ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান

কটিয়াদীতে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও সহযোগী গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পুলিশি অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ।

​বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরঝাকালিয়া গ্রামের (স্বনির্ভর মোড়) এলাকায় এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

আটককৃতরা হলেন— চরঝাকালিয়া গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিনের ছেলে ও এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি মো. শামীম মিয়া (৩৫) এবং একই গ্রামের মো. আরমান মিয়া (২০)।

​অভিযানকালে শীর্ষ মাদক কারবারি শামীমের বসত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র, ১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

​কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিখুঁত অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে মাদকের ভয়াবহতা রুখতে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ (শূণ্য সহনশীলতা) নীতি অবলম্বন করছে। মাদকের মূল উৎপাটন করতে সরকার কেবল প্রশাসনিক অ্যাকশনই নয়, বরং আইনি কাঠামোকেও ঢেলে সাজাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মাদকবিরোধী আইন সংশোধন করে অপরাধীদের জন্য আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই কঠোর আইনের ফলে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

​অভিযান শেষে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঙ্কার দিয়ে বলেন:
​”মাদকের মরণছোবল থেকে আমাদের যুবসমাজ ও সমাজকে রক্ষা করতে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে এবং সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদে মাদক আইন সংশোধন করে আরও কঠোর আইন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে কটিয়াদী থানা পুলিশও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমি পরিষ্কার ভাষায় সতর্ক করে দিতে চাই— কটিয়াদীর মাটিতে কোনো মাদক কারবারি, গডফাদার কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। হয় মাদক ছাড়তে হবে, না হয় কটিয়াদী ছাড়তে হবে; অন্যথায় লোহার গরাদই হবে তাদের শেষ ঠিকানা। মাদকের শিকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত আমাদের এই চিরুনি অভিযান অবিরাম চলবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কটিয়াদীতে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও সহযোগী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৬:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পুলিশি অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ।

​বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরঝাকালিয়া গ্রামের (স্বনির্ভর মোড়) এলাকায় এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

আটককৃতরা হলেন— চরঝাকালিয়া গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিনের ছেলে ও এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি মো. শামীম মিয়া (৩৫) এবং একই গ্রামের মো. আরমান মিয়া (২০)।

​অভিযানকালে শীর্ষ মাদক কারবারি শামীমের বসত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র, ১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

​কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিখুঁত অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে মাদকের ভয়াবহতা রুখতে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ (শূণ্য সহনশীলতা) নীতি অবলম্বন করছে। মাদকের মূল উৎপাটন করতে সরকার কেবল প্রশাসনিক অ্যাকশনই নয়, বরং আইনি কাঠামোকেও ঢেলে সাজাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মাদকবিরোধী আইন সংশোধন করে অপরাধীদের জন্য আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই কঠোর আইনের ফলে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

​অভিযান শেষে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঙ্কার দিয়ে বলেন:
​”মাদকের মরণছোবল থেকে আমাদের যুবসমাজ ও সমাজকে রক্ষা করতে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে এবং সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদে মাদক আইন সংশোধন করে আরও কঠোর আইন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে কটিয়াদী থানা পুলিশও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমি পরিষ্কার ভাষায় সতর্ক করে দিতে চাই— কটিয়াদীর মাটিতে কোনো মাদক কারবারি, গডফাদার কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। হয় মাদক ছাড়তে হবে, না হয় কটিয়াদী ছাড়তে হবে; অন্যথায় লোহার গরাদই হবে তাদের শেষ ঠিকানা। মাদকের শিকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত আমাদের এই চিরুনি অভিযান অবিরাম চলবে।”