ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে ৫৫ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কালীগঞ্জের শিশু তাবাসসুম ধর্ষন ও হত্যা মামলা আসামীর ফাঁসির আদেশ ও পাঁচ লাখ টাকার জরিমানা এ্যাড ভিশন বাংলাদেশ’র বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান সম্পন্ন নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে পানিতে মিলল ছোট্ট শিশু সেঁজুতির লাশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ জামালগঞ্জে কারিতাস বাংলাদেশের উদ্যোগে উন্নয়ন সহযোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ আসন্ন আটগাঁও ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন আলী আমজাদ তালুকদার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ঝিনাই নদীতে ৩০০ মিটার চায়না জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ভস্মীভূত মাদকমুক্ত ফুলবাড়ী গড়তে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস ছালাম (সুজা)-এর পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা

কালীগঞ্জের শিশু তাবাসসুম ধর্ষন ও হত্যা মামলা আসামীর ফাঁসির আদেশ ও পাঁচ লাখ টাকার জরিমানা

মোঃ হামিদুজ্জামান জলির স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বেলা ১১.৫০ টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এই আলোচিত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত আসামিকে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এই টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যার পর লাশ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ১১৬ দিনের (৩ মাস ২৬ দিন) মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা হলো, যা ঝিনাইদহের আদালতে এক অনন্য নজির। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুম মূলত মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। তবে শিশুটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মাতা হালিমা খাতুন বেসরকারি সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ কর্মরত আছেন।

আদালত ও মামলায় রায় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।

ঘটনার পরদিনই পুলিশ আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে এবং তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তাবাসসুম হত্যা মামলার দতন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন। গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহন এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ সোমবার রায় ঘোষনার দিন ধার্য্য করে আদালত।

সরকার পক্ষে পিপি অ্যাড আকিদুল ইসলাম ও আসামি পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন। মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার পক্ষের আইনজীবী এ্যাড আকিদুল ইসলাম জানান, “মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ হলো।” অন্যদিকে, শিশু তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কালীগঞ্জের শিশু তাবাসসুম ধর্ষন ও হত্যা মামলা আসামীর ফাঁসির আদেশ ও পাঁচ লাখ টাকার জরিমানা

আপডেট সময় : ০৪:১৭:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বেলা ১১.৫০ টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এই আলোচিত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত আসামিকে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এই টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যার পর লাশ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ১১৬ দিনের (৩ মাস ২৬ দিন) মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা হলো, যা ঝিনাইদহের আদালতে এক অনন্য নজির। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুম মূলত মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। তবে শিশুটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মাতা হালিমা খাতুন বেসরকারি সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ কর্মরত আছেন।

আদালত ও মামলায় রায় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।

ঘটনার পরদিনই পুলিশ আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে এবং তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তাবাসসুম হত্যা মামলার দতন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন। গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহন এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ সোমবার রায় ঘোষনার দিন ধার্য্য করে আদালত।

সরকার পক্ষে পিপি অ্যাড আকিদুল ইসলাম ও আসামি পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন। মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার পক্ষের আইনজীবী এ্যাড আকিদুল ইসলাম জানান, “মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ হলো।” অন্যদিকে, শিশু তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।