নওগাঁয় আর্জেন্টিনাকে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, বিচার দাবিতে বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁ সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৭ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম, তিনি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় চলাকালে চতুর্থ শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের মধ্যে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক গান গাইছিল। এমন সময় সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে একটি বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন এ ঘটনায় আহত হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থী রয়েছে।
ঘটনার পর সন্ধ্যায় বিদ্যালয়সংলগ্ন নারচী মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, শিক্ষক আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। তারা কয়েকজন ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে গান গাওয়ার পর শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মারধর করেন। একই শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীও একই ধরনের অভিযোগ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করব।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, বিদ্যালয় ছুটির পর ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি পরে জানতে পেরেছেন। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে বিষয়টি শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করা হবে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ছানাউল হাবিব বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”















