ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

বীরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৭:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নুরজাহান জিম নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে। এ সময় গৃহবধূর গলায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা মো. রুহুল আমিন বীরগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিনের মেয়ে নুরজাহান জিমের সঙ্গে ২০১৭ সালে রসুলপুর এলাকার মো. রাশেদ ইসলামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, একটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়ে ও তিন বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সন্তান জন্মের পর থেকে নুরজাহান জিমের কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্বামী পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সন্তানদেরসহ তাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। অসুস্থ অবস্থায় তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং পরে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবারে ব্যস্ত থাকার সুযোগে নুরজাহান জিমের স্বামী তাকে গোপনে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে আসেন। পরে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে নিয়ে পশ্চিম দিকে একটি পুকুরের পাশে আমগাছের কাছে যান।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নুরজাহান জিমকে মারধর করার পর তার স্বামী সঙ্গে থাকা একটি রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তার গলায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় গৃহবধূর চিৎকার শুনে তার বাবা ও স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নুরজাহান জিমকে উদ্ধার করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এজাহার দায়েরের সময়ও তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে তার বাবা জানান।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে এবং লিগ্যাল এইডে করা আবেদন প্রত্যাহার না করলে নুরজাহান জিম ও তার বাবা মো. রুহুল আমিনকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মো. রুহুল আমিন তার মেয়ের জামাই মো. রাশেদ ইসলাম, মো. খিজির আলী, মো. রাবিউল ইসলাম ও মো. রিয়াজুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও ২–৩ জনের বিরুদ্ধে বীরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. রাশেদ ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বীরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নুরজাহান জিম নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে। এ সময় গৃহবধূর গলায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা মো. রুহুল আমিন বীরগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিনের মেয়ে নুরজাহান জিমের সঙ্গে ২০১৭ সালে রসুলপুর এলাকার মো. রাশেদ ইসলামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, একটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়ে ও তিন বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সন্তান জন্মের পর থেকে নুরজাহান জিমের কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্বামী পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সন্তানদেরসহ তাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। অসুস্থ অবস্থায় তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং পরে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবারে ব্যস্ত থাকার সুযোগে নুরজাহান জিমের স্বামী তাকে গোপনে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে আসেন। পরে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে নিয়ে পশ্চিম দিকে একটি পুকুরের পাশে আমগাছের কাছে যান।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নুরজাহান জিমকে মারধর করার পর তার স্বামী সঙ্গে থাকা একটি রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তার গলায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় গৃহবধূর চিৎকার শুনে তার বাবা ও স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নুরজাহান জিমকে উদ্ধার করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এজাহার দায়েরের সময়ও তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে তার বাবা জানান।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে এবং লিগ্যাল এইডে করা আবেদন প্রত্যাহার না করলে নুরজাহান জিম ও তার বাবা মো. রুহুল আমিনকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মো. রুহুল আমিন তার মেয়ের জামাই মো. রাশেদ ইসলাম, মো. খিজির আলী, মো. রাবিউল ইসলাম ও মো. রিয়াজুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও ২–৩ জনের বিরুদ্ধে বীরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. রাশেদ ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”