নওগাঁয় ডাবের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার অটোরিকশা
- আপডেট সময় : ০৩:৫১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ১০৮ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁ জেলা পুলিশের সফল অভিযানে ডাবের পানিতে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাইকারী আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একাধিক মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, ঘুমের ওষুধ এবং ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ব্যক্তি নওগাঁ সদর হাসপাতালের রোগী দেখানোর কথা বলে একটি অটোরিকশা ভাড়া করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর আরও দুই ব্যক্তি নিজেদের নবজাতক সন্তানের জন্ম উপলক্ষে মিষ্টি খাওয়ানোর অভিনয় করে চালকের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। পরে তারা চালককে একটি ডাবের পানি পান করতে দেয়, যাতে আগে থেকেই চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে রাখা হয়েছিল।
ডাবের পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই অটোরিকশা চালক অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সুযোগ বুঝে প্রতারকরা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত নওগাঁ সদর থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, অপরাধীদের তথ্যভাণ্ডার, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে নওগাঁ সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ বিশেষ দল বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় টানা ১৮ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে ১২ জুলাই চারজনকে গ্রেফতার করে। ১৩ জুলাই তাদের নওগাঁ জেলায় নিয়ে আসা হয়। একই সঙ্গে গাইবান্ধা থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন: ১. ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), বুড়িচং, কুমিল্লা, ২. হুমায়ুন কবির (৫০), বরগুনা সদর, বরগুনা, ৩. খাজা মিয়া (৫৬), শাহজাহানপুর, বগুড়া, ৪. আব্দুল গফুর (৪১), গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা
জব্দকৃত আলামত: ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, একটি পালসার মোটরসাইকেল, ৮টি মোবাইল ফোন, নগদ ১১ হাজার ৪৩০ টাকা, ১০টি রিবোট্রিল (ঘুমের) ট্যাবলেট।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ জানায়, প্রধান দুই আসামি ইব্রাহীম ও হুমায়ুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ডাবের পানিতে ঘুমের ওষুধ বা চেতনানাশক মিশিয়ে মানুষকে অজ্ঞান করে টাকা-পয়সা ও যানবাহন ছিনিয়ে নেওয়ার মতো প্রতারণামূলক অপরাধ করে আসছিল।
অপর দুই আসামি খাজা মিয়া ও আব্দুল গফুর সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তারা সম্পর্কে শ্যালক-দুলাভাই এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া যানবাহন ও অন্যান্য সম্পদ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




















