ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান

ধামইরহাটে মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় প্রধান বাধা দরিদ্রতা

মোঃ নুরুল ইসলাম ধামইরহাট, নওগাঁ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

নওগাঁর ধামইরহাটে মেধাবী এক শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় প্রধান বাধা হয়ে দাড়িয়েছে পরিবারের দরিদ্রতা। দরিদ্র এই মেধাবী শিক্ষার্থী উপজেলার সীমান্তবর্তী ৩৩ নম্বর বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. সাবিরা আক্তার। তার বাবা একজন দিন মজুর।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকক জানান, তার বিদ্যালয়ের মাত্র ৩ জন শিক্ষক হলেও চলতি প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নে সাবিরা আক্তার বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে। পড়ালেখায় খুব ভালো শিক্ষার্থী হলেও তার পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এক পশলা ভারী বর্ষণেই বৃষ্টির পানি তার শোবার ঘরের দরজায় দিয়ে ঠেকে। বন্যার আতঙ্ক, দারিদ্র্য, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এসবই তার নিত্যসঙ্গী। ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস হলেও । তার জ্ঞান অর্জনের দৌড় থেমে যায়নি। বৃষ্টি-কাঁদায় ভিজে প্রতিদিন সংগ্রাম করেই আসতে হয় স্কুলে,। সে বিশ্বাস করে শিক্ষাই তার জীবন বদলানোর একমাত্র পথ।

কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন, খালি পেটে স্বপ্ন দেখা সহজ হলেও বাস্তবতা বড়ই কঠিন ও নিষ্ঠুর। ভালো আহার, শান্ত পরিবেশ, পড়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা ছাড়া মেধাকে টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। তবুও মেয়েটি লড়ছে।

এই লড়াই চালিয়ে যেতে যে সাহস, যে তেজ, যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি লাগে তা অনেক সচ্ছল মানুষের মধ্যেও দেখা যায় না। আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও তাকে যতটুকু সহায়তা দেওয়া উচিত, ততটা দিতে পারছি না। এত বছর পরও শিক্ষক সংখ্যা বাড়েনি, অথচ দায়িত্ব ও শিক্ষার্থীর চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী এই মেয়েটির কাছে আধুনিক প্রযুক্তিও প্রায় অধরা।

অনলাইন শিক্ষা, টেন মিনিট স্কুল কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেগুলো অনেকের কাছে খুব সহজলভ্য, তার কাছে সেগুলোও বিলাসিতা। স্মার্টফোন, নিয়মিত ইন্টারনেট বা অতিরিক্ত খরচ এসব বহন করার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই তার এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার গল্প নয়, এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক নীরব বিজয়ের গল্প।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতিকুর রহমান বলেন,‘ বাংলাদেশের হাজারো প্রত্যন্ত গ্রামের এমন অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী আছে, অনেক সময় তারা অর্থ ও সুযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ে, তবে মেধাবী শিক্ষার্থী সাবিরা আক্তারকে উপজেলার প্রশাসনের সহায়তায় সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হবে। আর শিক্ষক স্বল্পতার সত্যতা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক ডেপুটেশনের জন্য জেলায় তালিকা পাঠানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহেই শিক্ষক সংকট কেটে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ধামইরহাটে মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় প্রধান বাধা দরিদ্রতা

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

নওগাঁর ধামইরহাটে মেধাবী এক শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় প্রধান বাধা হয়ে দাড়িয়েছে পরিবারের দরিদ্রতা। দরিদ্র এই মেধাবী শিক্ষার্থী উপজেলার সীমান্তবর্তী ৩৩ নম্বর বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. সাবিরা আক্তার। তার বাবা একজন দিন মজুর।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকক জানান, তার বিদ্যালয়ের মাত্র ৩ জন শিক্ষক হলেও চলতি প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নে সাবিরা আক্তার বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে। পড়ালেখায় খুব ভালো শিক্ষার্থী হলেও তার পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এক পশলা ভারী বর্ষণেই বৃষ্টির পানি তার শোবার ঘরের দরজায় দিয়ে ঠেকে। বন্যার আতঙ্ক, দারিদ্র্য, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এসবই তার নিত্যসঙ্গী। ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস হলেও । তার জ্ঞান অর্জনের দৌড় থেমে যায়নি। বৃষ্টি-কাঁদায় ভিজে প্রতিদিন সংগ্রাম করেই আসতে হয় স্কুলে,। সে বিশ্বাস করে শিক্ষাই তার জীবন বদলানোর একমাত্র পথ।

কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন, খালি পেটে স্বপ্ন দেখা সহজ হলেও বাস্তবতা বড়ই কঠিন ও নিষ্ঠুর। ভালো আহার, শান্ত পরিবেশ, পড়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা ছাড়া মেধাকে টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। তবুও মেয়েটি লড়ছে।

এই লড়াই চালিয়ে যেতে যে সাহস, যে তেজ, যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি লাগে তা অনেক সচ্ছল মানুষের মধ্যেও দেখা যায় না। আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও তাকে যতটুকু সহায়তা দেওয়া উচিত, ততটা দিতে পারছি না। এত বছর পরও শিক্ষক সংখ্যা বাড়েনি, অথচ দায়িত্ব ও শিক্ষার্থীর চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী এই মেয়েটির কাছে আধুনিক প্রযুক্তিও প্রায় অধরা।

অনলাইন শিক্ষা, টেন মিনিট স্কুল কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেগুলো অনেকের কাছে খুব সহজলভ্য, তার কাছে সেগুলোও বিলাসিতা। স্মার্টফোন, নিয়মিত ইন্টারনেট বা অতিরিক্ত খরচ এসব বহন করার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই তার এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার গল্প নয়, এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক নীরব বিজয়ের গল্প।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতিকুর রহমান বলেন,‘ বাংলাদেশের হাজারো প্রত্যন্ত গ্রামের এমন অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী আছে, অনেক সময় তারা অর্থ ও সুযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ে, তবে মেধাবী শিক্ষার্থী সাবিরা আক্তারকে উপজেলার প্রশাসনের সহায়তায় সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হবে। আর শিক্ষক স্বল্পতার সত্যতা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক ডেপুটেশনের জন্য জেলায় তালিকা পাঠানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহেই শিক্ষক সংকট কেটে যাবে।