ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

গোপনে দেশ ছাড়লেন নাজনীন মুন্নি, রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন বলে দাবি ঘনিষ্ঠদের

বাংলার জনতা প্রতিবেদক, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১৩২ বার পড়া হয়েছে

জুলাইয়ের ঘটনার পর একাধিক আলোচিত অভিযোগ ও ৫০০ কোটি টাকার মানহানি মামলার চাপের মধ্যে গোপনে দেশ ছেড়েছেন গ্লোবাল টিভির সাবেক উপস্থাপক নাজনীন মুন্নি। অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর নজরদারির মধ্যেও তিনি কীভাবে বিমানবন্দর অতিক্রম করলেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে ।

ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করেছে, ২ নভেম্বর রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তিনি হিজাব, বোরখা ও মাস্ক পরে দেশত্যাগ করেন। গোপনীয়ভাবে ভ্রমণ সম্পন্ন করতে তাকে কে বা কারা সহায়তা করেছে-এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে জল্পনা।

কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, গ্লোবাল টিভির মালিকপক্ষের নির্দেশে বিএনপি বিটের একজন রিপোর্টার তার যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সহায়তা করেন। এছাড়া, ইমিগ্রেশনেও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন রয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘনিষ্ঠদের বরাত দিয়ে আরও জানা যায়, আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সমালোচনা ও বিতর্কের কারণে তিনি স্বস্তিতে কাজ করতে পারছিলেন না। গ্লোবাল টিভিতে তাকে ঘিরে মালিকপক্ষের নানামুখী চাপ ও অসন্তুষ্টির কথাও তিনি ব্যক্ত করতেন বলে দাবি করেন তার পরিচিতরা।

তার গন্তব্য স্থল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না গেলেও কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ব্যর্থ হলে দেশে ফেরার ঝুঁকিও নিতে পারেন বলে ঘনিষ্ঠরা জানান। দেশ ছাড়ার পর বিমানেই নিজের ফেসবুক আইডিতে টিকিটের টাকা বাকি রেখে পালিয়ে গেলেন নাজনীন মুন্নী’ লিখে তিনি একটি পোস্টও দেন, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলছেন, দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং তাকে পালাতে সহায়তাকারীদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে, নাজনীন মুন্নিকে ঘিরে টেলিভিশন অঙ্গনে আগেও বেশ কিছু বিতর্ক ছিল। গ্লোবাল টিভির টকশো থেকে তাকে প্রত্যাহারের পর আবার একই টকশোতে তার প্রত্যাবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকের দাবি, কোনো অদৃশ্য প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তিনি স্ক্রিনে ফিরে আসেন।

নেটিজেনদের মন্তব্যেও তার বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের দাবি করেছেন।

৫০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা
নাজনীন মুন্নির বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা ৫০০ কোটি টাকার দাবি ঘিরে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ জুন ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার হোসেনের পক্ষ থেকে ডিবিসি নিউজে মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে নাজনীন মুন্নীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
এই নোটিশে ডিবিসি নিউজের সঞ্চালিকা নাজনীন মুন্নী ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তদন্ত দাবি

গ্লোবাল টিভিতে তার পুনর্বহন, মিডিয়ায় ঘনঘন বিতর্কে জড়ানো এবং শেষ পর্যন্ত গোপনে দেশত্যাগ-সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ দর্শক ও সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্নের শেষ নেই। অনেকেই মনে করছেন, তার প্রভাব, সহায়তাকারী মহল এবং তার দেশত্যাগের প্রক্রিয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গোপনে দেশ ছাড়লেন নাজনীন মুন্নি, রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন বলে দাবি ঘনিষ্ঠদের

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

জুলাইয়ের ঘটনার পর একাধিক আলোচিত অভিযোগ ও ৫০০ কোটি টাকার মানহানি মামলার চাপের মধ্যে গোপনে দেশ ছেড়েছেন গ্লোবাল টিভির সাবেক উপস্থাপক নাজনীন মুন্নি। অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর নজরদারির মধ্যেও তিনি কীভাবে বিমানবন্দর অতিক্রম করলেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে ।

ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করেছে, ২ নভেম্বর রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তিনি হিজাব, বোরখা ও মাস্ক পরে দেশত্যাগ করেন। গোপনীয়ভাবে ভ্রমণ সম্পন্ন করতে তাকে কে বা কারা সহায়তা করেছে-এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে জল্পনা।

কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, গ্লোবাল টিভির মালিকপক্ষের নির্দেশে বিএনপি বিটের একজন রিপোর্টার তার যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সহায়তা করেন। এছাড়া, ইমিগ্রেশনেও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন রয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘনিষ্ঠদের বরাত দিয়ে আরও জানা যায়, আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সমালোচনা ও বিতর্কের কারণে তিনি স্বস্তিতে কাজ করতে পারছিলেন না। গ্লোবাল টিভিতে তাকে ঘিরে মালিকপক্ষের নানামুখী চাপ ও অসন্তুষ্টির কথাও তিনি ব্যক্ত করতেন বলে দাবি করেন তার পরিচিতরা।

তার গন্তব্য স্থল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না গেলেও কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ব্যর্থ হলে দেশে ফেরার ঝুঁকিও নিতে পারেন বলে ঘনিষ্ঠরা জানান। দেশ ছাড়ার পর বিমানেই নিজের ফেসবুক আইডিতে টিকিটের টাকা বাকি রেখে পালিয়ে গেলেন নাজনীন মুন্নী’ লিখে তিনি একটি পোস্টও দেন, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলছেন, দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং তাকে পালাতে সহায়তাকারীদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে, নাজনীন মুন্নিকে ঘিরে টেলিভিশন অঙ্গনে আগেও বেশ কিছু বিতর্ক ছিল। গ্লোবাল টিভির টকশো থেকে তাকে প্রত্যাহারের পর আবার একই টকশোতে তার প্রত্যাবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকের দাবি, কোনো অদৃশ্য প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তিনি স্ক্রিনে ফিরে আসেন।

নেটিজেনদের মন্তব্যেও তার বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের দাবি করেছেন।

৫০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা
নাজনীন মুন্নির বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা ৫০০ কোটি টাকার দাবি ঘিরে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ জুন ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার হোসেনের পক্ষ থেকে ডিবিসি নিউজে মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে নাজনীন মুন্নীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
এই নোটিশে ডিবিসি নিউজের সঞ্চালিকা নাজনীন মুন্নী ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তদন্ত দাবি

গ্লোবাল টিভিতে তার পুনর্বহন, মিডিয়ায় ঘনঘন বিতর্কে জড়ানো এবং শেষ পর্যন্ত গোপনে দেশত্যাগ-সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ দর্শক ও সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্নের শেষ নেই। অনেকেই মনে করছেন, তার প্রভাব, সহায়তাকারী মহল এবং তার দেশত্যাগের প্রক্রিয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রয়োজন।