পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির অভিযানে মহাদেবপুরে ভুয়া পুলিশ সেজে দস্যুতা: দুই কুখ্যাত ডাকাত গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৭:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৭২ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে মহাসড়কে দস্যুতার ঘটনায় জড়িত দুই কুখ্যাত ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ভোররাতে মহাদেবপুর থানার নওহাটা-মহাদেবপুর সড়কের একটি নির্জন এলাকায় পুলিশের প্রতিফলকযুক্ত (রিফ্লেক্টিভ) ভেস্ট পরে, প্রাইভেটকার ব্যবহার করে এবং লেজার লাইট দিয়ে সংকেত দিয়ে একদল ডাকাত একটি অটোরিকশা থামায়। পরে অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রীকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তুলে তাদের চোখ-মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। এ সময় অপর এক ডাকাত অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানোর পর দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী এলাকায় ফেলে রেখে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে মহাদেবপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে ডাকাত দলের অন্যতম হোতা আব্দুর রহমান ওরফে শাওন ওরফে স্বাধীন (পিতা- আজাদুল, গ্রাম- শিমুলবাড়ী, থানা- ধুনট, জেলা- বগুড়া)কে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রহমান দস্যুতার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা শাখা।
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১১ জুলাই ২০২৬ রাতে গাজীপুর থেকে চক্রের আরও দুই সদস্য খোকন চন্দ্র (৩৩), পিতা- মানিক চন্দ্র, গ্রাম- বড় বেলাইল হিন্দুপাড়া, জেলা- বগুড়া এবং শুভ (২৮), পিতা- মহিউদ্দিন, গ্রাম- আমবাগ জয়েরটেক, থানা- কোনাবাড়ী, জেলা- গাজীপুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে মহাদেবপুর মহাসড়কে সংঘটিত দস্যুতার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি খোকন চন্দ্র বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, দস্যু চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমন ও মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।















