কুমার সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধরা মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন— “চরিত্রহীন, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ রেজিস্ট্রারকে অপসারণ করো।” তাঁরা দীপক কুমার সরকারকে একজন বিতর্কিত ইসকন সদস্য বলেও দাবি করেন।

পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর অপসারণের দাবিতে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন ভুক্তভোগীরা।