ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান

আত্রাই নদী বাঁচুক, বাঁচুক আমাদের ভবিষ্যৎ মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, নওগাঁ

মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে

আমি দাঁড়িয়ে আছি নওগাঁ জেলার ঐতিহ্যবাহী আত্রাই নদীর তীরে। আত্রাই নদী বাংলাদেশ ও ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী। বরেন্দ্র অঞ্চলের জনজীবন, কৃষি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে এই নদীর সম্পর্ক শতাব্দীপ্রাচীন। তিস্তা নদীর একটি প্রধান শাখা হিসেবে আত্রাই দীর্ঘকাল ধরে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রাণপ্রবাহ হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।

নদীটির উৎপত্তি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার একটি জলাভূমি থেকে। বাংলাদেশে এটি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করে দিনাজপুর ও নওগাঁ অতিক্রম করে পুনরায় ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রবেশ করে। পরে নওগাঁর ধামইরহাট দিয়ে আবার বাংলাদেশে ফিরে নাটোরের চলনবিল অতিক্রম করে বাঘাবাড়ির কাছে যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে। নদীটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার, যার মধ্যে বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার।

রবীন্দ্র গবেষকদের অনেকেই মনে করেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা “আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে” নওগাঁর পতিসরের নাগর নদীকে কেন্দ্র করে রচিত, যা আত্রাই নদীর একটি উপনদী। যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে, তবুও আত্রাই অববাহিকার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারত-এ আত্রাই নদী ‘আত্রেয়ী’ নামে একটি পবিত্র নদী হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সভ্যতার ধারক হিসেবে এই নদীর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

আত্রাই নদীর নাম থেকেই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নামকরণ হয়েছে। যুগের পর যুগ এই নদী এলাকার মানুষের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌ-যোগাযোগ এবং জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়া, পলি জমা, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ডের কারণে আজ তার স্বাভাবিক প্রবাহ অনেকটাই হারিয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদীর অনেক অংশে পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; এটি একটি দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, কৃষি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ধারক। মানুষের শরীর যেমন শিরা-উপশিরার মাধ্যমে সচল থাকে, তেমনি বাংলাদেশের শত শত নদী আমাদের প্রকৃতি ও জনজীবনকে সচল রাখে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য নদীর গুরুত্ব অপরিসীম।

নদী রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। আসুন, আমরা সবাই মিলে আত্রাই নদীকে দখল, দূষণ ও অবক্ষয় থেকে রক্ষা করি। একটি জীবন্ত নদী মানেই একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ। আত্রাই নদী বাঁচলে বাঁচবে প্রকৃতি, বাঁচবে কৃষি, বাঁচবে উত্তরাঞ্চলের জনজীবন এবং নিশ্চিত হবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই নওগাঁ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আত্রাই নদী বাঁচুক, বাঁচুক আমাদের ভবিষ্যৎ মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, নওগাঁ

আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আমি দাঁড়িয়ে আছি নওগাঁ জেলার ঐতিহ্যবাহী আত্রাই নদীর তীরে। আত্রাই নদী বাংলাদেশ ও ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী। বরেন্দ্র অঞ্চলের জনজীবন, কৃষি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে এই নদীর সম্পর্ক শতাব্দীপ্রাচীন। তিস্তা নদীর একটি প্রধান শাখা হিসেবে আত্রাই দীর্ঘকাল ধরে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রাণপ্রবাহ হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।

নদীটির উৎপত্তি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার একটি জলাভূমি থেকে। বাংলাদেশে এটি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করে দিনাজপুর ও নওগাঁ অতিক্রম করে পুনরায় ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রবেশ করে। পরে নওগাঁর ধামইরহাট দিয়ে আবার বাংলাদেশে ফিরে নাটোরের চলনবিল অতিক্রম করে বাঘাবাড়ির কাছে যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে। নদীটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার, যার মধ্যে বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার।

রবীন্দ্র গবেষকদের অনেকেই মনে করেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা “আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে” নওগাঁর পতিসরের নাগর নদীকে কেন্দ্র করে রচিত, যা আত্রাই নদীর একটি উপনদী। যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে, তবুও আত্রাই অববাহিকার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারত-এ আত্রাই নদী ‘আত্রেয়ী’ নামে একটি পবিত্র নদী হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সভ্যতার ধারক হিসেবে এই নদীর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

আত্রাই নদীর নাম থেকেই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নামকরণ হয়েছে। যুগের পর যুগ এই নদী এলাকার মানুষের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌ-যোগাযোগ এবং জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়া, পলি জমা, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ডের কারণে আজ তার স্বাভাবিক প্রবাহ অনেকটাই হারিয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদীর অনেক অংশে পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; এটি একটি দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, কৃষি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ধারক। মানুষের শরীর যেমন শিরা-উপশিরার মাধ্যমে সচল থাকে, তেমনি বাংলাদেশের শত শত নদী আমাদের প্রকৃতি ও জনজীবনকে সচল রাখে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য নদীর গুরুত্ব অপরিসীম।

নদী রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। আসুন, আমরা সবাই মিলে আত্রাই নদীকে দখল, দূষণ ও অবক্ষয় থেকে রক্ষা করি। একটি জীবন্ত নদী মানেই একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ। আত্রাই নদী বাঁচলে বাঁচবে প্রকৃতি, বাঁচবে কৃষি, বাঁচবে উত্তরাঞ্চলের জনজীবন এবং নিশ্চিত হবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই নওগাঁ।