একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সীতাকুণ্ডে সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের উদ্বোধন
- আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ৩০২ বার পড়া হয়েছে
আগস্ট বিপ্লবকে অর্থবহ ও মজবুত ভিত্তি দিতে এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জ্ঞান ও বুদ্ধিভিত্তিক সমাজ গঠনে পাঠাগার অদ্বিতীয় ও অন্যতম মাধ্যম পরিলক্ষিত হওয়ায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার সময় উপজেলার ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁকখালী এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে উক্ত সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়।
পশ্চিম বাঁকখালী ৫নং ওয়ার্ড জামায়াত ইসলামীর সভাপতি নুরুল করিম আরমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সীতাকুণ্ড উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাষ্টার কাজী নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে পাঠাগারের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটিয়ে বাংলাদেশের আকাশকে কালো মেঘমুক্ত করেছে ছাত্র-জনতা। আমরা আগামী দিনেও যেকোন জালিমের মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত। আর আমরা এই ঐতিহাসিক বিজয়কে কোন ভাবেই ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। তাই আমাদেরকে এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। দেশে গণতন্ত্র ,গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বৈরাচার সৃষ্ট সকল জঞ্জালমুক্ত করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য দেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার। সবার আগে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। এজন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কোন বিকল্প নেই। এই ঐক্যের মানদন্ড হবে কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শ। মানবরচিত মতবাদ কখনো মানুষের জন্য কল্যাণকর হয় না। তাই দেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র, অপশাসন ও দুঃশাসন মুক্ত করতে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প। তিনি দেশে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
তিনি বলেন, আগস্ট বিপ্লবের বিজয়কে ব্যর্থ করার জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র চলছে। তাই এই বিপ্লবকে ধরে রাখার জন্য সকলকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। কেউ শান্তি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমরা দেশ, দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা, ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় এবং দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মান রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধ পরিকর। স্বৈরাচারী শক্তি ও তাদের প্রতিভূদের ক্ষেত্রে কোন প্রকার দুর্বলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে পাঠাগার ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারে। ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলেই এই পাঠাগারের পাঠক হবেন এবং তারা আত্মগঠন ও দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল প্রকার অপশক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে শপথ গ্রহণ করবেন। এক্ষেত্রে পাঠাগার হবে মাইলফলক। তিনি জ্ঞানভিত্তিক আলোকিত সমাজ গঠনে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা জামায়াত ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কুতুব উদ্দিন শিবলী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি সাজিদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি এডভোকেট এইচ এম আশরাফ।
অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দপুর ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর আমীর ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহমান, ৪নং ওয়ার্ড জামায়াত ইসলামীর সভাপতি মাষ্টার ওয়ারেতুল্লাহ, ৬নং ওয়ার্ড জামায়াত ইসলামীর সভাপতি মোহাম্মদ মামুনসহ আলেম, পেশাজীবি, শ্রমজীবি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ।















