ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান

শহর এখন ‘ময়লার ভাগাড়’, দুর্গন্ধেই অতিষ্ঠ জনজীবন

সাধন সাহা জয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

​‘আর কইয়েন না, সারাডা শহরে গন্ধ আর গন্ধ। নাক চাইপ্পা চলন লাগে।’ কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের রিকশাচালক হারুণ মিয়া।

পৌর এলাকার মেড্ডায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র গন্ধে নাক চেপে ধরেন তিনি। শুধু হারুণ নন, শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ছড়িয়ে পড়া পচা গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক, রেলপথ কিংবা নৌপথ—যে পথেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে প্রবেশ করা হোক না কেন, পর্যটক ও নগরবাসীকে স্বাগত জানাচ্ছে ময়লার স্তূপ।

শহরের কাউতলী এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অদূরে, রেলস্টেশন এলাকা থেকে শহরমুখী পথে, এমনকি নৌপথের প্রবেশদ্বার গোকর্ণঘাটেও রয়েছে বিশাল ময়লার ভাগাড়।

​শহরের ব্যস্ততম টিএ রোডের মঠের গোড়া, হালদারপাড়া, মৌলভীপাড়া, মধ্যপাড়া, পাইকপাড়া ও শিমরাইলকান্দিসহ অন্তত অর্ধশত স্থানে ময়লার স্তূপ এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করায় এসব স্থান থেকে অসহ্য দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।

মেড্ডার বাসিন্দা চয়ন বিশ্বাস বলেন, ‘ঘর থেকে বের হলেই ময়লা চোখে পড়ে। আগে থেকেই শ্বাস বন্ধ করে এসব এলাকা পার হই। নাকে দুর্গন্ধ লাগলে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।’

​পৌরসভার বর্জ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াটি অনিয়মিত হওয়ায় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন। আর সেই ময়লা জমে দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
​
নদী, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার উপায় নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

সড়ক থেকে ময়লা ড্রেনে গিয়ে মেড্ডা, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি করছে।’ তিনি জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লোকবল সংকট ও গাড়ির অভাবের অজুহাত দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপসচিব শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজেই কিছু এলাকার বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি তদারকি করছি। মূলত জনবল সংকট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বর্জ্য বাড়ছে, কিন্তু আমাদের সক্ষমতা সীমিত।’ তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

​শহরের পরিবেশ রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শহর এখন ‘ময়লার ভাগাড়’, দুর্গন্ধেই অতিষ্ঠ জনজীবন

আপডেট সময় : ১০:০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

​‘আর কইয়েন না, সারাডা শহরে গন্ধ আর গন্ধ। নাক চাইপ্পা চলন লাগে।’ কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের রিকশাচালক হারুণ মিয়া।

পৌর এলাকার মেড্ডায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র গন্ধে নাক চেপে ধরেন তিনি। শুধু হারুণ নন, শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ছড়িয়ে পড়া পচা গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক, রেলপথ কিংবা নৌপথ—যে পথেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে প্রবেশ করা হোক না কেন, পর্যটক ও নগরবাসীকে স্বাগত জানাচ্ছে ময়লার স্তূপ।

শহরের কাউতলী এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অদূরে, রেলস্টেশন এলাকা থেকে শহরমুখী পথে, এমনকি নৌপথের প্রবেশদ্বার গোকর্ণঘাটেও রয়েছে বিশাল ময়লার ভাগাড়।

​শহরের ব্যস্ততম টিএ রোডের মঠের গোড়া, হালদারপাড়া, মৌলভীপাড়া, মধ্যপাড়া, পাইকপাড়া ও শিমরাইলকান্দিসহ অন্তত অর্ধশত স্থানে ময়লার স্তূপ এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করায় এসব স্থান থেকে অসহ্য দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।

মেড্ডার বাসিন্দা চয়ন বিশ্বাস বলেন, ‘ঘর থেকে বের হলেই ময়লা চোখে পড়ে। আগে থেকেই শ্বাস বন্ধ করে এসব এলাকা পার হই। নাকে দুর্গন্ধ লাগলে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।’

​পৌরসভার বর্জ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াটি অনিয়মিত হওয়ায় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন। আর সেই ময়লা জমে দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
​
নদী, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার উপায় নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

সড়ক থেকে ময়লা ড্রেনে গিয়ে মেড্ডা, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি করছে।’ তিনি জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লোকবল সংকট ও গাড়ির অভাবের অজুহাত দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপসচিব শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজেই কিছু এলাকার বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি তদারকি করছি। মূলত জনবল সংকট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বর্জ্য বাড়ছে, কিন্তু আমাদের সক্ষমতা সীমিত।’ তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

​শহরের পরিবেশ রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।