ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান

বর্ষায় হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে স্কুলে যায় ১৩২ শিক্ষার্থী, চরম দুর্ভোগে বদলগাছীর গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ষা মৌসুম এলেই শুরু হয় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে, কাঁধে স্কুলব্যাগ ও হাতে জুতা নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে ১৩২ জন শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে বাড়ি ফিরছে। কারও পোশাক ভিজে গেছে, কারও হাত-পা কাদায় মাখামাখি। বই-খাতা ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই ব্যাগ মাথার ওপর তুলে কিংবা কাঁধে ঝুলিয়ে পানি অতিক্রম করছে। ছোট ছোট শিশুদের এমন দুর্ভোগের দৃশ্য স্থানীয়দেরও ব্যথিত করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি কোনো দুর্গম হাওর বা চরাঞ্চল নয়; উপজেলা সদর থেকেও বিদ্যালয়টির দূরত্ব খুব বেশি নয়। এরপরও প্রতি বর্ষায় শিক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করায় বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভাষ্য, কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুধু যাতায়াতের রাস্তা নয়, বিদ্যালয়ের পুকুরসংলগ্ন একটি ভবনও বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে ভবনটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যালয়ে যাওয়ার সড়ক উঁচু করে নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বর্ষায় হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে স্কুলে যায় ১৩২ শিক্ষার্থী, চরম দুর্ভোগে বদলগাছীর গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট সময় : ১১:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ষা মৌসুম এলেই শুরু হয় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে, কাঁধে স্কুলব্যাগ ও হাতে জুতা নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে ১৩২ জন শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে বাড়ি ফিরছে। কারও পোশাক ভিজে গেছে, কারও হাত-পা কাদায় মাখামাখি। বই-খাতা ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই ব্যাগ মাথার ওপর তুলে কিংবা কাঁধে ঝুলিয়ে পানি অতিক্রম করছে। ছোট ছোট শিশুদের এমন দুর্ভোগের দৃশ্য স্থানীয়দেরও ব্যথিত করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি কোনো দুর্গম হাওর বা চরাঞ্চল নয়; উপজেলা সদর থেকেও বিদ্যালয়টির দূরত্ব খুব বেশি নয়। এরপরও প্রতি বর্ষায় শিক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করায় বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভাষ্য, কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুধু যাতায়াতের রাস্তা নয়, বিদ্যালয়ের পুকুরসংলগ্ন একটি ভবনও বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে ভবনটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যালয়ে যাওয়ার সড়ক উঁচু করে নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।