ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খালেদা জিয়ার স্মরণে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

নওগাঁর মান্দায় অনুমোদন ছাড়াই সরকারি রাস্তার ২৩৭ গাছ কাটার অভিযোগ, বিএনপি নেত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

মোঃ মমিন আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় সরকারি রাস্তার সামাজিক বনায়নের ২৩৭টি ইউক্যালিপটাস ও আমগাছ বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই বিক্রি ও কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক মহিলাদল নেত্রীর বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে গাছ বিক্রির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মণ্ডলপাড়া, খাঁপাড়া ও প্রামানিকপাড়া পর্যন্ত সরকারি রাস্তার পাশে ২০০৫ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ইউক্যালিপটাস ও আমগাছ রোপণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ফ্যামিলি ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দ্বারিয়াপুর (এফডব্লিউএডি) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা গাছগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেয়। সংস্থাটি নিজস্ব লোকজন দিয়ে ১২০টি ইউক্যালিপটাস ও ১১৭টি আমগাছ বিক্রির জন্য চিহ্নিত করে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত গাছের সংখ্যা ৪০০-এরও বেশি।

জানা গেছে, গত ৬ জুলাই প্রথম দফায় গাছ বিক্রির জন্য নিলামের আয়োজন করেন এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা মহিলাদলের সহ-সভাপতি আসমা ইসলাম। ওই নিলামে প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডলও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বনবিভাগের অনুমোদন না থাকায় গাছ ব্যবসায়ীরা নিলামে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

পরে গত ১২ জুলাই আবারও নিলামের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২১ জন গাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো কিনে নেন দ্বারিয়াপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ।

নিলাম কার্যক্রমে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম, এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান খান, দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদেরুল ইসলাম, গ্রামপুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিলামের পরদিন ১৩ জুলাই থেকে শ্রমিক দিয়ে গাছ কাটা শুরু হয়। ইতোমধ্যে অন্তত ৫০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মহিলাদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম বলেন, “দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নয়, ইউনিয়ন পরিষদের সব নীতিমালা অনুসরণ করেই গাছগুলোর টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।”

এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান বলেন, “মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। বিস্তারিত জানতে হলে অফিসে আসতে হবে।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহমেদ আলী মণ্ডল বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে বনবিভাগে কোনো আবেদনও করা হয়নি। বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়া সরকারি রাস্তার গাছ কেউ কাটতে পারে না।”

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী বলেন, “সরকারি রাস্তার গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির অনুমোদনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে কয়েকদিন আগে একটি অবগতিপত্র দেওয়া হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধভাবে গাছ কাটা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নওগাঁর মান্দায় অনুমোদন ছাড়াই সরকারি রাস্তার ২৩৭ গাছ কাটার অভিযোগ, বিএনপি নেত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১০:২২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় সরকারি রাস্তার সামাজিক বনায়নের ২৩৭টি ইউক্যালিপটাস ও আমগাছ বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই বিক্রি ও কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক মহিলাদল নেত্রীর বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে গাছ বিক্রির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মণ্ডলপাড়া, খাঁপাড়া ও প্রামানিকপাড়া পর্যন্ত সরকারি রাস্তার পাশে ২০০৫ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ইউক্যালিপটাস ও আমগাছ রোপণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ফ্যামিলি ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দ্বারিয়াপুর (এফডব্লিউএডি) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা গাছগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেয়। সংস্থাটি নিজস্ব লোকজন দিয়ে ১২০টি ইউক্যালিপটাস ও ১১৭টি আমগাছ বিক্রির জন্য চিহ্নিত করে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত গাছের সংখ্যা ৪০০-এরও বেশি।

জানা গেছে, গত ৬ জুলাই প্রথম দফায় গাছ বিক্রির জন্য নিলামের আয়োজন করেন এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা মহিলাদলের সহ-সভাপতি আসমা ইসলাম। ওই নিলামে প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডলও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বনবিভাগের অনুমোদন না থাকায় গাছ ব্যবসায়ীরা নিলামে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

পরে গত ১২ জুলাই আবারও নিলামের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২১ জন গাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো কিনে নেন দ্বারিয়াপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ।

নিলাম কার্যক্রমে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম, এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান খান, দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদেরুল ইসলাম, গ্রামপুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিলামের পরদিন ১৩ জুলাই থেকে শ্রমিক দিয়ে গাছ কাটা শুরু হয়। ইতোমধ্যে অন্তত ৫০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মহিলাদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম বলেন, “দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নয়, ইউনিয়ন পরিষদের সব নীতিমালা অনুসরণ করেই গাছগুলোর টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।”

এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান বলেন, “মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। বিস্তারিত জানতে হলে অফিসে আসতে হবে।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহমেদ আলী মণ্ডল বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে বনবিভাগে কোনো আবেদনও করা হয়নি। বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়া সরকারি রাস্তার গাছ কেউ কাটতে পারে না।”

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী বলেন, “সরকারি রাস্তার গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির অনুমোদনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে কয়েকদিন আগে একটি অবগতিপত্র দেওয়া হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধভাবে গাছ কাটা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।