ঈশ্বরদীতে সাজ অটো রাইস মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অবস্থান কর্মসূচি
- আপডেট সময় : ০৭:৪২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ১২৯ বার পড়া হয়েছে
ব্যাবসায়িক প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতিবাদ করায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী সহ একাধিক অভিযোগ এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক (রাজশাহী শাখা) শাহানাজ বেগম ও তার স্বামী সাজ অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ উল্লাহ সরকারের বিচারের দাবীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী সহ স্থানীয়রা|
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকায় অবস্থিত সাজ রাইস মিলের সামনে প্রায় দু’ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়| খবর পরে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন|
এসময় বিক্ষোভকারীরা পাওনা টাকা ফেরত সহ অভিযুক্ত শাহানাজ বেগম ও তার স্বামী শহীদ উল্লাহ সরকারের শাস্তি দাবী জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন|
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বেশ কয়েক বছর আগে ঈশ্বরদীর মুলাডুলির শেখপাড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাজ অটো রাইস মিল নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের (এসএমই শাখার) উপ-পরিচালক শাহানাজ বেগম ও তার স্বামী শহীদ উল্লাহ সরকার| সেসময় স্থানীয় ব্যবসায়ী শুকুর হাজী, নাজিম উদ্দিন , আব্দুল মান্নান ডাবলু সহ বেশ কয়েকজনকে অংশীদার রাখা সহ নানা শর্তে নগদ প্রায় এক কোটি টাকা নেন| এর মধ্যে শুকুর হাজীকে মিল ভাড়া দেওয়ার নামে নগদ ৭২ লক্ষ টাকা নেন শাহানাজ ও শহীদুল্লাহ সরকার|

এর কিছুদিন পরেই শুকুর হাজী সহ সবাইকে জোর পূর্বক মিল থেকে বের করে দেন অভিযুক্ত শাহানাজ ও শহিদুল্লাহ সরকার| একপর্যায়ে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে একে একে সকলের নামে দেওয়া হয় চাঁদাবাজির মামলা| বিভিন্ন সময় ভাড়াটি সন্ত্রাসী দিয়ে দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি|
ভুক্তভোগীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়েরসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে| অবিলম্বে সাজ অটো রাইস মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা|এছাড়া ৭২ লাখ টাকার চুক্তিতে রাইস মিল ভাড়া দেওয়ার পর ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা|
মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে বক্তারা সাজ অটো রাইস মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের পাওনা অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি জানান|
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ পরিচালক শাহানাজ বেগম| তার ভাষ্য, তাদের নিকট থেকে কেউ কোন টাকা পাবে না| বরং সামাজিকভাবে হেও প্রতিপন্ন করতে তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের চক্রান্ত করা হচ্ছে| এসময় প্রতিবেদককে মুঠোফোনে আপাতত সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও করেন তিনি|
তবে এ বিষয়ে জানতে অপর অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে ও খুদেবার্তা পাঠিয়েও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি|
নাজিমুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম মুন্সী, রাসেল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ দিয়ে হয়রানিও করেন এই দম্পতি|




















