চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে পাবনা মেডিকেল কলেজে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ENT) বিভাগের অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে এবং দেশের চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, পাবনা মেডিকেল কলেজ শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে চিকিৎসকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু হাসপাতাল বা কর্মক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চিকিৎসকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, হুমকি ও অপপ্রচার ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে নারী চিকিৎসকদের লক্ষ্য করে সাইবার বুলিং ও অশালীনভাবে আক্রমণের ঘটনাও উদ্বেগজনক। এসব অপতৎপরতা চিকিৎসকদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে চিকিৎসকদের আস্থার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মানববন্ধনে অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দ্রুত চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
পাবনা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাবিল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলী ইবনে রুহুল ও ইয়াসিন আরাফাত, দপ্তর সম্পাদক রেদোয়ান রিয়াদ, প্রচার সম্পাদক সামিন রাফিদ আরোহ, ক্রীড়া সম্পাদক নাফিউর রহমান নিশাতসহ বিভিন্ন ব্যাচের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে দেশের চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই চিকিৎসক নির্যাতন বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অনলাইন অপপ্রচার ও সাইবার হয়রানি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন—চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তারা সোচ্চার থাকবেন। একই সঙ্গে অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার এবং চিকিৎসক সুরক্ষা আইন অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।



















