ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল ঈশ্বরদীতে সারের ডিলার বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন,তদন্তের দাবী ঈশ্বরদীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু কাঁঠালিয়ায় ১০ হাজার মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস দুর্গাপূজায় যশোর জেলা বিএনপির ২৫ সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের দামুড়হুদায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে পুকুর খনন রাজশাহী মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণ তাজমিন হত্যা: কথিত প্রেমিক রাজুকে কুমিল্লা পুলিশের কাছে হস্তান্তর

পঞ্চগড়ের বোদায় বিদ্যুৎ বিল বাকী থাকায় স্কুলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৫৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ১১৭ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের লালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।

এতে তীব্র গরমের মধ্যে চরম দুর্ভোগে পড়েছে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ হয়ে যায় শ্রেণিকক্ষের ফ্যান ও পানির ব্যবস্থা। অন্যদিকে বিদ্যালয়ে নলকূপ না থাকায় দেখা দেয় তীব্র পানি সংকট। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। এ কারণে গত ২৩ জুন বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপর থেকে শ্রেণিকক্ষের ফ্যান বন্ধ থাকায় অসহনীয় গরমে পাঠদান ব্যাহত হতে থাকে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদাত হোসেন সাগর বলে, আমাদের স্কুলে কারেন্ট নেই। খুব গরম লাগে। আমরা অসুস্থ হয়ে যেতে পারি। স্যারদের বলেছি কারেন্ট দেওয়ার জন্য, কিন্তু এখনও হয়নি।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা মনি বলে, কারেন্ট না থাকায় ফ্যান চলে না, লাইটও নেই। ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হয়।

সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে পানির সংকটে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো নলকূপ নেই। আগে একটি টিউবওয়েল থাকলেও প্রায় তিন বছর আগে সেটি চুরি হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য বাইরে থেকে খাবার পানি এনে সরবরাহ করতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি থেকেই পানির বোতল নিয়ে স্কুলে আসছে। পানির অভাবে বিদ্যালয়ের টয়লেটও কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মনির বাবা বশিরুল আলম বলেন, কারেন্ট না থাকার কারণে বাচ্চারা গরমে ক্লাসে থাকতে চায় না। বাড়িতে ফ্যানের নিচে থাকে, আর স্কুলে এসে ফ্যানও নেই, পানি নেই। অনেক সময় বাইরে বসে থাকতে হয়। এজন্য স্কুলে আসার আগ্রহও কমে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ কেটে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই গরমে যখন বড়রাই কষ্টে আছি, তখন ছোট ছোট বাচ্চারা কীভাবে শ্রেণিকক্ষে থাকবে?

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইয়েমা বেগম বলেন, বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। আমরা বাইরে থেকে পানি এনে শিক্ষার্থীদের পান করার ব্যবস্থা করছি। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে প্রচণ্ড গরম, এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সবারই কষ্ট হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৬ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। স্কুল ছুটির পর আমাদের অগোচরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ করে সংযোগ পুনরায় চালুর চেষ্টা করছি।” তিনি আরও জানান, “খাবার পানির বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। টয়লেট ব্যবহারের জন্যও বাইরে থেকে পানি এনে রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী মিঞা বলেন, এতদিন ধরে কেন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল, তা তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, ২৬ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে বিদ্যালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যালয়ের সংযোগ পুনরায় চালু করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পঞ্চগড়ের বোদায় বিদ্যুৎ বিল বাকী থাকায় স্কুলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট সময় : ০২:৫৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের লালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।

এতে তীব্র গরমের মধ্যে চরম দুর্ভোগে পড়েছে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ হয়ে যায় শ্রেণিকক্ষের ফ্যান ও পানির ব্যবস্থা। অন্যদিকে বিদ্যালয়ে নলকূপ না থাকায় দেখা দেয় তীব্র পানি সংকট। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। এ কারণে গত ২৩ জুন বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপর থেকে শ্রেণিকক্ষের ফ্যান বন্ধ থাকায় অসহনীয় গরমে পাঠদান ব্যাহত হতে থাকে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদাত হোসেন সাগর বলে, আমাদের স্কুলে কারেন্ট নেই। খুব গরম লাগে। আমরা অসুস্থ হয়ে যেতে পারি। স্যারদের বলেছি কারেন্ট দেওয়ার জন্য, কিন্তু এখনও হয়নি।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা মনি বলে, কারেন্ট না থাকায় ফ্যান চলে না, লাইটও নেই। ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হয়।

সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে পানির সংকটে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো নলকূপ নেই। আগে একটি টিউবওয়েল থাকলেও প্রায় তিন বছর আগে সেটি চুরি হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য বাইরে থেকে খাবার পানি এনে সরবরাহ করতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি থেকেই পানির বোতল নিয়ে স্কুলে আসছে। পানির অভাবে বিদ্যালয়ের টয়লেটও কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মনির বাবা বশিরুল আলম বলেন, কারেন্ট না থাকার কারণে বাচ্চারা গরমে ক্লাসে থাকতে চায় না। বাড়িতে ফ্যানের নিচে থাকে, আর স্কুলে এসে ফ্যানও নেই, পানি নেই। অনেক সময় বাইরে বসে থাকতে হয়। এজন্য স্কুলে আসার আগ্রহও কমে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ কেটে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই গরমে যখন বড়রাই কষ্টে আছি, তখন ছোট ছোট বাচ্চারা কীভাবে শ্রেণিকক্ষে থাকবে?

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইয়েমা বেগম বলেন, বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। আমরা বাইরে থেকে পানি এনে শিক্ষার্থীদের পান করার ব্যবস্থা করছি। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে প্রচণ্ড গরম, এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সবারই কষ্ট হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৬ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। স্কুল ছুটির পর আমাদের অগোচরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ করে সংযোগ পুনরায় চালুর চেষ্টা করছি।” তিনি আরও জানান, “খাবার পানির বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। টয়লেট ব্যবহারের জন্যও বাইরে থেকে পানি এনে রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী মিঞা বলেন, এতদিন ধরে কেন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল, তা তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, ২৬ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে বিদ্যালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যালয়ের সংযোগ পুনরায় চালু করেছে।